রবিবার, মে ৩১, ২০২০

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

‘একটি মানবিক মহাসমাজ গড়ে তুলি’ : শেখ মফিজুর রহমান, জেলা ও দায়রা জজ, সাতক্ষীরা

‘মানবিক’ এবং ‘মহাসমাজ’ শব্দের সাথে আমরা পৃথকভাবে পরিচিত হলেও ‘মানবিক মহাসমাজ’ শব্দযুগলের সাথে ততোটা পরিচিত নই। আধুনিক যুগে আমরা ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ বলতে যা বুঝি মানবিক মহাসমাজ তার থেকে আলাদা ও ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত। বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের প্রস্তাবনায় যেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা সেখানে মানবিক মহাসমাজ বা মানবিক বিশ্বসমাজ তার থেকেও অগ্রসর একটি চিন্তা চেতনাকে প্রতিফলিত করে। গরীর মানুষকে আইনি সহায়তা দিতে বা তাদের বিচারে প্রবেশাধিকার নিয়ে কাজ করতে যেয়ে মানবিক মহাসমাজ Term বা শব্দটি আমি মন থেকে উপলব্ধি করেছি বিধায় সুযোগ এসেছে এ বিষয়ে দু’টি কথা উল্লেখ করার। মানবিক মহাসমাজ শব্দযুগলের এর আগে কেউ একসাথে ব্যবহার করেছেন – আমি শুনিনি। আমি এ লেখায় চেষ্টা করব এ বিষয়ে একটা প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার জন্য।

বর্তমান যুগকে নিয়ে আমরা অনেক গর্ব ও অহংকার করি। জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে আমাদের উন্নয়ন ধাবমান কিন্তু বাড়ছে নৃশংসতা, লোভ, ঘৃণা। কমছে পারস্পরিক মমত্ববোধ ও সম্প্রীতি। আমাদের সত্যিকারের অর্জন যত বেশি তেমনি বিসর্জনও নেহাত কম নয়।

কবি হাসান হাফিজুর রহমান বলেছিলেন ‘এ যুগে আমাদের অর্জন যত বেশি হোক না কেন, এখন আর মানুষের প্রতি মানুষের আস্থা নেই’। আর স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, ‘মানুষ যদি মানুষের উপর আস্থা হারায় তাহলে নির্ভর করার কিছু থাকে না ‘। এসব দেখে ম্যাক্সিম গোর্কি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘হায়রে মানুষ! তুমি কি বিচিত্র! তুমি পাখির মতো আকাশে উড়তে শিখেছো কিন্তু মানুষের মর্যাদা নিয়ে বাস করার যোগ্যতা তুমি অর্জন করলে না! অর্থাৎ এযুগের মূল সমস্যা অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত নয়, মূল্যবোধ সংক্রান্ত। ১০ লক্ষ বছর আগে মানুষ পশুর মতো কাঁচা মাংস খেত, অন্যের উপর দৌরাত্ম করতো। ব্রিটিশ দার্শনিক জন হবস এ বিষয়ে বলেছেন, ‘ঐ সময়ে জীবন ছিল বিচ্ছিন্ন। সামাজিক বন্ধন, পরিবার, রাষ্ট্র – এই ধারণাগুলো ছিল না। মানুষ বিশ্বাস করতো, প্রকৃতির যা কিছু আছে সব আমার! তার একমাত্র প্রবৃত্তি ছিল নিজের অবস্থানটা কি করে পোক্ত করা যায়’।

সেকালের প্রেক্ষাপটে এটা হয়তো যুক্তিযুক্ত। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে যখন সব বাধা পেরিয়ে আমরা মঙ্গল গ্রহে সুপেয় পানি খুঁজছি – সেই সময় তুরাগ থেকে বুড়িগঙ্গা, রূপসা থেকে পাথুরিয়া – সবখানে দূষণ। ওষুধ খেতেও বড্ড ভয় লাগে। মানুষের এ অবক্ষয়ের কারণ কী? বিপুল বিত্তের মধ্যে থেকেও চিত্তের এ মহাশূন্যতা কেন? এখন নৈতিকতার চেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে পাশবিক প্রবৃত্তি। মানুষ যুদ্ধে লিপ্ত নিজের সাথে, সঙ্গীদের সাথে এমনকি পরিবেশের সাথেও। শিক্ষাই জৈবিক ব্যক্তিকে নৈতিক মানুষে রূপান্তরিত করে। সত্যিকারের শিক্ষার মধ্যে চাই আদর্শিক মূল্যবোধ। সত্যের জন্য সবকিছুকে ত্যাগ করা যায়, কিন্তু কোন কিছুর জন্য সত্যকে ত্যাগ করা যায় না। আমি বিশ্বাস করি, সত্য, সুন্দর,কল্যাণ ও আনন্দের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ কখনো মন্দ কাজ করতে পারে না। পবিত্র বাইবেলে আছে, ‘ঈশ্বরের রাজত্ব বাইরে নয়! তোমার মধ্যেই তা আছে, সেই রাজ্যে প্রবেশ করার উপায় হলো নিজেকে ও পরিবেশকে পরিবর্তন করার নিষ্ঠা ও সংকল্প’। এ কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণায় লেখা ছিল ‘এই প্রতিষ্ঠান শুধু জ্ঞান বিতরণের জন্য স্থাপন করা হচ্ছে না। নেতৃত্বগুণ সম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ মানুষ গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।

বর্তমানে আমরা কিছু তরুণকে ধর্মীয় উন্মাদনা ও সহিংসতার দিকে ঝুঁকতে দেখেছি – এটা কিন্তু ঘটেছে প্রকৃত জ্ঞানের অভাবেই। এক ধরণের বিভ্রান্তি ও আসক্তির বৃত্তে ওরা আটকে গেছে। ধর্মের দুটি দিক আছে। নৈতিক ও আনুষ্ঠানিক যা বিভিন্ন ধর্মাচার পালনের আয়োজনেই দেখা যায়। কিন্তু নৈতিক শিক্ষাটাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ যা মানুষকে ভালোবাসতে বলে, নিজের সদগুণগুলো বিকশিত করতে বলে, অন্যের কল্যাণে কাজ করতে বলে, কারো প্রতি অন্যায় না করার আহবান জানায়। এ সবের তেমন অনুশীলন দেখা যায় না বলে অনৈতিকতার ক্রমশঃ চর্চা বাড়ছে।

পৃথিবীব্যাপী সংঘাতের মূল কারণ হচ্ছে অন্ধত্ব ও অজ্ঞতা। পারস্পরিক অসহিষ্ণুতা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অন্যের প্রতি সম্মানবোধের অভাব। তবে আমি হতাশাবাদী নই। আশাবাদী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। এই দেশ বারো ভুঁইয়ার দেশ, যারা মোঘল সিংহাসন কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ব্রিটিশ আমল থেকে দফায় দফায় আন্দোলন করে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শেষে বিজয়ী হয়ে আমরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি। সেই প্রেরণা এখনো আমাদের রক্তের মধ্যে মিশে আছে। নিশ্চয়ই আমরা বিশ্বে একটি মানবিক মহাসমাজ গড়ার নেতৃত্ব দিতে পারব। কারণ কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেন ১৪৯২ সালে। ইউরোপে রেঁনেসা শুরু হয় ১৭শ খ্রিস্টাব্দে। কিন্তু তার বহু আগে বাংলার কবি চন্ডিদাস গেয়েছিলেন ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’।
মানবিকতার জয়গান গাওয়া হয়েছে এদেশের সর্বত্রই।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম গেয়েছেন :’গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান’।

আমাদের জীবন আসলে মহিমান্বিত হয়ে ওঠে আমাদের শ্রমের মধ্য দিয়ে, আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে, আমাদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। আসুন আমরা সবাই বিশ্বাস করি – ‘He who liveth, he who believeth, shall never die’.

আমাদের প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও নিয়মানুবর্তিতা। তাহলেই আমরা পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব। এজন্য আমাদের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা বা টিমওয়ার্ক জরুরী। আর আমাদের দেশে কোন কাজ হয় না ‘আমিত্ব’ ভাবের কারণে। তাই বিবেচনা করতে হবে- আমি সবার জন্য। স্বামী বিবেকানন্দের ইচ্ছা ছিল তিনি হিমালয়ে বসে ধ্যান করে তাঁর শরীর ত্যাগ করবেন। শুনে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস ধমক দিয়ে বলেছিলেন- ‘তুই নিজের মুক্তি চাস শুধু, এতো স্বার্থপরতা!’ আসলে আর্তের সেবা করতে পারাই প্রকৃত মানব ধর্ম।

কবির ভাষায়-
‘যত বর্ষ বেঁচে আছি,
তত বর্ষ মরে গেছি,
মরিতেছি প্রতি পলে পকে
জীবন্ত মরণ মোরা, মরণের ঘরে থাকি
জানিনা মরণ কারে বলে।’

পবিত্র কোরআন শরীফের সূরা আল-ইমরান আয়াত :১৮৫ তে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন, ‘প্রতিটি প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে’।
আমাদের সবাইকেই একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। মরতে যখন হবেই তখন অমরত্বের আলোয় আলোকিত হওয়ার জন্য চলুন সবাই মিলে দেশের সেবা করি, দেশকে ভালোবাসি, মানুষকে ধ্যান-জ্ঞান মনে করি। গোটা পৃথিবীব্যাপী একটি মানবিক মহাসমাজ গড়ে তুলি।

একই রকম সংবাদ সমূহ

সাতক্ষীরায় ৮১৭ বস্তা সরকারি গম কালোবাজারে বিক্রি, দুদকের মামলা

ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ৮১৭ বস্তা গমবিস্তারিত পড়ুন

জুন পর্যন্ত দিতে হবে না বিদ্যুৎ বিলের বিলম্ব ফি

আগামী জুন পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিলের বিলম্ব ফি দিতে হবে নাবিস্তারিত পড়ুন

পত্রদূত’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কন্যা নুশরিকা অদ্রি জিপিএ-৫ পেয়েছে

নুশরিকা অদ্রি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে সাতক্ষীরা সরকারী উচ্চবিস্তারিত পড়ুন

  • এসএসসিতে যশোর বোর্ডের শীর্ষে সাতক্ষীরা, দ্বিতীয় খুলনা
  • সাতক্ষীরায় আরও তিনজনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত
  • আশাশুনিতে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ বেঁড়িবাধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছে সেনা বাহিনী
  • আশাশুনির বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিভিল সার্জন
  • সাতক্ষীরায় র‌্যাবের অভিযানে ২৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১
  • করোনার উপসর্গ নিয়ে তালায় এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু
  • সাতক্ষীরায় ৮৯৫টি মসজিদে ৫হাজার টাকা হারে অনুদানের চেক বিতরণ
  • সাতক্ষীরা জেলায় ১লাখ বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন
  • করোনা: সাতক্ষীরা জেলার খেলোয়াড়দের আর্থিক সহযোগিতা
  • কালিগঞ্জে ৮১৭ বস্তা কাবিখা’র গম উদ্ধার, আটক-৩
  • সাতক্ষীরায় করোনার কারণে বেড়িবাধ নির্মাণের দুটি প্রকল্প থেমে আছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
  • সাতক্ষীরায় আরো ৪ জন করোনা শনাক্ত, এ পর্যন্ত ৪১জন, সুস্থ ৩