শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

কলম থেকে কলাম..

করোনাভাইরাস: এখনই প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা

বর্তমান বিশ্বের একটি আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। বিশ্বের উন্নত দেশের তালিকায় যে সকল আছে তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যা প্রতি মুহুর্তে হু হু করে বাড়ছে। চীন, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, স্পেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া বাদ যাচ্ছে না কোন দেশ। করোনাকে মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সারাবিশ্বে দক্ষ ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়তে চীনের অবস্থান আজ সুদৃঢ়। ফলে চীন উন্নত বিশ্বের কাতারে শক্তিমান প্রত্যয়ী ভূখন্ড যুক্তরাস্ট্র, চীন, সুইজারল্যান্ড। আবার এই চীনেই ঘটেছে এক দুঃসহ ব্যাধির মরণ কামড়। করোনা ভাইরাস নামে চিহ্নিত এই ব্যাধিটির প্রথম প্রাদুর্ভাব ঘটে হুবেই রাজ্যের উহান শহরে। কিন্তু চীন থেকে ছড়ালেও তারা অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও বহু জীবনের বিনিময়ে প্রাণঘাতী রোগকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। ভারত জনতার কারফিউ ঘোষণা করেছে, সীমান্ত সীলগালা করেছে অনেক দেশ। উন্নত বিশ^ও নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। ২০ মার্চ সকাল পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজারেও বেশি। বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম ঘনজনবহুল দেশ। এখানেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। হাছি-কাশির মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইসার ব্যপক হারে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। সরকার করোনা মোকাবেলায় ইতোমধ্যে নানামূখি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সেনাবাহিনীর তত্ববধানে কোয়ারিন্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। লক ডাউন করা হয়েছে মাদারীপুরের শিবপুর উপজেলা। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আরো কিছু সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে করোনা মোকাবেলা করা আরো দ্রুত সম্ভব হবে।

প্রথমত, করোনা আমাদের দেশে প্রথম ছড়িয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রবাসী ভাইদের দ্বারা। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪৯ কোটি ৮৪ লাখ (১২.৫০ বিলিয়ন) ডলার। আমাদের দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান কম নয়। তাই তাদের সুরক্ষা করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে যারা বিদেশ থেকে আসবে তাদের সকলকে বাড়ি না পাঠিয়ে সরাসরি সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে কোয়ারিন্টিনে রাখতে হবে। সেখানে তাদের নিয়মিত খাওয়া, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে অস্থায়ী হোটেল স্থাপন করতে হবে। কোন অবস্থায় তাদের ১৫ দিনের পূর্বে বাহিরে যেতে দেয়া যাবে না।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ আবেগের দেশ। ৪-৫ বছর পরে কোন প্রবাসী দেশে আসলে স্বাভাবিক ভাবেই তারা পরিবারের সাথে মিশতে চাইবে। পরিবারও সমান আগ্রহ প্রকাশ করবে। পরিবার ও নিজের স্বার্থে আরো ১৫ দিন তাদের ছাড় দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাউন্সিলিং করতে হবে।

তৃতীয়ত, কোয়ারিন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের দেখাশুনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। সেই জনবলকে পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের আগে সুরক্ষিত করতে হবে। তাদের জন্য কোয়ারিন্টিনে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্র থেকে ভর্তুকি দিতে হবে। তাদের সুস্থ্যতার উপরই কোয়ারিন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের সুস্থ্যতা নির্ভর করবে।

চতুর্থত, প্রবাসী যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে তাদের নিজ নিজ জেলা ও উপজেলায় কোয়ারিন্টিনে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে হাসপাতালের বিশেষ কোন ওয়ার্ড প্রস্তুত করে সেখানে বাধ্যতামূলক রাখতে হবে। তাদের খুজে বের করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সাথে ইউপি সদস্যদের দায়িত্ব দেয়া যায়।

পঞ্চমত, কোয়ারিন্টিনে যে সকল চিকিৎসক, সেবিকা-সেবকসহ সংশ্লিস্টরা সেবা প্রদান করবেন তাদের বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। চাকরি সকলে করে কিন্তু তারা তাদের জীবন বাজি রেখে আমাদের জীবন রক্ষা করছে। প্রয়োজনে রাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ প্রেষণার ব্যবস্থা করতে হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের ইতিবাচক সাফল্য তুলে ধরতে হবে।

ষষ্টত, দেশের সাথে স্থলবন্দর, বিমানবন্দর সিলগালা করতে হবে। যাতে কোন মানুষ আসতে বা যেতে না পারে। তবে একটি সমস্যায় পড়বে প্রবাসীরা, সেটি হলো ভিসা জটিলতায়। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে তারা কি করবে? যেহেতু করোনা বিশ^ব্যাপী সমস্যা, তাই আগামী ২/১ মাস ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও কোন হয়রানি ছাড়া মানুষের ভিসার মেয়াদ থাকবে। এ প্রস্তাব আমাদের দেশের সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয়কে যে দেশে প্রবাশিরা আছে সেই দেশে পাঠাতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা, জাতিসংঘের সহায়তা নিতে হবে।

সর্বপোরি, জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে দেশব্যাপী মানুষের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমানবাহিনীকে ব্যরাক থেকে বের করে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিয়ে কাজে লাগাতে হবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের উর্ধ্বমূখী ঠেকানো বিকল্প নেই। গুজব ছড়ানো বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধুমাত্র প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেয়া লিফলেট মসজিদে মসজিদে আজান দেয়ার আগে ও নামাজের পরে মাইকে পড়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। দেশ ও দেশের মানুষের এই ক্রান্তিকালে প্রয়োজন দেশের সকল মন্ত্রণালয়-দপ্তর সকল সেক্টরের মানুষের সমন্বিত প্রচেস্টা ও সতর্কতা। আধার কেটে আলো আসবেই।

 

লেখক:
নাজমুল হক,
প্রাক্তন খুলনা বিভাগীয় সিনিয়র রোভার মেট প্রতিনিধি

একই রকম সংবাদ সমূহ

করোনা মোকাবেলা ও কৃত্রিম সংকট

আজ সারাবিশ্বে বড় আতংকের নাম করোনা ভাইরাস। চায়ের দোকান থেকেবিস্তারিত পড়ুন

গুজবের দেশ বাংলাদেশ! গুজব রটনার মাধ্যম ফেসবুুক!

বলা হয়- ওষুধের দেশ সুইজারল্যান্ড, প্রযুক্তির দেশ চীন, ভদ্রতার দেশবিস্তারিত পড়ুন

গুজব একটি সামাজিক ভাইরাস, এটি প্রতিরোধে আসুন সচেতন হই

“গুজব একটি সামাজিক ভাইরাস এটি প্রতিরোধে আসুন আমরা সবাই সচেতনবিস্তারিত পড়ুন

  • আজ দেবীর জন্মদিন
  • করোনা: চিকিৎসকদের আস্থা বাড়ানো জরুরী
  • মানুষ মানুষের শত্রু হয়, জ্ঞানীর কর্ম শত্রুতা নয়
  • মহান স্বাধীনতার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণে আজকের বাংলাদেশ
  • ঈমান ও হিংসা এক সঙ্গে একই অন্তরে থাকতে পারে না
  • ঈমান ও হিংসা এক সঙ্গে একই অন্তরে থাকতে পারে না
  • সাতক্ষীরা জেলা জজ শেখ মফিজুর রহমানের কবিতা ‘শো-কেসে সাহিত্য’
  • বাঙালির জাতীয় জীবনে গৌরবময় ও ঐতিহ্যপূর্ণ দিন ২১ ফেব্রুয়ারি
  • গোলাপের নিজস্ব কোন গন্ধ নেই
  • প্রতিভা বালার কবিতা : “সূর্যের কন্যা”
  • পরিকল্পিত উন্নয়নের ছোঁয়ায় দেশীয় চিঠির যোগাযোগ অদৃশ্যের পথে