বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২০

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

দেবহাটায় ২৩ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সর্বত্র সমালোচনার ঝড়

দেবহাটায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকা একজনের থেকে আরো ২৩জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আলোচনার ঝড় চলছে। আর এতে প্রশাসনের ব্যর্থতা দাবি করে উপজেলার সর্বত্র সমালোচনা চলছে। এর সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্বাস্থ্য বিভাগকে দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ।
তবে সাধারণ মানুষের এসব অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল লতিফ।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত ১ মে নারায়ণগঞ্জ থেকে ২৪ জন ইটভাটা শ্রমিক এলাকায় আসলে তাদেরকে বাড়িতে না নিয়ে কেবিএ কলেজে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। গত ৩ মে ১০ জনের নমুনা টেস্টে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৮ জনের নমুনা পাঠানো হয় খুলনার ল্যাবে। ৫ মে তাদের একজনের পজেটিভ ও বাকি সবাই নেগেটিভ রিপোর্ট আসে।
এরপর ১৪ মে তাদের কোয়ারেন্টাইন শেষ হলে ২য় বার নমুনা সংগ্রহ করে তাদের বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দেয় উপজেলা নির্বাহী অফিস ও স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু তখনও আক্রান্ত ব্যক্তিসহ বাকিদের ২য় দফার রিপোর্ট আসেনি।

এসময় তাদেরকে বাড়িতে আরো ৪দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা বলা হয়। কিন্তু কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিরা মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরে বাজারে, দোকানপাটে, আত্মীয়তা শুরু করে দেয়। কিন্তু প্রশাসনের কোন তদারকি না থাকায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন শেষ হওয়ার পর খেয়াল খুশি মত বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়িয়েছে ঐ ২৩ জন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি।

এর মধ্যে গত ১৭ মে বিকালে ২৩ জনের পজেটিভ রিপোর্ট আসে। আর এতে ভয় আর আতঙ্ক নেমে আসে উপজেলাবাসীর মধ্যে। তড়িঘড়ি করে রাত থেকে পরিবারগুলোকে লকডাউনে রাখা হয়। তবে তার আগে ঐসব আক্রান্ত ব্যক্তিরা কতজন সুস্থ্য মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন তার হিসাব নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। তাছাড়া রিপোর্ট আসার আগে বাড়িতে পাঠানোর মতো কর্মকান্ডে হতভম্ব সারা জেলার মানুষ।

তবে সচেতন মহল বলছেন নির্বাহী অফিসার ও স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তার এমন ধরণের ভুল সিদ্ধান্তে উপজেলার অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি তাদের জীবন মরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনকি কুলিয়া, পারুলিয়া এলাকায় শাড়ি কাপড়ের দোকান গুলোতে যে পরিমান ভীড় জমছে তাতে ঈদের পরে দেবহাটায় মহামারি আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতনমহল।

একই সাথে উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ বাজার চালু থাকলেও সবগুলো হাট উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে জনসমাগম বেড়ে চলেছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদের পাশেই চায়ের দোকান ও ইফতার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের নেই কোন ব্যবস্থা।
রাস্তাগুলোতে বড় যানবাহন না থাকলেও ব্যক্তিগত ও ছোট যানবহনের চাপ রয়েছে চোখে পড়ার মত।
তাই সমগ্র উপজেলাটি লকডাউন করা না গেলে এর প্রভাব ভয়ানকভাবে বিস্তার করবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

এসব বিষয় নিয়ে সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী বলেন, ঐ ব্যক্তিদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার পর থেকে তাদের সার্বিক খোঁজ খবর নিতে থাকি। ১৪দিন পার হওয়ায় তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়। তাদের রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা না করায় এটি চিন্তার কারণ হয়েছে। তবে আমরা প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক সব রকম কাজ করে যাচ্ছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. আব্দুল লতিফ জানান, এ পর্যন্ত ৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষ হলে আইইডিসিআর ও সিভিল সার্জনের পরামর্শে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়। কিন্তু তাদের কারো শরীরে কোন উপসর্গ না থাকায় আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।

দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা জানান, করোনা প্রতিরোধে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মানুষকে ঘরে রাখতে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা রাত দিন কাজ করছে। কিন্তু এক সাথে এত জন ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি খুবই চিন্তার বিষয়। আমরা আক্রান্তদের বাড়িতে যেয়ে লকডাউন করেছি। তারা যাতে বাড়িতে অবস্থান করে সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে। এই মুহুর্তে সকলের সচেতনতার বিকল্প নেই। তাই সবাই বাড়িতে থাকুন, পরিবারকে নিরাপদ রাখুন বলে জানা ওসি।

এদিকে, এ রিপোর্ট লেখার সময় বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরিনের সরকারি সেল নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এছাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও ইউএনও’র বাসা সংলগ্ন ৫০ গজের ভিতরে চায়ের দোকান, বিভিন্ন দোকান খোলা থাকায় জনমনে আতঙ্ক কাটছে না। তাই উপজেলাব্যাপী লকডাউন করে সংক্রামন রোধ করতে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

এ ঘটনার পর দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খন্ড আকারে এলাকা ভিত্তিক লকডাউন করে দিতে থাকে এলাকাবাসী। এছাড়া নলতা, তারালি, ভাড়াশিমলা, করোনা এক্সপার্ট টিমের ৬০জন বিভিন্ন চেকপোষ্টে দায়িত্ব পালন করছেন। নলতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের লোক একযোগে দেবহাটা ও কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

খবর: পত্রদূতের সৌজন্যে।

একই রকম সংবাদ সমূহ

দেবহাটায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে খুশি ২৪পরিবার

দেবহাটায় চলতি অর্থবছরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীনবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে গণ পরিবহন চলাচল, দ্বিগুন ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ যাত্রীদের

সারাদেশের ন্যায় সাতক্ষীরায়ও আজ থেকে শুরু হয়েছে গণ পরিবহন চলাচল।বিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় করোনা পরীক্ষাগার না থাকায় বিড়ম্বনা, দ্রুত স্থাপনের দাবি

সাতক্ষীরা জেলায় করোনা পরীক্ষাগার স্থাপন না হওয়ায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেনবিস্তারিত পড়ুন

  • দেবহাটায় পিকআপের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু, পিকআপসহ চালক আটক
  • এসএসসি’তে কলারোয়া ও দেবহাটার দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাশ করেনি
  • এসএসসিতে যশোর বোর্ডের শীর্ষে সাতক্ষীরা, দ্বিতীয় খুলনা
  • দেবহাটায় গাছ থেকে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু
  • সাতক্ষীরায় আরো ৪ জন করোনা শনাক্ত, এ পর্যন্ত ৪১জন, সুস্থ ৩
  • করোনা আর আম্পানের তান্ডবে জামাইষষ্ঠীর দফারফা!
  • সাতক্ষীরার দেবনগর ও সখিপুরে আরো দু’জনের করোনা পজেটিভ
  • করোনার উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই জনের মৃত্যু
  • সাতক্ষীরার বিভিন্ন সড়কের গাছ অপসারণের নেতৃত্ব দিলো জেলা পুলিশের ২২টি টিম
  • ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাধ মেরামত করবে সেনাবাহিনী: খুলনার বিভাগীয় কমিশনার
  • ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তান্ডবে কলারোয়া লন্ডভন্ড
  • সাতক্ষীরায় ট্রাকপ্রতি আম মাত্র হাজার টাকা!