রবিবার, জুন ৭, ২০২০

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

আম্ফানের তান্ডব

সাতক্ষীরার বিভিন্ন সড়কের গাছ অপসারণের নেতৃত্ব দিলো জেলা পুলিশের ২২টি টিম

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মানবিক কর্মকা- এখন সর্বত্রই প্রশংসিত হচ্ছে। মহামারী করোনাভাইরাসে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে বিপন্ন জনসাধারণকে সেবা প্রদান করে জেলার মানুষের কাছে আস্থা অর্জন করেছে এ জেলার পুলিশ। সার্বক্ষণিক এ সেবা প্রদানের প্রায় আড়াই মাসের মাথায় জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেলো সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’। এ ঝড়ে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে সমগ্র সাতক্ষীরা জেলাকে।
উপকূলীয় চারটি উপজেলার কমপক্ষে ২৩টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পানিতে ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। বিধ্বস্ত হয়েছে সহ¯্রাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সাতক্ষীরার ব্রান্ড খ্যাত আমের। গাছ চাপা পড়ে মারা গেছে তিনজন। জেলার ৭ উপজেলায় সকল ছোট বড় সড়কের উপরে আছড়ে পড়ে অসংখ্য গাছপালা। বন্ধ হয়ে যায় সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা। সড়কের এসব গাছ অপসারনের জন্য সড়ক বিভাগ, ফায়ার সার্ভিজ, পৌর কর্তৃপক্ষ বা ইউনিয়র পরিষদই কাজ করে থাকে। কিন্তু এবারই ব্যাপক পরিসরে এ কাজটি করেছেন সাতক্ষীরা পুলিশ বাহিনী।
সময় ক্ষেপন না করে সেহেরীর পর সড়ক থেকে বড় বড় গাছ অপসারণ করতে কাজে লেগে পড়ে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের ২২টি টিম। বিকাল ৩টার মধ্যে সড়কে পড়ে থাকা বড় বড় গাছ অপসারণ করে সাতক্ষীরাবাসীর চলাচলের উপযোগী করে তোলেন। সাতক্ষীরায় মানবিকতার দ্যুতি ছড়াচ্ছে পুলিশ। ঝুঁকি জেনেও ঝাপ দিচ্ছেন মানুষের দুর্দিনে।
সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়ক, সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়ক, সাতক্ষীরা-খুলনা সড়ক, সাতক্ষীরা-যশোর সড়ক, সখিপুর-দেবহাটা সড়ক, সাতক্ষীরা- ভোমরা সড়ক, সাতক্ষীরা-ঘোনা সড়ক, কুমিরা-তালা সড়ক, কুল্যা মোড়-দরগাপুর সড়ক, কুল্যা মোড়-প্রতাপনগর সড়ক, আশাশুনি-ঘোলার ঘাট সড়ক, পারুলিয়া-বদরতলা-কালিবাড়ি সড়কসহ জেলার ৭টি উপজেলায় প্রায় শতাধিক গাছ অপসারণ করেছে সাতক্ষীরার পুলিশ সদস্যরা। প্রাথমিকভাবে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো থেকে আগে গাছ অপসারণ করা হয়েছে। পর্যাক্রমে জেলার সকল অভ্যন্তরীন সড়কের গাছ অপসারণ করবে পুলিশ বাহিনী। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের ফেসবুকে তথ্য চাওয়া হয়েছে। জেলার অভ্যন্তরীন সড়ক এমনকি কোন বাড়িতে যদি গাছ পড়ে থাকে সেটিও পুলিশ সদস্যরা অপসারণ করবেন।
এরআগে সুপারসাইক্লোন ‘অম্পান’ থেকে বাঁচাতে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূল এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানোর জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে পুলিশ সদস্যরা। তাদের সহযোগিতায় উপকূলের হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করায় জান-মালের ক্ষতি কমেছে অনেকাংশে।
একাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার)। এসব কাজে তিনি নিজেই ছুটেছেন জেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। নিজ হাতে বড় বড় গাছ কেটে সরিয়েছেন রাস্তার উপর থেকে। রাস্তা পরিস্কার করে উপযোগী করে তুলেছেন চলাচলের জন্য। মুহূর্তের মধ্যে সড়কের উপর পড়ে থাকা প্রায় কয়েক হাজার গাছ অপসারণ করে জেলারবাসীর কাছে প্রশংসিত হচ্ছেন পুলিশ সুপার। দুর্যোগের সময় এ মানবিকতার কারণে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল পুলিশ সদস্যদের। নতুন রুপে সাতক্ষীরার পুলিশকে দেখে এ বাহিনীর প্রশংসায় ইতোমধ্যে জেলা পুলিশের ফেসবুকের কমেন্টে অসংখ্য অভিনন্দন পেয়েছেন।
একটা সময় ছিল মানুষ শুধু মুখে মুখে নয়, প্রকাশ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানাভাবে পুলিশের নেতিবাচক কর্মকা- নিয়ে সমালোচনা করতো। কিন্তু দিন এখন বদলে গেছে, দুর্যোগে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা করে এক দিনেই এ জেলার পুলিশ এখন জনসেবার মডেল।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার) বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপির মানবিক নির্দেশনা পালন করে আমরা সর্বদা জনসাধারণের পাশে রয়েছি। এছাড়া জেলার এই চরম দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে মানবিকতা আমাকে বসে থাকতে দেয় না। মানবিক মূল্যবোধ দেশপ্রেম, মানবপ্রেম সার্বক্ষণিকভাবে আমাকে তাড়া করে, তাই আমি অবিরাম ছুটে চলছি মানব সেবায়।
তিনি আরও বলেন, সুপারসাইক্লোন ‘আম্পান’ এর সংকেত পাওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে ৮টি ইলেট্রিক করাতসহ গাছ কাটার প্রয়োজনীয় যন্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়। সেহেরী খাওয়ার পরপরই পুলিশ সদস্যরা এ কাজে লেগে পড়ে। গাছ অনেক বড় হওয়ায় সড়ক পরিস্কার করতে একটু সময় লেগেছে। তবে আমরা বিকাল ৩ টার মধ্যে পরস্কার করতে সম্ভম হয়েছি। এম্বুলেন্স বা ত্রান সহায়তা কার্যক্রম যাতে পৌছাতে পারে সে জন্যই দ্রুত সড়ক পরিস্কার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। শুক্রবারের মধ্যে অভ্যন্তরীন সড়কের সকল গাছ অপসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, করোনায় মানুষের সেবা প্রদান করতে গিয়ে ইতোমধ্যে দেশের বেশ কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু তাতেও পুলিশ থেমে নেই, আমরা জীবনের শেষ বিন্দু সময় পর্যন্ত দেশ ও জাতির সেবায় নিজেদের বিলিয়ে দেবো।
সূত্র: পত্রদূত।

একই রকম সংবাদ সমূহ

কলারোয়ায় সাংবাদিকের মোটরসাইকেল চুরি

কলারোয়ায় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা’র সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলামের মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে।বিস্তারিত পড়ুন

বদলি হয়ে চলে গেলেন কলারোয়ার নির্বাহী অফিসার সেলিম শাহনেওয়াজ

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আলহাজ্ব আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ। সৎ,বিস্তারিত পড়ুন

  • সাতক্ষীরায় প্রয়াত কমরেড মোস্তাফিজুর রহমান কাবুলের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত
  • কলারোয়ায় ফুফু’র জমি লিখে নেয়ার মামলায় ভাইপো গ্রেপ্তার
  • ভালো নেই কলারোয়ার মৃৎশিল্পীরা
  • কলারোয়ায় করোনা আক্রান্ত সকলেই দৃশ্যমান ভালো, ফলোআপ রিপোর্টের অপেক্ষা
  • কলারোয়ায় পানিতে ডুবে প্রতিবন্ধী শিশুর মৃত্যু
  • কলারোয়ায় ‘আমরা সেবক একতা সংঘ’র সূধী সমাবেশ ও কমিটি গঠন
  • বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কলারোয়ায় ছাত্রলীগের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি
  • কলারোয়ায় জগ্ননাথ দেবের স্ন্যানযাত্রা অনুষ্ঠিত
  • অভিজ্ঞতায় মহাপ্রলয়ংকারী আম্পান
  • সাতক্ষীরার গ্রাম ডাক্তার মিজানুরের মৃত্যুতে কলারোয়া গ্রাম ডাক্তার সমিতির শোক
  • করোনা আক্রান্তদের জন্য পাঠানো হলো সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সুষম ফুড প্যাকেজ
  • কলারোয়ার দেয়াড়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু