সোমবার, জুলাই ৬, ২০২০

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

কলারোয়ায় জমি দানপত্র করে অস্বীকার! দ্বিধান্বিতের সাথে হয়রানির অভিযোগ

স্বেচ্ছায় জমি দানপত্র করে পরবর্তীতে জমিদাতা অস্বীকার করায় বিপাকে পড়েছেন জমি গ্রহীতারা। নিয়মমাফিক জমি রেজিস্ট্রির পর জমিদাতার ‘ইউটার্ণ’ আচরণে রীতিমত ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে দ্বিধান্বিত সংশ্লিষ্টরা। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে দানপত্র করার পর দুই মাস পরে গিয়ে সেই জমির দানপত্র অস্বীকার করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের বহুড়া গ্রামে।

সোমবার (১জুন) সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে এমনই চিত্র উঠে এসেছে।

জানা গেছে- ওই গ্রামের বাসিন্দা মৃত হাজের বিশ্বাসের মেয়ে সোনাভান বিবি (৬৩)। নি:সন্তান তিনি। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ২৯ বছর যাবত সোনাভান বিবির সার্বিক ভরণপোষণ, চিকিৎসা ও দেখাশোনা করে আসছেন তার আপন চাচতো ভাই মৃত ইসমাইল হোসেনের তিন ছেলে ইসরাফিল বিশ্বাস, আজিজুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর হোসেন। তাদের বসবাসও একই বাড়িতে।

তিন ভাইপোর আচার-ব্যবহারে সন্তুষ্ট হয়ে চলতি বছরের ৩ মার্চ কলারোয়া রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে ওই তিন ভাইপোর নামে ভিটাবাড়ির ৬ কাঠাসহ দুই বিঘা জমি দানপত্র রেজিস্ট্রি করে দেন সোনাভান বিবি৷ সেদিন রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়াটি ছিলো স্বেচ্ছায়-স্বজ্ঞানে। সেদিনের পর থেকেও আগের মতো স্বাভাবিকভাবেই চলছিলো তার সার্বিক ভরণপোষণ, দেখাশোনাসহ সাংসারিক কার্যক্রম।

কিন্তু গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সোনাভান বিবি তার আরেক ভাই পার্শ্ববর্তী একই গ্রামের সোলেমান বিশ্বাসে বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে অবস্থান করাকালীন হঠাৎ আজানা কারণে ‘ইউটার্ণ’ করেন সোনাভান বিবি। অস্বীকার করেন স্বেচ্ছায় জমি দানপত্র করার বিষয়টি। বলেন জোরপূর্বক, অচেতন, ভয়ভীতি ইত্যাদির প্রেক্ষিতে জমি লিখে দেয়ার কথা।

সূত্রে আরো জানা গেছে, এরূপ ঘটনা প্রবাহে সোনাভান বিবি কলারোয়া থানা, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, দলিল লেখক সমিতি সহ অন্যান্য দপ্তরে তিন ভাইপোর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে সরোজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহকালে স্থানীয় প্রতিবেশী শামসুর মোল্লা বলেন- ‘সোনাভান বিবির তিন ভাইপো তার জমিতে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত ভিটা বাড়িতে গৃহ নির্মাণ করে একই বাড়িতে ওই ফুফুর সাথে শান্তিতে বসবাস করে আসছেন। আমাদের জানামতে সোনাভান বিবির আপন ভাইপোরা তার ভরণপোষণসহ তেমন কোন খোঁজ খবরই রাখতো না।’

জমি জায়গা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন- ‘আমরা শুনেছি সোনাভান বিবি তার সম্পত্তি দেখভাল করা ওই তিন ভাইপোর নামে স্বইচ্ছায় লিখে দিয়েছেন।’

কেরালকাতা ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোরশেদ আলী জানান- ‘সোনাভান বিবির আপন ভাইপোরা তার খোঁজখবর না নিয়েই দূরে বসবাস করেন। যেজন্য বৃদ্ধা নারীর তাদের উপর অবিশ্বাস জন্ম নেয়। এই নারী তার দেখাশোনার জন্য বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে ওই তিন ভাইপোর নামে তার সম্পত্তি থেকে দুই বিঘা জমি রেজিস্ট্রি অফিসে নিজে উপস্থিত থেকে লিখে দেন৷ ঘটনাটি প্রকাশের পর তার আপন ভাইপো ও স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিরা ভুল বুঝিয়ে ও বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে লিখে দেয়া জমি ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন বলে জেনেছি। এতে তিন ভাইপোকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে।’

এ বিষয়ে কলারোয়ার দলিল লেখক সাংবাদিক আজাদুর রহমান খান পলাশ চৌধুরী জানান- ‘গত মার্চ মাসের ৩ তারিখে তিন ভাইপোসহ সুস্থ বৃদ্ধা সোনাভান বিবি জমি হেবা দলিল লেখার জন্য সাব রেজিস্ট্রার অফিসে উপস্থিত হন। বৃদ্ধার নামে থাকা সম্পত্তি থেকে দুই বিঘা জমির সমুদয় তথ্য-প্রমাণাদি দেখিয়ে তিন ভাইপোর নামে লিখে দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। জমি লেখার সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরে তার নামে থাকা জমি থেকে তিন ভাইপোর নামে দুই বিঘা জমি লিখে দিয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশও করেন।’

কলারোয়া সাব-রেজিস্ট্রার শাহিদুর রহমান বলেন- ‘বৃদ্ধা সোনাভান বিবি তার নামে থাকা জমি থেকে দুই বিঘা জমি তিন ভাইপোর নামে লিখে দেওয়ার জন্য সার্বিক প্রমাণাদি নিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে এসে জমি লিখে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তার এ সম্পত্তি লিখে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওই নারী তার সাথে আসা তিন ভাইপোর নামে সেচ্ছায় লিখে দেয়ার কথা জানান, তারপরও জমির পরিমান বেশী হওয়ার কারনে আমি বৃদ্ধা সোনাভানকে প্রায় ঘন্টা দুয়েক বসিয়ে রেখে আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হয়ে দলিলে স্বাক্ষর করি।

এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন- ‘অভিযোগ পাওয়ার পরে বাদী-বিবাদী উভয়কে নিয়েই উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে শালিসি মিমাংসার উদ্দেশ্যে বসা হয়। সকলের তথ্য ও প্রমাণাদি শোনার পরে উভয়পক্ষের সম্মতিতে সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী একটি দিন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বাদীপক্ষ আপস-মীমাংসায় না বসে বিভিন্ন দপ্তরে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ দাখিল করেছেন। যার জন্য তার এই তিন ভাইপো হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন- ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সালিশী মিমাংসার সিদ্ধান্ত ঐদিন নেয়া সম্ভব হয়নি, যার কারণে পরবর্তীতে দিন ধার্য করা হয়৷’কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে আর বসাবসি করা হয়নি।

এদিকে, সোনাভান বিবি বলেন- ‘আমি কিছুই জানি না তারা কিভাবে নিয়েছে। আমি জমি লিখে দেই নি। তারা দুধের সাথে কিযেন খাওয়ায়ে আমাকে অসচেতন করে জমি নিয়েছে। আমি স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে জমি দেইনি।’

তিন ভাইপোরা বলেন- ‘ফুফু হয়তো কোন প্রলোভনে পড়ে এখন অস্বীকার করছেন। এতে আমরা হয়রানির শিকার হচ্ছি।’
‘আমরা সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক সমাধানের দাবি জানাচ্ছি’- যোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র দেখতে এখানে ক্লিক করুন

একই রকম সংবাদ সমূহ

কলারোয়ায় অসুস্থ দুই ইউপি চেয়ারম্যানের পাশে এসিল্যান্ড

কলারোয়া উপজেলার কয়লা ও চন্দনপুর ইউনিয়নের অসুস্থ দুই ইউপি চেয়ারম্যানকেবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ায় অসহায়দের মাঝে সহায়তা প্রদান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের

কলারোয়ায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়দের মাঝে সহায়তা প্রদানবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে হুমকি, থানায় জিডি

কলারোয়ায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক শফিকুর রহমানকেবিস্তারিত পড়ুন

  • সাতক্ষীরা মেডিকেলে করোনা উপসর্গে চার ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু
  • ‘অনলাইন ক্লাস নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ (পর্ব-১)
  • কলারোয়ার কেঁড়াগাছি সীমান্তে ইয়াবা উদ্ধারসহ মোটরসাইকেল জব্দ
  • কলারোয়ার ভাদিয়ালী সীমান্তে ২০ কেজি রুপার গহনা উদ্ধার
  • ‘করোনামুক্তি’র দ্বারপ্রান্তে কলারোয়ার আরএমও ডা. শফিকুল, ফলোআপ রিপোর্ট নেগেটিভ
  • কলারোয়ার চন্দনপুরে ইটভাটার মাটি বহনের ট্রাক্টরে রাস্তা নষ্ট!
  • কলারোয়ার ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বালিয়াডাঙ্গা বাজারের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ
  • কলারোয়ায় দ্য এডিটরস’র সংবাদ প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ
  • কলারোয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু
  • কলারোয়ায় সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদের কবর জিয়ারতে ওসি
  • কলারোয়ার সেই বালিয়াডাঙ্গা বাজারে ফের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ
  • কলারোয়ার কেরালকাতায় মসজিদে মসজিদে দোয়ানুষ্ঠান