শনিবার, জুন ৬, ২০২০

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

কলম থেকে কলাম..

করোনা: একটি মহামারি ও আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গি

পৃথিবীতে প্রাণীকুলের মধ্যে মানবজাতির উত্থান-পতন,উন্নতি-ধ্বংস জীব জগতের বৈচিত্রের এক স্পষ্ট অবিচ্ছেদ্য অংশ।জাতি সমূহের মৌলিক বিশ্বাস যা-ই হোক,অদৃশ্য সত্ত্বার নিত্য নৈমিত্তিক কর্মকাণ্ড হলো এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের ক্রমাগত রূপ পরিবর্তন।
মহান স্রষ্টার অপার মহিমান্বিত এই সৃষ্টি জগতের একমাত্র পরিচায়ক বাসিন্দা হলো মানবজাতি। আর বাকি গুলো তার সহযোগী প্রাণ ও নিষ্প্রাণ। যাদের প্রাপ্তিগত স্বার্থ নেই বললেই চলে।
জ্ঞান বিজ্ঞানে পরিপূর্ণ এ জাতি আজ অবধি যতগুলো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে,তার বেশিরভাগই আত্মঘাতী আর বাকি গুলো ধর্মীয় বিশ্বাস।

যা হোক, আমার আলোচ্য বিষয় “একটি মহামারি ও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি”এর আলোচনায় অগ্রসর হওয়া যাক।
বর্তমানের একবিংশ শতাব্দীর চলমান বৈশ্বিক প্রাণঘাতী মহামারি ও জৈবিক সত্তার ধ্বংসলীলার এক বিস্ফারিত নাম-নোভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯।

প্রথমে মহামারি কি সে বিষয়ে একটু স্পষ্ট হওয়া যাক।যখন কোনো সংক্রামক ব্যাধি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সৃষ্টি হয়ে ব্যাপক অঞ্চলে বিস্তর লাভ করে ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটিয়ে জীব বৈচিত্র্যকে চরম হুমকির সম্মুখীন করে তাই মহামারি। আর ভাইরাস হলো-ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুজীব। যা অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের সত্ত্বাগত কর্মক্রিয়া পরিচালনা করে থাকে।
এন্থনী-ফল-লিউয়েনহুক যখন প্রায় ৪ শতাব্দী পূর্বে সূক্ষ্ম কাঁচ সদৃশ বস্তুর মাধ্যমে নীচে নড়াচড়া করা প্রাণের অস্তিত্ব দেখতে পেলেন,তখন তিনিও জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়েছেন!এন্থনী সর্বপ্রথম ঐ আনুবিক্ষনীক প্রানের দুনিয়াকে জ্ঞান পিপাসু মানব জাতির সম্মুখে উপস্থাপন করলেন।

তিনি ঐ ক্ষুদ্রানু প্রাণের নাম করণ করলেন”এনিম্যালিকুলাস” ইতিহাস বলছে, সৃষ্টির শুরু থেকেই মানবজাতি এই অনুজীবদের ভয়ংকর আক্রমণের শিকার হয়ে আসছে।প্রাণহানি ঘটেছে প্রায় শত কোটি! কিন্তু কারা এই মহামারি ও প্রাণ নাশের কারন,তা জানতে মানুষের সময় লেগেছে লক্ষ বছর।তার পরও আজও তা স্পষ্ট হয়নি!
ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কারেরও বেশ কিছু সময় পর রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস সম্পর্কে মানুষ জানতে শুরু করেছে ১৯ শতাব্দীর একেবারে শেষ ভাগে।

কয়েক বছর আগেও এই বিপর্যয় সৃষ্টিকারী মহামারি গুলোর কারন হিসেবে অনুজীবকে কল্পনা করা দূরূহ ছিলো।বিভিন্ন দেব-দেবীর কর্মকাণ্ড বা মানুষের পাপের শাস্তি ইত্যাদিকে অনুজীব সৃষ্ট মহামারির কারন হিসেবে কল্পনা করা হতো।
কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন !বিজ্ঞান আর ধর্মীয় বিশ্বাস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্বান্দ্বিক। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ধর্মবোধ যথেষ্ট। কিন্তু এই বিশ্বাস এতোটাই মাত্রা ছাড়িয়েছে যে,তা গোড়ামী,কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতায় রূপ নিয়েছে ।বৈশ্বিক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া নোভেল করোনাভাইরাস (nCoV-19) প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এই নাতিশীতোষ্ণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে আসতে নিয়মের বরখেলাপ ঘটেনি।কিন্তু মহা দ্বিধার মুখোমুখি হয়েছে কিছু ধর্মান্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গোষ্ঠী।

বলাবাহুল্য যে যথা সময়ে রাষ্ট্র এই প্রাণঘাতী মহামারি প্রতিরোধে সাধ্যমতো ব্যাবস্থা গ্রহণ করলো, কিন্তু কে শোনে কার কথা!কেউ আছেন ভিন্ন ধর্মীয় কুসংস্কার ও গোড়ামীকে আঁকড়ে, কেউ আছেন ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তার বিশ্বাস নিয়ে, আবার কেউবা অবচেতনে আত্মঘাতী হয়ে মনের অজান্তেই মানবজাতির ধ্বংসযজ্ঞে মেতেছেন!

সংক্রমণের প্রথম স্টেইজে রাষ্ট্রের বিধান আরোপের পালা শুরু হলো। কিন্তু এই রাষ্ট্রীয় নীতির ঘোর বিরোধী রূপে আবির্ভূত হলো একশ্রেণীর ধর্মান্ধ আলেম ও কিছু স্বল্প শিক্ষিত কুসংস্কার লালনকারী মানুষ। প্রবাদে আছে”অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী”কিন্তু তা যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে সে দৃশ্য দেখার সময় বুঝি আর দূরে নেই।

রাষ্ট্র ও বিজ্ঞান বলছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে, হাত মিলানো,কোলাকুলি এককথায় স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে,জনসমাগম এড়িয়ে চললেই এই বৈশ্বিক প্রাণহানি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। ইত্যাদি ইত্যাদি।
কিন্তু কতিপয় ধর্মান্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ব্যক্তিবর্গ!কি ভাবছে তারা?

রাষ্ট্রের মাঠ প্রশাসনে কঠোরতা আসলো। বাজার বন্ধ করা হলো লোক সমাগম এড়ানোর জন্য। সামাজিক দূরত্বের বিধান করা হলো, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো,যাতে করে মানুষ ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারে।

কিন্তু কতিপয় ধর্মান্ধরা কি করলো জানেন?

হঠাৎ দেখবেন আপনার এলাকার মসজিদ গুলোতে আর জায়গা ধরছে না। মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। ছোট-বড়,সুস্থ- অসুস্থ এককথায় সর্ব শ্রেণী পেশার মানুষ প্রতি ওয়াক্তে মসজিদে আসছে।জুম্মার নামাজে যায়গা ধরছে না। কারন কি!একসাথে এতো মানুষের হেদায়েত হয়েছে? তাও না,কারন তারা শুধু মসজিদে আসছে,নামাজ পড়ছে। আবার মসজিদ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে ধর্ম ও সমাজ গর্হিত সকল কাজ করছে।তাহলে নিশ্চয় হেদায়েত হয়নি! তাহলে এর মূল রহস্য কি?

ঐ সব কথিত প্রকৃত ধর্মান্ধ হুজুররা গ্রামের সহজ সরল মানুষদের বুঝিয়েছেন,এই মহামারি থেকে বাঁচতে হলে মসজিদে একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করার কোনো বিকল্প নেই।

এক্ষেত্রে কিছু কিছু মৌলভী গ্রেপ ভাইন চেইন সিস্টেম ব্যবহার করছেন।গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই মসজিদের ইমামদের ধর্মগুরু বিশ্বাস করেন।তাই হুজুর বলেছেন বললেই সাত গোষ্ঠী উদ্ধার হয়ে যায় ।আর এই সুযোগে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করেন এসব কতিপয় ধর্ম ব্যবসায়ী।

কি মজা তাই না!

সেদিন কোনো এক সংবাদ সংগ্রহের কাজে পাশের গ্রামে গিয়েছিলাম।একটি মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম।নামাজ শেষে ইমাম সাহেব আগত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বললেন” মসজিদ ফাঁকা কেন?আমি সব কয়টি পরিবারের সকল সদস্যদের মসজিদে দেখতে চাই”এ সময় তিনি সবাইকে মসজিদে আনতে হবে এই মর্মে আরবিতে কি যেন বললেন।মুসল্লিদের প্রতিক্রিয়ায় মনে হলো সবাই এটা একটা রাষ্ট্রীয় আদেশ মনে করেছে।

তাহলে একবার ভাবুন,কোথায় গেল রাষ্ট্রের জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম, হ্যাঁ এসব লোকই প্রকৃত আত্মঘাতী ।তারপর তো হাত মিলানো,কোলাকুলি এসব সংস্কৃতি আছেই।এক্ষেত্রে অন্ধ বিশ্বাসই সব কিছু।

আরেক সমস্যা হলো কিছু অতি উৎসাহীদের নিয়ে। এ শ্রেণী নিজেরা অসচেতন।আবার অন্য কেউ সচেতন হলে তাদের হয় মহা সমস্যা।

সালাম দিবেন ভালো কথা।হাত মিলানো নিয়ে সমস্যার অন্ত নেই। যদি হাত মেলান, তাহলে ভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে।যদি না মেলান,আপনি অহংকারী, বেয়াদব ।আর সচেতন করতে গেলেই বিপত্তি।

তারপর আরেক দল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আছেন এই মহামারি পরিস্থিতিতেও সার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত ।অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর মাঝে সামান্য সহযোগিতা করা নিয়ে নামমাত্র চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। কখনো সেলফিবাঁজি,কখনো সহায়তার কথা বলে চাঁদাবাজি,কখনো সিন্ডিকেট করে আত্মসাত করা হচ্ছে সরকার প্রদত্ত সাহায্যার্থে প্রাপ্ত দ্রব্যাদি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা কঠোর হলে ঐ সব রাজনীতি ব্যবসায়ীর গায়ে ফোস্কা পড়ার ইতিহাস নতুন কিছু না।
রাষ্ট্রের ২য় স্তম্ভ জনসাধারণের জীবন রক্ষার্থে আইনের কঠোর প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই।

তুলনামূলক ধর্ম তত্ত্বের একজন ছাত্র হিসেবে ক্ষুদ্র ধর্মীয় শিক্ষায় এটুকু বলতে পারি-ইসলাম কখনো চরম কঠোরতা আরোপ করেনি। বরং প্রয়োজনে সবকিছু সিথিল করেছে।তাহলে কতিপয় ধর্মান্ধ হুজুরের এতো জ্বলে কেন?
বিষয় পরিস্থিতিতে মসজিদে না গিয়ে বাসায় নামাজ আদায় করলে কি তা অশুদ্ধ হবে? নাকি ঐ ব্যক্তির মুসলমানিত্ব বাতিল হবে!

সুতরাং আসুন ধর্মান্ধতা পরিহার করে প্রকৃত ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করি।সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করি।পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করি।

একটা কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে-রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত আইন মেনে চলা ঈমানের অঙ্গ ও আদর্শ নাগরিকের কর্তব্য।

এখন সিদ্ধান্ত আপনার ।আত্মঘাতী ও ধর্মান্ধ থাকবেন,না কি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে আদর্শ সচেতন সু-নাগরিক হবেন।

ধন্যবাদ।

লেখক:
শফিকুর রহমান,
লেখক, সাংবাদিক
স্টাফ রিপোর্টার, কলারোয়া নিউজ

[কলম থেকে কলাম ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত লেখার স্বত্ব সম্পূর্ণ লেখকের।]

একই রকম সংবাদ সমূহ

কলারোয়ায় করোনা আক্রান্ত সকলেই দৃশ্যমান ভালো, ফলোআপ রিপোর্টের অপেক্ষা

কলারোয়ায় করোনা পজিটিভ হওয়া ৭ ব্যক্তির সকলেই সুস্থ ও ভালোবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ায় পানিতে ডুবে প্রতিবন্ধী শিশুর মৃত্যু

কলারোয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে সোনিয়া (১২) নামের শারীরিক প্রতিবন্ধী একবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ায় ‘আমরা সেবক একতা সংঘ’র সূধী সমাবেশ ও কমিটি গঠন

‘শাসন নয় সহযোগিতা, শোষন নয় সেবা’- এই মূলনীতিকে সামনে রেখেবিস্তারিত পড়ুন

  • বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কলারোয়ায় ছাত্রলীগের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি
  • কলারোয়ায় জগ্ননাথ দেবের স্ন্যানযাত্রা অনুষ্ঠিত
  • অভিজ্ঞতায় মহাপ্রলয়ংকারী আম্পান
  • সাতক্ষীরার গ্রাম ডাক্তার মিজানুরের মৃত্যুতে কলারোয়া গ্রাম ডাক্তার সমিতির শোক
  • করোনা আক্রান্তদের জন্য পাঠানো হলো সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সুষম ফুড প্যাকেজ
  • কলারোয়ার দেয়াড়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
  • কলারোয়ায় আম্ফানে লন্ডভন্ড বসতঘর, ক্ষতিগ্রস্থের তালিকায় নেই এক হতদরিদ্র
  • দরিদ্রতাকে হার মানিয়ে ‘এ+’ অর্জন করলো কলারোয়ার কেঁড়াগাছির ইকরামুল
  • কলারোয়ায় ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদ) উদ্যোগে সহায়তা প্রদান
  • ক্ষমতা ক্ষণ স্থায়ী, তবে কর্মের ভিতরে মানুষ চির স্মরনীয় হয়ে থাকে
  • কলারোয়ায় বিদায়ী ইউএনও’কে সম্মাননা আ.লীগের
  • কলারোয়ায় উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বিদায়ী ইউএনও’কে সম্মাননা