মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০২০

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

ঝাউডাঙ্গায় প্রান্তিক কৃষকের তালিকায় ধান ব্যবসায়ী, বাস চালক, মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমিহীনের নাম!

সরকারিভাবে বোরো ধান ক্রয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে একটি সিন্ডিকেট করে একটি চক্র রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিহীনসহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অর্ন্তভুক্তি করে প্রকৃত প্রান্তিক বোরো চাষিদের নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তবে, এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করার পরও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয় প্রান্তিক কৃষক ও এলাকার সচেতন মানুষ। প্রান্তিক কৃষকেরা অবিলম্বে কৃষক বিহীন তালিকা বাতিল করে প্রকৃত চাষিদের নিয়ে নতুন তালিকা করার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

সদর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায়, ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নে এ বছর সরকারিভাবে ১৮৮ মে. টন বোরো ধান ক্রয় করা হবে। এরমধ্যে ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কিরণ¥য় সরকারের প্রস্তুতকৃত তালিকা থেকে লটারির মাধ্যমে ১৮৮জন কৃষক নির্বাচিত করা হয়েছে।

এদিকে ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকরা জানান, এরআগেও ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কিরনময় সরকারের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কৃষকের তালিকা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। গত আমন ধান সংগ্রহের সময়ও প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে তিনি একই সিন্ডিকেটের দেয়া তালিকা প্রস্তুত করে অফিসে পাঠান। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অবহিত করলে তিনি প্রকৃত কৃষকদের নাম তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করার ব্যবস্থা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের নির্বাচিত কৃষকদের তালিকায় অধিকাংশ ব্যক্তিই কৃষক নয়, তবু তাদের নাম তালিকায় অর্ন্তভুক্তি করা হয়েছে। তালিকায় ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক, একই বাড়ির ২/৩জন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, বাসচালক, অন্য ইউনিয়নের বাসিন্দা, মাদক ব্যবসায়ী, ধানের আড়ৎদার (পাইকারি ব্যবসায়ী), ভূমিহীনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নাম রয়েছে। এছাড়াও তালিকাভুক্ত কৃষকের গ্রামের নাম ভুয়া, অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করা হয়নি। তবে, অধিকাংশ ব্যক্তির স্মার্ট কার্ড (জাতীয় পরিচয় পত্র) প্রদানের পরও পুরাতন কার্ডের নম্বর উল্লেখ করা ও কোন কৃষকের ব্যাংকের হিসাব না দেয়ায় কৃষি অফিসের উক্ত তালিকাটি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে।

এদিকে স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের সাথে ইউনিয়নে কর্মরত কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ভুয়া তালিকা তৈরী ও গুদামে ধান দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক কৃষকই সিন্ডিকেটের ভয়ে কথা বলতে সাহস পায় না। আবার ইউনিয়ন কৃষি অফিসারদের সাথে গোপনে যোগাযোগ করে এক হাজার টাকা দিলে তালিকায় নাম উত্তোলন করা হয় বলে হাজীপুর গ্রামের একাধিক কৃষক জানান।

প্রান্তিক কৃষকদের দাবি, যাদের জমি নেই, নেতা, ধানের পাইকারি ব্যবসায়ী, একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীসহ ৪/৫ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা ব্যক্তিরা কেউ কৃষক নয়, এছাড়া তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন অন্য জেলায় বসবাস করেন এমনকি এসব ব্যক্তিদের কৃষক কার্ড নেই, কৃষি অফিস তাদের নাম তালিকাভুক্ত করেছে অথচ ইউনিয়নের প্রকৃত কৃষকদের নাম তালিকায় নেই। ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকরা অবিলম্বে ভুয়া তালিকা বাতিল, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ ও সিন্ডিকেট বন্ধে অবিলম্বে যাচাই করে প্রকৃত কৃষকদের নাম তালিকাভুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তালিকায় নাম থাকা ভূমিহীন আশুতোষ ঘোষ জানান, আমি কৃষি কাজ করি না। এছাড়া তালিকায় আমার নাম রয়েছে আপনার কাছে প্রথম শুনলাম।
ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালিকাভুক্ত কৃষক অমেরন্দ্র নাথ ঘোষের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রকৃত কৃষক কিন্তু তালিকায় নাম আছে তা আমার জানা নেই। এছাড়া খাদ্য গুদামে আমি কখনো ধান দিই না।

সিন্ডিকেট ও অনিয়মের বিষয়ে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কিরণ¥য় সরকার সিন্ডিকেটের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, ইউনিয়নে আমিসহ আরো দুই জন উপ-সহকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে তালিকা তৈরি করেছি। যার কারণে সামান্য ভুল হতে পারে। তবে কৃষকের তালিকায় রাজনৈতিক নেতা, ধান ব্যবসায়ী, পরিবহন চালক, মাদক ব্যবসায়ী নামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ট্রেনিংএ আছি বলে ফোন বন্ধ করে দেন।

এবিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, মুলত তারাই তালিকা প্রস্তুত করে অফিসে জমা দেয়। তবে তালিকায় অনিয়ম হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
অনিয়মের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্য-শস্য ক্রয় কমিটির সভাপতি দেবাশীষ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: পত্রদূত

একই রকম সংবাদ সমূহ

নলতা রওজা শরীফের খাদেম আলহাজ্ব মৌলভী আনসারউদ্দীন আহম্মেদের করোনায় মৃত্যু

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাপসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন কালিগঞ্জেরবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী করোনামুক্ত, ফুলেল শুভেচ্ছা

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী করোনা মুক্ত হয়েবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষেবিস্তারিত পড়ুন

  • সাতক্ষীরায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ১শ’৪৬ জন রোগীর মাঝে ৭৩ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ
  • করোনা ও আম্পান: দেশবাসীর সুরক্ষায় বিরামহীন কাজে সেনাবাহিনী
  • নলতা পাক রওজা শরীফের খাদেম মৌলভী আনছার উদ্দিন’র মৃত্যুতে এমপি রবি’র গভীর শোক
  • সাতক্ষীরার সুলতানপুরে ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নতুন ড্রেণ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন
  • সাতক্ষীরায় প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে সহায়ক উপকরণ বিতরণ
  • ফাল্গুনি বস্ত্রালয়ের সত্ত্বাধিকারি আব্বাস আলির ইন্তেকাল
  • সাতক্ষীরা জেলায় আরো ২৩ জনসহ মোট ২১৫ জনের করোনা শনাক্ত
  • সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা
  • সড়ক দূর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক ইয়ারব হোসেনের খোঁজখবর নিলেন সীমান্ত প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ
  • কলারোয়ায় অসুস্থ দুই ইউপি চেয়ারম্যানের পাশে এসিল্যান্ড
  • গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসাসহ সাধারণ মানুষের সেবা কার্যক্রমে সেনাবাহিনী
  • সুন্দরবনের পুলিশের নিরাপত্তা মহড়ায় এসপি মোস্তাফিজুর রহমান