সোমবার, জুন ১, ২০২০

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

কলারোয়ার চন্দনপুরে তরুণদের উদ্যোগে চালু হলো বন্ধু বাজার

সময়ের প্রয়োজনে দেশের মানুষের কল্যাণে বারবার বাড়ানো হচ্ছে সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটি। ফলস্বরূপ বিভিন্ন পেশার মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য গড়ে তুলেছে বিভিন্ন ধরনের সেচ্ছাসেবী সংগঠন।

তেমনি একটা সংগঠন “বন্ধু বাজার” যেটা সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের চন্দনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০১৪ সালের ব্যাচ কর্তৃক উক্ত গ্রামেরই কলেজ মোড়ে সারা রমজান মাসব্যাপী পরিচালনা করা হবে।

বিষয়টি প্রথমে জানতে পেরেছিলাম মাইকিং পাবলিসিটির মাধ্যমে, খবরটা শুনেই মনের অজান্তে বন্ধু বাজার দেখার খায়েশ মনের এককোণে জেগে বসেছিলো কিন্তু চলমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিজের আবেগকে সচেতনতার উর্ধ্বে জায়গা দিতে পারি নাই।

কিন্তু মানুষের মুখে মুখে বন্ধু বাজারের সুনাম আর প্রশংসা শুনে সকল বাধার বেড়াজাল মাথা থেকে সরিয়ে চেপে বসলাম আব্বার ব্রেক বেল বিহীন সাইকেলের উপর। দীর্ঘ পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে পৌছালাম বন্ধু বাজারে। সাইকেল থেকে নেমেই হতাশার বিষাক্ত ছোবলের ধারালো দাঁত আমার কল্পনার জগৎকে ক্ষতবিক্ষত করে দিলো।

মাইকিং পাবলিসিটি আর মানুষের মুখে তাদের প্রশংসা শুনে মনে করেছিলাম হয়ত ছোট বড় দোকান দিয়ে বাজারটা সাজানো কিন্তু সেখানে দেখলাম একটি মাত্র সবজির দোকান তবে দোকানটা বিভিন্ন সবজিতে ভরপুর আর বেশ গোছালো।

সাইকেল রেখে তাদের দোকানের সামনে যেতেই প্রথমে সালাম দিলো আবু সোহান নামের ছেলেটা। সালামের উত্তর দিয়ে পরিচয় পর্বটা সেরে নিলাম, নিশ্চিত হলাম তাঁরা আমার জুনিয়র।

কথা বলার সুযোগ পেয়ে প্রথম দৃষ্টিগোচর হওয়া বাজারের থেকে সবজির দাম বহুগুণে কম এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম।

আবু সোহান বললো ভাইয়া চলমান পরিস্থিতির কারণে গ্রামের নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে টাকা নেই বললেই চলে তাতে আবার রমজান মাস এই রহমতের মাসে অন্য অন্য দেশে জিনিসপত্রের দাম কমলেও আমাদের দেশের অধিকাংশ জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়,তাই আমরা চলমান পরিস্থিতি সংকটময় অবস্থাকে সহজ করতে এবং রোজার মাসটা টার্গেট করে মানুষকে কম মূল্যে সবজি সরবরাহ করে সেবা দিতে চাই।

পাশ থেকে একটু হাসির ছলে আসাদ নামের ছেলেটা বললো ভাইয়া বসতে দিচ্ছি না বলে দয়া করে রাগ করবেন না এটা করোনায় আমাদের করনীয়। আমিও হেসে দিলাম। সাব্বিরকে ফোন করে আবু সোহান মাঠে গেলো শসা কিনতে, এর ফাঁকে আমি তাদের দোকানে লেখা বিভিন্ন উক্তিগুলো পড়তে লাগলাম। সাব্বির এসেই জিজ্ঞেস করলো ভাইয়া কি দিবো?

আসাদ বুঝিয়ে দিলো আমি তাদের দোকান শখের বসে দেখতে এসেছি। সাব্বির বললো আপনাকে বন্ধু বাজারের স্বাগতম, প্রশ্ন করলাম বন্ধু বাজার নাম কেনো দিলে? মিসকি হেসে সে উত্তর দিলো আমরা বন্ধুরা প্রত্যেকে টাকা দিয়ে দোকানটা চালু করেছি এবং আমরাই চালাচ্ছি সেজন্য এটার নাম বন্ধু বাজার দেওয়া হয়েছে, আরও বললো উক্ত ব্যাচের যে কেউ দোকানে এসে দোকান পরিচালনা করতে পারবে এমনকি যারা কারণবশত টাকা দিয়ে সহায়তা করতে পারিনি তাঁরাও।

জিজ্ঞেস করলাম লাভ লোকসানের ব্যাপারে উত্তর পেলাম ভাইয়া লোকসান হলে কারোর কোনো মাথা ব্যাথা নেই এই মর্মে প্রত্যেকে টাকা দিছে তবে লাভ হলে প্রত্যেকের আসল টাকা ফেরত দিয়ে আমরা লাভের টাকা দিয়ে ঈদের সেমাই কিনে অসহায় মানুষদের দিবো। তাঁর কথা শুনে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম।আবারও জিজ্ঞেস করলাম লজ্জা বা সংকোচবোধ করো না? আসাদ বললো না লজ্জা করে না, আমরা প্রত্যেকে পড়াশোনা করি ছুটি শেষে আমরা যার যার বিদ্যাপীঠ চলে যাবো বরং এটা করতে পেরে মানুষের স্নেহ, ভালোবাসা এবং দোয়া পাচ্ছি। কথার প্রেক্ষিতে জানতে পারলাম তাঁরা প্রত্যেকে দেশের সুনামধন্য কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। উদ্যোগ এর ব্যাপারে কথা উঠতেই সাব্বির উত্তর দিলো আমাদের বন্ধু আবু বাশার, আসাদ, আবু সোহান, সাইদ, সবুজ এবং আমি উদ্যোগটা নিয়েছি, আমরা প্রত্যেকে শিফট অনুযায়ী কাজ করি।

সাইদ ও বাশার হিসাবরক্ষক, আসাদ ও সবুজ ক্যাশিয়ার এবং সোহান ও আমি সবজি সংগ্রহ করি।তাদের এই অটুট বন্ধন আর বোঝাপড়া দেখে আমার মনের ভেতর থেকে সব হতাশার বিষ একেবারে পানি হয়ে গেলো, মুগ্ধ হলাম তাদের ব্যবহার আর নম্রতা দেখে।

অতি উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে প্রশ্ন করলাম চলমান পরিস্থিতির কারণে পরিবারের লোক বাইরে আসতে দেয়?উত্তর পেলাম বাড়ির প্রত্যেকে রাগারাগি করে তবুও আমরা তাদের বুঝিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি মাস্ক, হাত কভার পরেই কাজ চালাচ্ছি, এমনকি হ্যান্ড ওয়াশ ও জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থাও করেছি।আমার নিজের চোখে দেখা বন্ধুত্বের এ এক বিরাট বন্ধন।অবশেষে আমি এককেজি পটল(২২)ও ঢেঁড়স (২০) টাকা দিয়ে কিনলাম এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন স্বরূপ ক্ষমা চেয়ে নিলাম এবং আবদার করে বসলাম একটা ফটো তোলার জন্য তাঁরা আমার আবেগকে সম্মান জানিয়ে ফটো তোলার অনুমতি দিলো।

ফটো তুলে প্রত্যেকের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এবং দূরত্ব বজায় রেখে সাবধানে কাজ করতে বলে বিদায় নিলাম।পথিমধ্যে দেখি সেই ছেলেটা শসা ভর্তি বস্তা মাথায় নিয়ে দোকানের পথে ফিরছে।এমন ক্রান্তিলগ্নে যারা মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকে তাঁরা আমার,আপনার ও দেশের গর্ব, অহংকার।

তাদের ত্যাগ,ব্যবহার এবং নম্রতা দেখে আমি মুগ্ধ।সময়টা আমার স্মৃতির পাতায় অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

একই রকম সংবাদ সমূহ

কলারোয়ার খাসপুরে দীর্ঘ ১১দিন পর বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন

দীর্ঘ ১১ দিন পর একঝাক তরুনদের স্বেচ্ছাশ্রম ও পল্লী বিদ্যুৎবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ার সোনাবাড়ীয়া হাইস্কুলে এসএসসি’তে ১৮জন এ+, পাশের হার ৯৫ ভাগ

কলারোয়ার ঐতিহ্যবাহী সোনাবাড়ীয়া সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলেবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় করোনা পরীক্ষাগার না থাকায় বিড়ম্বনা, দ্রুত স্থাপনের দাবি

সাতক্ষীরা জেলায় করোনা পরীক্ষাগার স্থাপন না হওয়ায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেনবিস্তারিত পড়ুন

  • ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা মোস্তাফিজুর রহমানের মৃত্যুতে লুৎফুল্লাহ এমপি’র শোক
  • এসএসসি’তে কলারোয়া ও দেবহাটার দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাশ করেনি
  • কলারোয়ার সিংগা হাইস্কুলে এসএসসি’তে ১১জন এ+, পাশের হার ৯২ভাগ
  • এসএসসিতে যশোর বোর্ডের শীর্ষে সাতক্ষীরা, দ্বিতীয় খুলনা
  • কলারোয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পুত্র গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে
  • জুন পর্যন্ত দিতে হবে না বিদ্যুৎ বিলের বিলম্ব ফি
  • এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে কলারোয়ার সাংবাদিকপুত্র তাসফিক খান চৌধুরী
  • কলারোয়ার কয়লা ইউপিতে উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা
  • কলারোয়ার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা
  • কলারোয়ার চন্দনপুর ইউপি’র উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা
  • কলারোয়ায় কারিতাসের উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ
  • কলারোয়ার সোনাবাড়ীয়ায় ৯০টি পরিবারের মাঝে সহায়তা সামগ্রী বিতরণ