সোমবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

ভ্রাম্যমান আদালত ॥ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সমাধান

গুজবে কান দেবেন না, লবনের সংকট নেই : লবনের দাম বৃদ্ধির গুজবে কলারোয়ায় হুলস্থুল কান্ড

গুজব যে কত ভয়ংকর হতে পারে তা আবারো একবার প্রমান হলো কলারোয়ায়। লবনের দাম বৃদ্ধির গুজবে মঙ্গলবার বিকেল থেকে হুলস্থুল কান্ড ঘটে কলারোয়া বাজারে।

সন্ধ্যার পরে রীতিমতো জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হন, সমাধানও হয় পরপরই।

গুজবরোধে তাৎক্ষনিক মাইকিংও করা হয়। সাময়িক আটক করা হয় কয়েকজন ব্যবসায়ীকেও।

ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করা হয়েছে এক ব্যবসায়ীকে।

স্থানীয় বাসিন্দা, ক্রেতা, ভূক্তভোগি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- ‘লবনের মূল্য বৃদ্ধির গুজবে বিকেল থেকে কলারোয়ার পৌরসদরের বাজারের খুচরা মুদি দোকানে লবন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ক্রেতাদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীদের উপস্থিতি বেশি পরিলক্ষিত হয়। হঠাৎ লবনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু ব্যবসায়ী লবন স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠে। ক্রেতাদের মাঝেও গুজবে ও হুজুগে লবন কেনার হিড়িক পড়তে দেখা যায়। মুদি দোকানগুলোতে লবন ক্রেতাদের ভিড়ে রীতিমত বাজারে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।’

কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করে জানান- ‘অনেক মুদি দোকানদার ১০-১৫ টাকা কেজি দরের খোলা লবন ২৫/৩০ টাকা পর্যন্ত নেন। বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত আয়োডিনযুক্ত লবন ১কেজির প্যাকেটের সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল্য ৩৫টাকার স্থলে ৫০/৫৫ টাকা এবং ৮’শ গ্রামের প্যাকেটের সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল্য ২৫টাকার স্থলে ৩৫/৪০ টাকা নেন।’

তারা আরো জানান- ‘কিছু দোকানদার প্যাকেটে লেখা নির্ধারিত মূল্যেই দাম নিয়েছেন তবে ক্রেতাপ্রতি ১/২টি প্যাকেটের বেশি বিক্রি করেননি।’

মাছ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী নেপাল কুমার জানান- ‘৮শ গ্রামের লবনের প্যাকেট কিনেছি ১৬টাকায়। এটা আগে কিনতাম ১২টাকায়।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন- ‘সম্প্রতি পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির কারণে হঠাৎ লবনের মূল্য বৃদ্ধির গুজবে কান দিয়েছে সাধারণ ক্রেতারা। আর ক্রেতাদের তাৎক্ষনিক অতিরঞ্জিত চাহিদার কারণে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীও ফায়দা লুটার ব্যর্থ চেষ্টা করে।’

তারা আরো জানান- ‘যার ১কেজি লবনের চাহিদা তাকে ৮/১০কেজি লবন ক্রয় করতে দেখা গেছে।’

কামরুল, সাজু, পলাশ, শাহীন, আদিত্য, রাসেলসহ কয়েকজন ক্রেতা জানান- ‘পেঁয়াজের মতো দীর্ঘমেয়াদী মাত্রাতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির আশংকায় অজানা আতংকে বেশি করে লবন কিনতে বাধ্য হয়েছি, যাতে আগামি কয়েক মাস লবন কেনা না লাগে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন- ‘লবনের দাম বৃদ্ধির গুজবে সন্ধ্যার পর থেকে কলারোয়া বাজারে হাজার হাজার ক্রেতাদের ভিড় সামাল দেয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। ওই সুযোগে কিছু বিক্রেতাদের লবনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও দাম বেশি নেয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বাজারে অভিযান চালান। কলারোয়া থানার ওসি শেখ মুনীর-উল-গীয়াসের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম তাৎক্ষনিক বাজারে দোকানে দোকানে গিয়ে গুজব রোধে সজাগ থাকার আহবান জানান। সাথে সাথে লবনের মূল্য বৃদ্ধি না করা, কৃত্রিম সংকট তৈরি না করা ও অবৈধ মজুদ না রাখার নির্দেশনা দেন। লবনের দাম বৃদ্ধির প্রাথমিক অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শিমুল স্টোরের মালিক জাকির হোসেন, বিশিষ্ট মজুদদার পরিতোষ মন্ডলের পুত্রসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে মুচলেকায় তাদের কয়েকজনকে ছেড়েও দেয়া হয়।’

এদিকে, কলারোয়া টিএন্ডটি রোডের মেসার্স হারুন স্টোর থেকে ভ্যানভর্তি লবন বেশি মূল্যে কিনে উপজেলার কলাটুপি বাজারে নিয়ে যাওয়ার সময় ভ্যানটি আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।

আটককৃত ওই ভ্যানের চালক জানান- ‘প্যাকেট লবনগুলো কলাটুপি বাজারের ব্যবসায়ী ফিরোজ হোসেনের।’

এদিকে, উপজেলার সরসকাটি, গয়ড়া, বালিয়াডাঙ্গা, কাজিরহাট, সোনাবাড়িয়া, খোরদোসহ বিভিন্ন বাজারে অনুরূপ দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

গুজব রোধে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইউএনও, থানার ওসি, কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে মাইকিং করা হয়।
এতে বলা হয়- ‘লবনের কোন ঘাটতি নেই। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে একটি কুচক্রি মহল ও অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা আইনগত অপরাধ। পূর্বের দামে ও ন্যায্য মূল্যে লবন বিক্রি করতে হবে।’

লবনের দাম বৃদ্ধির গুজব রোধে সজাগ থাকতে তাৎক্ষনিক কলারোয়া বাজারের বিভিন্ন দোকানে দোকানে গিয়ে বিচলিত না হওয়ার আহবান জানান কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু, ভাইস চেয়ারম্যান শাহানাজ নাজনীন খুকু প্রমুখ।

উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের খোরদো বাজারে ফারুক ট্রেডার্সে ন্যায্যমূল্যের অতিরিক্ত দামে লবন বিক্রয়ের অপরাধে ভোক্তা অধিকার আইনে ওই দোকানের মালিক ফারুক হোসেনকে ৫হাজার টাকা নগদ জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও সেলিম শাহনেওয়াজ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চসহকারী আব্দুল মান্নান।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন- ‘কলারোয়াতে লবনের কোন ঘাটতি নেই। কৃত্রিম সংকট তৈরী করলে অথবা কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন- ‘দেশে লবনের কোন সংকট নেই। গুজবে কান দিয়ে লবন মজুদ করবেন না। মজুদকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

একই রকম সংবাদ সমূহ

‘খেলাধূলা সমাজকে নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখে’ : লুৎফুল্লাহ এমপি

সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ীবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন ॥ মশিউর সভাপতি, আলিম সম্পাদক

কলারোয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার কলারোয়াবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

কলারোয়ায় সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মোকছেদবিস্তারিত পড়ুন

  • কলারোয়ায় বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ইনডোর বইমেলা শুরু
  • কলারোয়ার জয়নগরে বাৎসরিক কালীপূজা অনুষ্ঠিত
  • ‘নিজেদের অবস্থান থেকে মানবিক সমাজ গড়তে হবে’ : জেলা জজ শেখ মফিজুর রহমান
  • কলারোয়ার কেঁড়াগাছি হরিদাস ঠাকুরের জন্মভিটা পরিদর্শনে জেলা জজ শেখ মফিজুর রহমান
  • কলারোয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন
  • কলারোয়ায় গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান
  • কলারোয়া পাবলিক ইনস্টিটিউটে নির্বাচন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ॥ দায়িত্বভার অর্পণ
  • কলারোয়ার গয়ড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদে বুদ্ধিজীবী দিবসে দোয়ানুষ্ঠান ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন
  • কলারোয়ায় ৩ ব্যক্তি আটক
  • কলারোয়ার চন্দনপুরে ‘বিজয় দিবস মাওলা বক্স’ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট
  • সাতক্ষীরা জেলা ও কলারোয়া আ.লীগের নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা হোমিওপ্যাথিক কলেজ কর্তৃপক্ষের
  • কলারোয়ার ক্যান্সার আক্রান্ত দিনমজুর মুক্তার বাঁচতে চায়