বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২০

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

হতাশা এমপিওবঞ্চিতদের

ফেরত যাচ্ছে এমপিওর ৪১৪ কোটি টাকা, আমলাতান্ত্রিক জগাখিচুড়ি

টাকা থাকার পরও যোগ্য প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় চলতি অর্থবছরের এমপিও খাতের বরাদ্দ থেকে ফেরত যাচ্ছে ৪১৪ কোটি টাকা। পুরো টাকাটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের।
অন্যদিকে সরকারের তরফ থেকে প্রতি বছর প্রতিষ্ঠান এমপিও দেওয়ার কথা বলা হলেও আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতের কোনো বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না।

এতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন এমপিওবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। শুধু তাই নয়, এমপিও নীতিমালায় অসংগতি দূর করতে দুটি কমিটি গঠন করা হলেও সেই নীতিমালা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এতে নতুন করে আবেদন নিতে পারছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবিত বাজেট রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ১১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা। যেখানে আগামী বছরের নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিও খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়নি। গত বছর এটি ছিল ২৯ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার কত তা পাওয়া যায়নি।

চলতি অর্থবছরের এমপিও বরাদ্দ ফেরত যাচ্ছে- এমন তথ্য তার কাছে নেই বলে জানান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) ও এমপিওভুক্ত নীতিমালা কমিটির প্রধান মোমিনুল রশিদ আমিন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রম্নতি অনুযায়ী প্রতিবছর নতুন এমপিও হবে এমনটাই আমরা জানি। নীতিমালা সংশোধনীর ব্যাপারে কমিটির প্রধান এই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সবকিছু প্রস্তুত। করোনার কারণে চূড়ান্ত করতে পারছি না।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্তির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ ছিল ৮৬৫ কোটি টাকা। কিন্তু এমপিও পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কুল ও কলেজের সংখ্যা এক হাজার ৬৫১। তাদের পেছনে বছরে ব্যয় হবে ৪৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। যোগ্য প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় ৪১৪ কোটি টাকা ব্যবহার করতে পারল না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে ১ হাজার ৭৯টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে বছরে ব্যয় হবে ৪৩০ কোটি টাকা। আর এই বিভাগে এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ ছিল ২৮২ কোটি টাকা। বাকি ১৪৯ কোটি টাকা চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ সাপেক্ষে সমন্বয় করা হবে বলে জানা গেছে। যদিও একশর বেশি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত এমপিও থেকে ছিটকে গেছে। যদিও তারা আপিলের সুযোগ পাবে। সর্বশেষ এসব প্রতিষ্ঠান যদি যোগ্য না হয় তবে সংশোধিত বাজেটে সমন্বয়ের টাকা আরও কমতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগকে একত্র করে এমপিও বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। আর যে পরিমাণযোগ্য প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে তাদের পেছনে বছরে ব্যয় হবে ৮৮১ কোটি টাকা। আর ২৬৬ কোটি টাকা অব্যয়িত থাকবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ১ হাজার ৯৬৭টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুই হাজার ৭৩৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৩৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫৪৪টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও ৫৫৫টি ডিগ্রি কলেজের আবেদন পড়েছিল। মোট স্কুল ও কলেজের আবেদন পড়েছিল ৬ হাজার ১৪১টি। এর মধ্যে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে ১ হাজার ৬৫১টি। বাকি ৪ হাজার ৪৯০টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিওভুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছিলেন, যেহেতু মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৪১৪ কোটি টাকা অবশিষ্ট আছে, তাই এই অর্থ দিয়ে আবার যাচাই-বাছাই করে চলতি অর্থবছরেই আবারও এমপিওভুক্ত করা হবে। সেজন্য এমপিও নীতিমালা সংশোধনের জন্য গত বছর নভেম্বরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের আলাদা দুটি কমিটি করা হয়। ছয় মাসের বেশি সময়ে এ কমিটি সংশোধনী নীতিমালা মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দিতে পারেনি। সেজন্য নতুন করে এমপিওভুক্তির আবেদন নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে অব্যয়িত ৪১৪ কোটি টাকা ফেরত যাচ্ছে।

বিষয়টি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর জগাখিচুড়ি মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
তারা বলছেন- “২০১৮ সালে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করতে বলা হয়। একবছর পর ২০১৯ সালে এমপিওভুক্তির চুড়ান্ত তালিকা ঘোষিত হয়। আবার এরও একবছর পর এমপিওভুক্ত হওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রাপ্তির প্রক্রিয়া কেবল শুরু হয়েছে। বারবার বলা হয়-‘যাচাই-বাছাই’। এছাড়াও গঠন করা নীতিমালা সংশোধনের কমিটির কার্যক্রম কতবছর লাগবে সেটা নিয়েও অনেকে হতাশাগ্রস্থ। এতো দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর জগাখিচুড়ি ছাড়া কিছুই নয়। কারণ অনলাইনে আবেদন, যাচাই-বাছাই, স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার মধ্যে এতো সময় নেয়া অবিশ্বাস্য ও অযৌক্তিক। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বিনাবেতন আর মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি আমলা ও সরকারের উচ্চ মহল অনুধাবন করতে ব্যর্থ।”
“তাছাড়া ‘যোগ্য প্রতিষ্ঠানের অভাব’এর কারণ দেখিয়ে যে শিক্ষকদের এমপিওভূক্ত করা হচ্ছে না সেই শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদেরকে আবার উপবৃত্তি দিচ্ছে সরকার-ই। ১৪মে, ২০২০ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। এর আগেও শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পেয়ে আসছে, শুধুমাত্র সম্পূর্ণ বিনা বেতনে বছরের পর বছর চাকুরি করছেন এসকল শিক্ষকরা। পাঠদান, একাডেমিক কার্যক্রম, পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম, খাতা মূল্যায়ন ইত্যাদি সকল কর্মযজ্ঞতা শিক্ষকরা সম্পন্ন করলেও বেতন দেয়ার ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে যোগ্যতা অর্জন করেনি। তাহলে কেনো এই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পাঠদান অনুমোদন, একাডেমিক স্বীকৃতি, নিয়োগ সহ অন্যান্য অনুমোদন বোর্ড বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে? নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই তো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলে। বিষয়টি শুধু সমীচীন নয় বরং সাংঘর্ষিক।”

এ ব্যাপারে নন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, এটা খুবই হতাশাজনক খবর। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গাফিলতির কারণে এমনটা হয়েছে।

তিনি বলেন, সারাদেশে এমপিওবঞ্চিত হাজার হাজার শিক্ষক বাজেটের দিকে তাকিয়ে আছেন। বাজেটের এমপিও খাতে বরাদ্দ রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

সূত্র: যায়যায়দিন।

একই রকম সংবাদ সমূহ

করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি এলেই সতর্ক করবে স্মার্টফোন!

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেই সতর্ক করবেবিস্তারিত পড়ুন

করোনার চিকিৎসায় আশা দেখাচ্ছে নতুন আরেকটি ওষুধ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। এই ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে বিশ্বব্যাপীবিস্তারিত পড়ুন

ঢাকার কুয়েত মৈত্রীতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন সাতক্ষীরার ডা. শেখর

রাজধানীর কভিড হাসপাতালগুলোতে দিন দিন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েবিস্তারিত পড়ুন

  • করোনা ও আম্পান মোকাবেলায় সাহসিকতায় মানবিক পরিচয়ে যশোর সেনানিবাস
  • ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে আসতে হবে না’
  • ৩জুন: দেশে করোনায় ৩৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৬৯৫
  • করোনা: জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ নির্দেশনা
  • সচেতন না হলে সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে: কাদের
  • দেশে নতুন আক্রান্ত ২৬৯৫, মৃত্যু বেড়ে ৭৪৬
  • ১২৫৬ জনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ
  • ২ ঘণ্টায় কাজ শেষ করলেই বাসায় যেতে পারবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
  • বেতনা নদীর ৪৪কি.মি পুন:খননে অর্থ বরাদ্দ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লুৎফুল্লাহ এমপি’র অভিনন্দন
  • মানবিক মূল্যবোধ থেকেই মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
  • ‘করোনা ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা নয়’
  • ‘লকডাউন’ শিথিলের দিন সর্বোচ্চ ৪০ জনের মৃত্যু