সোমবার, জুন ১, ২০২০

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

আনাচে কানাচে ‘আম্পানের’ ক্ষত

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে এড়ানো যায়নি কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি। প্রবল জোয়ারে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে সুন্দরবনের আশপাশসহ উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল। লোকালয়ে প্রবেশ করেছে লোনাপানি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এক কোটির বেশি গ্রাহক। ঝড়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, আম্পানের প্রভাবে ঝড় ও জোয়ারে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যশোরে গাছ চাপা পড়ে মা-মেয়েসহ তিন নারী নিহত হয়েছেন। পটুয়াখালীতে ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে ও মানুষকে সচেতন করতে গিয়ে নৌকাডুবিতে দুই জন মারা গেছেন। ভোলায় গাছচাপা পড়ে ও ট্রলারডুবে দুই জন মারা গেছেন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়াতে দেয়াল চাপা পড়ে মারা গেছেন আরেক ব্যক্তি। আর সাতক্ষীরা সদরে আম কুড়াতে গিয়ে গাছ চাপায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। চাঁদপুরে গাছ চাপা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা

কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া উপজেলাসহ খুলনার আনাচে কানাচে সব স্থানেই ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডব চিহ্ন রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ, মাছের ঘের ভেসে যাওয়া, ঘর বাড়ি ভেঙে ও বিধ্বস্ত হওয়ার চিহ্ন এই অঞ্চলের সবখানে। খুলনা শহরেরও আম্পানের আঘাতে ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে।
বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় খুলনার উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে আম্পান। রাতভর চলে তাণ্ডব। ঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উপকূলীয় এলাকা। কয়রা উপজেলার ১১টি জায়গায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশি, দক্ষিণ বেদকাশি ও মহারাজপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছ পালা, কাঁচা ঘর-বাড়ি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ঘূর্

পাইকগাছা উপজেলার লস্করের তহসিল অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খেয়াঘাট সংলগ্ন স্লুইচ গেটের ওপর দিয়ে বাঁধ ছাপিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে এলাকা নিমজ্জিত হয়। ৪ নম্বর দেলুটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলার জালিয়াখালী চর এলাকার ঘের পানিতে ভেসে গেছে। বাড়ি-ঘর ভেঙে গেছে। দাকোপে ঘের ভেসে গেছে। গাছপালা ভেঙে পড়েছে। আমের বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কয়রার স্বেচ্ছাসেবক মো. আবু সাঈদ খান বলেন, কয়রায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের আংটিহারা এলাকার নিরাঞ্জন ও মাজিদ গাজীর বাড়ির সামনে, ছোট আংটিহারা এলাকার বাকের গাজীর বাড়ির সামনে, গোলখালী গ্রামের তসলিম মোল্লার বাড়ির সামনে, চরামুখা খেয়াঘাট এলাকা, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাজীপাড়া ও কাশিরহাট খোলা, কয়রা সদর ইউনিয়নের হরিণখোলা এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে। আংটিহরা স্লুইচ গেটের পুর্ব ও পশ্চিম পাশের ১ কিলোমিটার এলাকার বাধ ভেঙে গেছে।

খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে জেলায় এখন পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে অনেক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হওযার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কয়রায় বেড়িবাঁধ ভেঙেছে। তালিকা তৈরির কাজ চলছে। বিকাল নাগাদ ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান জানা যাবে।‘

কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাষ্টার হুমায়ুন কবির বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পনের ফলে নদীর পানির চাপে নাজুক অবস্থায় থাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু বলেন, কপোতাক্ষ নদীর পানি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় হামকুড়ুর ও দশহালিয়া গ্রামে মজিবার মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন পাউবোর বেড়িবাঁধ উপচে ও বাঁধ ভেঙে লবণ পানিতে এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুর কুমার সাহা বলেন, আম্পানের প্রভাবে কয়রার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট বৃদ্ধি পায়। বাতাসের তীব্রতাও ছিল বেশি। ফলে বেড়িবাঁধ উপচে ও ১১টি স্থানে বাঁধ ভেঙে এলাকায় লবণ পানি প্রবেশ করেছে।

খুলনা ৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বিভিন্ন ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ ভেঙে ১৫টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত এ সব ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ আটকানোর প্রচেষ্টা চালানো হবে।

সাতক্ষীরা

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’। পুরো জেলা যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জেলার ২২টি পয়েন্টে ভেঙেছে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। শ্যামনগর-আশাশুনির অসংখ্য স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছপালা উপড়ে পড়েছে। সবজি, ধান ও আমসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

আশাশুনি, প্রতাপনগর- বন্যতলা, হিজলা, কাটলা এলাকায় বাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা প্লাবিত। কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের চিংড়ী গ্রামের পাউবো’র বাঁধ তলিয়ে গেছে।

সাতক্ষীরারর শ্যামনগর উপজেলার বুডিগোয়ালিনি মাসুদমোড়, পদ্মপুকুর, গোলাখালী, আশাশুনি উপজেলার সদর, প্রতাপনগর-চাকলা, বন্যতলা, হিজলা, কাটলাসহ ১১টি এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা প্লাবিত।

এদিকে ঝড়েরর তাণ্ডবে গাছ চাপা পড়ে শহরের বাঁকাল এলাকায় শামসুর রহমান (৬০) ও কামালনগর সঙ্গীতা মোড়ে করিমন নেছা (৪০) নামে দু’জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় ৭৮টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার সব স্থানেই ঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে। জেলার সাতটি ইউনিয়নে ২২টি পয়েন্টে উপকূল রক্ষাবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, কাশিমাড়ি, বুড়িগোয়ালিনী এবং আশাশুনি উপজেলার খাজরা, প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম আবুজার গিফারী বলেন, গাবুরা, পদ্মপুকুর, কাশিমাড়ি, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের অন্তত আটটি পয়েন্টে কয়েকশত মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা জানান, তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙন কবলিত হাজরাখালি এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
সাতক্ষীরায় অনেক জায়গায় বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল
সাতক্ষীরায় অনেক জায়গায় বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান পর্যবেক্ষক জুলফিকার আলী রিপন জানান, বুধবার (২০ মে) রাত ৮টার দিকে ১৪৮ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এরআগে বাতাসের গতিবেগ ছিল ১২০কিলোমিটার। টানা চারঘণ্টা একই গতিতে দাপট দেখিয়ে সবকিছু ভেঙে তছনছ করে যায় আম্পান।

মোংলা

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বাগেরহাটের মোংলার পশুর নদীতে একটি ট্যুরিস্ট লঞ্চ ডুবে গেছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাসহ কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্লাবিত হয়েছে চিংড়ি ঘেরও। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে এই এলাকায় ঝড়ো হাওয়া এবং গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি দেখা গেছে। এদিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে মোংলা বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকতে দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

বন্দরের পশুর চ্যানেলের তীরবর্তী কানাইনগর, কলাতলা, সুন্দরতলাসহ বিভিন্ন জায়গার দুর্বল বেড়িবাঁধের কয়েকটি জায়গা ধসে গেছে। তবে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের কথা বলা হলেও মোংলা সমুদ্র বন্দরের পশুর চ্যানেলসহ সুন্দরবনের নদ-নদীর পানির উচ্চতা অনেকটা স্বাভাবিকই ছিল। ফলে মোংলাসহ আশপাশের এলাকায় জলোচ্ছ্বাস প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। যদিও বেড়িবাঁধ ভেঙে কিংবা উপচে জোয়ারের যে পানি বাঁধের ভেতরে প্রবেশ করেছিল তা আবার ভাটার সময়ে নেমে গেছে। পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার মোড়ে মোড়ে দুর্গতদের মাঝে রান্না খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন জানান, আম্পানের তাণ্ডবে পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী স্টেশন, লাউডোব, দুবলা ও মরাপশুর ক্যাম্পের জেটি, ঘরবাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা এবং বনের গাছপালার বেশ ক্ষতি হয়েছে। তবে এতে কোনও জেলে নৌকা ডুবি, জেলে নিখোঁজ কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাহাত মান্নান বলেন, ‘সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেওয়া লোকজনের মাঝে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালেও খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তার আগে বুধবার দিনে এবং রাতে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যায় ৪৮ হাজার মানুষ। ঝড় কিছুটা কমে যাওয়ায় তারা এখন নিজ বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। ঝড়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের তালিকা পাওয়ার পর জানানো হবে।’

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার ফখর উদ্দিন বলেন, ‘যেহেতু সিগনাল নামিয়ে আনা হয়েছে, তাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ বন্দরে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য বোঝাই-খালাসের কাজ শুরু করা হবে।’

নোয়াখালী

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে বেড়িবাঁধ, কাঁচাঘর, ফসলী জমি ও মাছের ঘেরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, সুখচর, নলচিরা, চরঈশ্বর, তমরদ্দি ও নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ জোয়ারের পানিতে ভেঙে গেছে। দমকা ও ঝড়ো হাওয়ায় ৪০টি কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং দুই শতাধিক কাঁচা ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, ৫০ একর জমির সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। জোয়ারের পানিতে নিঝুম দ্বীপের আটটি মাছের ঘের ভেসে গেছে।

তিনি আরও জানান, উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, নলচিরা ইউনিয়নের ৩ কিলোমিটার, চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৩ কিলোমিটার, তমরদ্দি ইউনিয়নের ২ কিলোমিটার ও চানন্দী ইউনিয়নের ৩ কিলোমিটারসহ প্রায় ১৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম ইবনুল হাসান ইভেন বলেন, সুবর্ণচরে বিশটি কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ৬৫০ হেক্টর জমির সবজি ও ফসলী জমি পানিতে ডুবে গেছে।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা অলি উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনও রিপোর্ট হাতে এসে পৌঁছেনি।

জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাব শেষ হওয়ায় সকালে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ তাদের নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরে গেছেন। হাতিয়ায় কিছু কিছু জায়গায় বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে এবং ভাটার সময় নেমে যায়। এর আগে, উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় বত্রিশ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আগাম প্রস্তুতি থাকায় জেলায় কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

রংপুর

বুধবার মধ্যরাত থেকে রংপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টি হচ্ছে। ঝড়ের কারণে শত শত গাছপালা উপড়ে গেছে, কয়েকশ কাঁচাবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘর চাপা পড়ে আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন। এ ছাড়াও ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় রংপুর নগরীসহ জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, বুধবার রাত ১টা থেকে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয় এই অঞ্চলে। বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। বেলা ১১টা পর্যন্ত ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে আম্পানের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুত সংযোগ রাত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। রংপুর বিদ্যুৎ বিভাগের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত সাহেব আলী নামে এক কর্মচারী জানান, ঝড় শুরু হওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঝড় কমলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বিচ্ছিন্ন হওয়া বিদ্যুতের তার ও খুঁটি মেরামত করার পর বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। তবে কখন সংযোগ দেওয়া হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গাছ পালা উপড়ে গেছে। এ ছাড়াও বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা উপজেলায় কয়েক শতাধিক গাছপালা উপড়ে গেছে। শত শত কাঁচাঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

এদিকে মোবাইল নেটওর্য়াক একেবারে কাজ করছে না। ফলে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ময়মনসিংহ শহরের বেশিরভাগ এলাকা
বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ময়মনসিংহ শহরের বেশিরভাগ এলাকা

ময়মনসিংহ

সুপার সাইক্লোন আম্পানের প্রভাবে ময়মনসিংহে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা পর্যন্ত একটানা মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ময়মনসিংহ মহানগরীর হাট-বাজার বাসাবাড়ি রাস্তাঘাট সব তলিয়ে গেছে। পানির কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় সর্বোচ্চ ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ময়মনসিংহ শহরের বেশিরভাগ এলাকা
বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ময়মনসিংহ শহরের বেশিরভাগ এলাকা

এই তথ্য নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, গত রাত থেকেই হালকা দমকা হাওয়ার সাথে মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তবে আপনের প্রভাবে জেলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি জানান তিনি।

বরিশাল

বরিশালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে এবার ব্যাপক কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে বেশ কিছু কাঁচা ঘর-বাড়ি, ফসল, বিদ্যুৎ ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।
ঘূর্ণিঝড়ে বরিশাল দু-একটি জায়গায় বিদ্যুতের পোস্ট ভেঙে কয়েকঘন্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ওইসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। ৯৫ ভাগ জায়গায় বিদ্যুত সংযোগ স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, বিদ্যুৎ, কাঁচা ঘর-বাড়ি, বেরিবাধ, মৎস্য ও কৃষি বিভাগের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার কথা জানান জেলা প্রশাসক।
বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে গাছ চাপা পড়ে দুই জন, নৌকাডুবিতে দুই জন এবং দেয়াল চাপা পড়ে একজন মারা যান।
বিভাগে ১৫ লাখ ৪৯ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিল। এছাড়া তিন লাখ ৩০ হাজার ৮৪টি গবাদি পশু আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। তবে বিভাগে মারাত্মক কোনও ক্ষতি হয়নি বলে জানান বিভাগীয় কমিশনার।

একই রকম সংবাদ সমূহ

‘করোনা ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা নয়’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার আয়োজন করাবিস্তারিত পড়ুন

‘লকডাউন’ শিথিলের দিন সর্বোচ্চ ৪০ জনের মৃত্যু

বিশ্বে যখন মৃত্যু মিছিল তখন করোনায় বাংলাদেশেও দিনকে দিন বাড়ছেবিস্তারিত পড়ুন

করোনা ও আম্পান মোকাবেলায় যশোর সেনানিবাস

করোনার ও আম্ফানের ভয়াল থাবায় যখন বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের জীবনবিস্তারিত পড়ুন

  • নতুন বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ‘স্বাভাবিক’ কর্মকাণ্ডে ফিরছে দেশ
  • বাস চলবে সোমবার থেকে
  • শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ধাপে ধাপে খোলা হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী
  • এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, যশোর বোর্ডে পাসের হার ৮৭.৩১
  • বাইরে চলাচলে মাস্ক না পড়লে আইনি ব্যবস্থা
  • করোনা ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে যশোর সেনানিবাস
  • ৩০মে: দেশে ১৭৬৪ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ২৮
  • বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করল জাতিসংঘ
  • বাড়িতে বসে করোনার চিকিৎসা: মনে রাখবেন যে ৬টি বিষয়
  • করোনা নয়, আতঙ্কই এখন বড় ভাইরাস!
  • দৃশ্যমান হলো সাড়ে ৪ কিলোমিটার পদ্মা সেতু
  • এসএসসি’র ফল প্রকাশ রোববার