সোমবার, জুন ১, ২০২০

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

একঘইরা’র আপডেট ভার্সান লকডাউন

“আজ থেকে মইজ্জ্যার বাড়িতে কেউ যাবে না। মইজ্জ্যাও কারো বাড়িতে, বাজারে যাইতে পারবে না। এটাই ওর পাপের শাস্তি”-দরাজ গলায় হুকুম জারি করলো মাতবর সাহেব। এটাকেই আগের দিনে গ্রামের ভাষায় ‘একঘইরা’ বলে।

করোনার সুবাদে সেই অজো গ্রাম থেকে ‘একঘইরা’ আজ শহরে উঠে এসে চরিত্র পাল্টায় হইছে ‘লকডাউন’।

এর অর্থ অবরুদ্ধ, গ্রামের ওই ‘একঘইরা’ শব্দের অর্থও অবরুদ্ধ। পার্থক্য কেবল মইজ্জ্যাকে কেউ সাহায্য করতো না, লকডাউনে থাকা মানুষগুলোকে সাহায্য করা হয়।

যদিও সেই সাহায্যের বেশির ভাগই ফেসবুক প্রদর্শন মাত্র। এখনো প্রকৃত অভাবে থাকা মানুষ ঘরবন্দী জীবনে ডুকরে মরছে। কারো কাছে চাইতে পারছে না।

সে যাই হোক, আমি কথা বলবো অতীতের একঘইরা আর হালের লকডাউন প্রসঙ্গে। গ্রামের ওই মইজ্জ্যার ‘একঘইরা’ অবস্থাকে আমি মোটেও সমর্থন করি নি, এখনো করি না। কারণ সেটা ছিল গ্রামের অশিক্ষিত মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমাজপতিদের আধিপত্য বিস্তারের অমানবিক আচরণ। ছিল কুসংস্কার, কারণ মইজ্জ্যার অপরাধের শাস্তি তার ’পরিবার পেতে পারে না।

প্রসঙ্গ তা নয়, বিষয়টা হলো ওই একঘইরা’র গুরত্ব ছিল। ধর্মীয় কুসংস্কারের ভয়ে হোক, আর সমাজপতিতের ভয়ে হোক একঘইরা মইজ্জ্যার বাড়িতে কিন্তু গ্রামের কেউ যেত না। এমনকি তার ছোট্ট শিশুর সাথেও কেউ মিশতো না। মইজ্জ্যাও কারো বাড়ি যেতে পারতো না। বাজারের মুদি দোকান তার কাছে কোনো জিনিষ বিক্রি করতো না। সেই অবরোধ ছিল প্রকৃত অর্থেই অবরোধ।

আর একঘইরার চরিত্র পাল্টানো নতুন নামের লকডাউনের অবস্থা বরই কাহিল। আইন করে, পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী দিয়েও মানানো যাচ্ছে না। এমনকি বাড়িতে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিয়েও কাজ হচ্ছে না। তার মানে মানুষ শিক্ষিত হয়েছে কিন্তু সভ্য হয় নি।

এমনকি মইজ্জ্যার সমাজের মতো অসভ্য মানুষদের চেয়েও খারাপ অবস্থা। বিকাল হলেই পাড়ার দোকানো চা খেতেই হবে, বিনা কারণে আড্ডা না দিলে কী হয়!

অন্যদিকে লকডাউন যারা করাচ্ছে তাদের মধ্যেও দ্বিচারিতার মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে বলা হচ্ছে ঘরে থাকুন, অন্যদিকে প্রয়োজনের কথা বলে সীমিতভাবে সবই খুলে দেওয়া হচ্ছে।

পঙ্গপালের মতোই ঢাকায় এসেছে সেলাই দাদা-দিদিরা, হুজুরের জানাজায় লাখো ভক্ত, খোলা হচ্ছে দোকানপাট, শপিংমল, রেল ও গণপরিবহণ। অথচ মাত্র ১ মাস যদি কঠোরভাবে লকডাউন করা হতো তাহলেই করোনার মহাবিপদ থেকে বাঁচা যেতো। যেমনটা করছে ভিয়েতনাম, লাওস এবং পাশের দেশ ভারতের কেরালা।
আমি বিশ্বাস করিনা একমাস কঠোরভাবে মানুষকে ঘরে রাখলে মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। গরিব মানুষ আছে, কিন্তু কারা তা জানার উপায়ও আছে। মানুষকে নানাভাবে সাহায্য করে ঘরে রাখারও উপায় আছে। কারণ আমাদের দেশের মানবতার সেবক পুলিশ, র‌্যাব, আর্মি, আনসার ও গ্রাম পুলিশ আছে। এদের সাথে আছে আমার মতো অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী। যারা নাকি মানুষের জন্য রাজনীতি করে।

দেশের সরকার, বিরোধীদল এবং বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্র থেকে পাড়া কমিটি আছে। একই অবস্থা ওইসব দলের অসংখ্য অঙ্গ সংগঠনের। প্রত্যেক কমিটিতে কম করে হলেও ৫০ জন আছে। এছাড়া আছে সৃষ্টির সেবাকারী ইসলামী রাজনৈতিক দল কিংবা ইসলাম রক্ষা কমিটি। এদেরও অনেক লোক আছে। আছে বাংলাদেশে মার্কস, লেনিন, মাওসেতুং সহ বহু বিশ্বমানবতার মুক্তির দূতের ভক্ত বামপন্থী কর্মী। সবাই কিন্তু মানবমুক্তির জয়গান গায়। তাহলে মানুষের এই সঙ্কটে পাশে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। আবার এরা সকলেই কিন্তু জানেন, গ্রামে বা শহরে কার বাড়িতে কী পরিমাণ সমস্যা। কাকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে হবে, কাকে পরিশ্রম করে সাহায্য করতে হবে। সবার সমন্বয়ে যদি পাড়া কমিটি করা যায়, যারা নাকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সমস্যার কথা শুনে সাহায্য করবে। কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না। তাহলেই লকডাউনে থেকে করোনাকে রোখা সম্ভব।

অন্যদিকে রেডক্রিসেন্ট, স্কাউট, স্বেচ্ছাসেবী বহু সংগঠন আছে। এদেরকেও এই দুঃসময়ে কাজে লাগানো যেতে পারে। সবমিলিয়ে যদি একটা প্রকৃত লকডাউন করা যেত তাহলে গেরাম থেকে উঠে আসা ওই একঘইরাই বাংলাদেশের মানুষকে বাঁচাতে পারতো। সেটা করা যায় নি। ফলে সামনে কোন মহাবিপদ অপেক্ষা করছে তা সময়ই বলে দিবে! সবাই অপেক্ষায় থাকুন।

লেখকঃ মুক্তার হোসেন নাহিদ,সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী।

একই রকম সংবাদ সমূহ

স্বরচিত অর্ধশতক গানের রচয়িতা ও সংগীতশিল্পী শফি সরকারের উপাখ্যান

এই পৃথিবীতে যুগেযুগেই কিছু মানুষের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আছে কোটিবিস্তারিত পড়ুন

পশ্চিম গগনে বাঁকা চাঁদ দেখলেই পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঈদ

সমগ্র বিশ্বের সকল মুসলমান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসব হচ্ছেবিস্তারিত পড়ুন

কবিতা “ক্ষণজন্মা কবি”

বাংলা সাহিত্যে সুকান্ত হলো এক ক্ষণজন্মা কবি গণমূখী কবিতায় দেখতেবিস্তারিত পড়ুন

  • ফেসবুক মেসেঞ্জারে চ্যাটের মাধ্যমে সুখের প্রদীপটাকে নিভাতে চায়
  • প্রিয় শহর নিয়ে আমার একটি গল্প আছে : ইব্রাহিম খলিল
  • মা দিবস!
  • মানবতার ধর্মে জ্ঞানের পরিধি কখনই স্রষ্টাকে অতিক্রম যোগ্য নয়
  • দেবহাটাবাসীর স্বপ্ন সারথি জি এম স্পর্শ
  • কলারোয়ার চন্দনপুরে তরুণদের উদ্যোগে চালু হলো বন্ধু বাজার
  • পরিকল্পিতভাবেই কি সাতক্ষীরাকে করোনা সংক্রামিত জেলা বানানো হলো?
  • Rapid IgG/M test এবং দেশপ্রেমিক সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমাদের দায়িত্ব
  • করোনা: এখনই সময় মানবতা প্রদর্শনের
  • মফস্বল সংবাদকর্মীদের প্রণোদনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই
  • রোজার গুরুত্ব ফজিলত নিয়ে কোরআন ও হাদিসের আলোকে কিছু কথা