শনিবার, জুলাই ১১, ২০২০

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

সাতক্ষীরায় করোনা পরীক্ষাগার না থাকায় বিড়ম্বনা, দ্রুত স্থাপনের দাবি

সাতক্ষীরা জেলায় করোনা পরীক্ষাগার স্থাপন না হওয়ায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। নমুনা দিয়ে রিপোর্ট আসতে কয়েকদিন সময় লাগা, দীর্ঘসূত্রিতাসহ অন্যান্য কারণে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে সচেতন সাতক্ষীরাবাসীর মধ্যে।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন স্থাপনের মতো উপযোগী পরিবেশ থাকার স্বত্ত্বেও স্বাস্থ্য বিভাগের এক প্রকারের উদাসীনতার জন্য তা আলোর মুখ দেখছে না বলে অভিযোগ করেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি দ্রুত এখানে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হোক।

জানা যায়, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর মধ্যে করোনার ঝুঁকিতে আতঙ্কিত বেশি সাতক্ষীরার মানুষ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে করোনা আক্রান্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরিয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ সহ বিভিন্ন করোনা আক্রান্ত জেলা থেকে প্রায় ৪০ হাজার ( করোনা আক্রান্ত জেলা থেকে ২০ হাজার শ্রমিক, বিদেশ ফেরত বৈধ্য ও অবৈধ্যপথে প্রায় ১৪ হাজার প্রবাসী এবং ঈদ উদযাপনে প্রায় ৬ হাজার) শ্রমজীবী মানুষ ইতোপূর্বে সাতক্ষীরায় অবস্থান করেছিলেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ নানান প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে পূর্বের কর্মস্থলে ফিরেও গিয়েছেন। ইতোমধ্যে করোনার উপস্বর্গ সন্দেহে ৮৭৮ জনের স্যাম্পল গ্রহণ করে খুলনা মেডিকেল কলেজে পাঠিয়েছে জেলার কর্মরত চিকিৎসকরা। এরমধ্যে ৪৩ জনের রিপোর্ট পজেটিভ ও ৬১৫ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে; বাকি ২৬৩ ব্যক্তির রিপোর্ট চিকিৎসকরা এখনও জানতে পারেননি।
সর্বশেষ ৩১ মে পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ রোধে জেলার কলারোয়া উপজেলার ৩২, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৪২, পাটকেলঘাটা থানার ১০, আশাশুনি উপজেলার ৯, দেবাহাটা উপজেলার ৩৩, কালিগঞ্জ উপজেলার ২৩ ও শ্যামনগর উপজেলার ৩ সহ মোট ১৫২ টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছিল।
এদের মধ্যে করোনা রেজাল্ট নেগেটিভ ব্যক্তিদের বাড়ির লকডাউন তুলে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

অন্যদিকে, করোনা উপস্বর্গে জেলায় দিন দিন বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এছাড়াও উপসর্গ নিয়ে গতকাল জেলায় আরও দুই ব্যক্তি মারা যায়। এমন পরিস্থিতিতেও সাতক্ষীরায় করোনা পরীক্ষাগার স্থাপন না হওয়ায় ভোগান্তিতে রোগীর স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডাক্তার হাবিবুর রহমান জানান, গত এপ্রিলে আমরা পিসিআর মেশিন স্থাপনের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। তারা এখনও পর্যন্ত কোনো বার্তা আমাদের পাঠাইনি। আমাদের এখানে পিসিআর মেশিন স্থাপনের জন্য যে পরিবেশ দরকার তার সবগুলোই আছে। তবে বিদ্যুতের একটি সাব-স্টেশন চালু করতে না পারায় বিদ্যুতের কিছু ঘাটতি পড়তে পারে। তবে তা ওভারকাম করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, এখানে পিসিআর মেশিন স্থাপন হলে করোনা শনাক্তের জন্য আর কোনো রোগীকেও বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না। এই মহাদুর্যোগ থেকে জেলার মানুষকে প্রাণে বাঁচাতে দ্রুত একটি পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হোক আমরাও চাই।

সিভিল সার্জন ডাক্তার হুসাইন সাফাওয়াত জানান, করোনা উপস্বর্গে মৃত্যু ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও জেলায় পিসিআর মেশিন স্থাপন না হওয়ায় পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে দীর্ঘসূত্রিকা। সেজন্য স্থাপনের বিষয়ে আমিও ওপর মহলে কথা বলেছি। তবে পরিবেশগত সমস্যা, দক্ষ জনবল ও পিসিআর মেশিন সংকট দূর হলেই দ্রুত স্থাপন করতে পারে কর্তৃপক্ষ বলে জানান তিনি।

পিডিবি সাতক্ষীরার আবাসিক প্রকৌশলী জিয়াউল হক জানান, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে করোনা রোগীর শনাক্তকরণ ল্যাব স্থাপনে কোনো ত্রুটি আছে বলে মনে হয় না। সেখানে বিদ্যুৎ এর সমস্যা নেই। আমরা সরেজমিনে যেয়ে দেখে এসেছি।

তিনি আরও জানান, পিসিআর মেশিনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হলেও মেডিকেলে প্রায় ৪০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ রিজার্ভ আছে। যদি কোনো কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দোষারপ করেন তা ভিত্তিহীন।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, দেশে ২১% নাগরিক দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করলেও সাতক্ষীরায় এর চিত্র ভিন্ন। এখানে ৪৬% মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। এছাড়াও জেলার বাইরে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লক্ষ মানুষ পেটের তাগিদে কাজ করেন। তাদের মধ্যেও অধিকাংশ মানুষের শিক্ষার হার অতি নগন্য। বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির জন্য তাদেরকে নিজ নিজ জেলায় ফিরতে বাধ্য করছেন। ফলে প্রতিদিন কোনো কোনো ব্যক্তি বৈধ্য ও অবৈধপথে বাড়িতে ফিরছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বাড়িতে লাল পতাকা তুলে দিলেও তারা সামাজিক দুরুত্ব বজায় না রেখে বাইরে ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত। তাদেরকে করোনা উপস্বর্গ দেখা দিলে পরীক্ষার মাধ্যমে সচেতন করা একমাত্র পথ। কিন্তু সেই করোনা পরীক্ষাগারও নেই সাতক্ষীরায়। যার ফলে বিড়ম্বনায় রোগীর স্বজনরাও।

তিনি আরও জানান, এপ্রিলের প্রথমে করোনা পরীক্ষাগার স্থাপনের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা দাবি তুলেছিল। সেই দাবির প্রেক্ষিতে এমপি ও ডিসি করোনা পরীক্ষাগার স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরায় করোনা পরীক্ষাগার স্থাপনের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আমরা জানতে পারিনি। এমতাবস্থায় করোনা উপস্বর্গে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারও অসহায় হয়ে পড়েছে।

সেজন্য জরুরী ভিক্তিতে সাতক্ষীরায় একটি পিসিআর মেশিন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সাতক্ষীরা সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর সভাপতি পল্টু বাসার জানান, বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটি, নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ ও সাতক্ষীরা নাগরিক অধিকার উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সংগঠকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা জেলায় করোনা পরীক্ষাগার স্থাপনের দাবি করলেও করোনা পরীক্ষাগার নির্মাণের উদ্যোগ আজও নেইনি স্বাস্থ্য বিভাগ। সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরায় এখন সংক্রমণের ঝুঁকি প্রবল; সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাসে করোনা সনাক্তকরণ কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং সনাক্তকৃত রোগীদের আইসোলেসনে রাখা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এ সকল ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজের ল্যাবে পাঠানো হলেও ফলাফল পেতে বিলম্ব হচ্ছে।

তাই, করোনার সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য অনতিবিলম্বে উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের কাছে পিসিআর মেশিন স্থাপনের দাবি করেন তিনি।

সাবেক ফিফা রেফারী তৈয়ব হাসান জানান, আমাদের জেলায় কোনো করোনা পরীক্ষাগার নেই। জেলা সদর থেকে পৃথক যেসব এলাকা রয়েছে তার মধ্যে গাবুরা অন্যতম। জেলা শহর থেকে গাবুরায় যেতে প্রায় ৩ ঘন্টা সময় লেগে যায়। কয়েকদিন আগে জেলার উপকূলীয় এলাকার মানুষ ঘূর্ণিঝড় আম্পানে দ্বারা ব্যাপক ক্ষতিগস্তের স্বীকার হয়েছে। এমনকি আম্পানের প্রভাবে নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমি, মৎস্য ঘের, রাস্তা ও মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। এরমধ্যে করোনা সন্দেহ কোনো ব্যক্তি পরীক্ষা করতে চাইলে তাকে পার্শ্ববর্তী জেলা খুলনা যেতে হবে। সাতক্ষীরা সদর থেকে খুলনায় যেতে প্রায় ২ ঘন্টা সময় লাগে। সেখানে যেয়ে কোনো ব্যক্তির পক্ষে এখন করোনার সংক্রমণ পরীক্ষা করতে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। এমতাবস্থায় সাতক্ষীরায় একটি পিসিআর মেশিন স্থাপন জরুরী হয়ে পড়েছে। মেশিনটি স্থাপন করা হলে জেলার মানুষ যেমন দ্রুত পরীক্ষার মাধ্যমে ফলাফল পাবে তেমনি তাদের সময়ক্ষেপণ হবে না।

তাই, জরুরী ভিক্তিতে পিসিআর মেশিন স্থাপনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

নাগরিক নেতা ফাহিমুল হক কিসলু জানান, জেলার অধিকাংশ মানুষ এখন করোনা উপস্বর্গে আক্রান্ত। কোনো ল্যাব না থাকায় সংক্রমণের নমুনা পরীক্ষা করতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। আমরা বহুবার দাবিও তুলেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনও বিষয়টির কোনো সুরাহ করেননি। আশাকরি দ্রুত সমাধেন চেষ্টা করবেন স্বাস্থ্যবিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। দিনের পর দিন জেলায় বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা; তা নিয়ে সকল উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করলেও করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পরীক্ষাগার স্থাপনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি স্বাস্থ্যবিভাগের কোনো কর্মকর্তারা। আমরা চাইবো অনতিবিলম্বে যেন করোনা রোগীদের শনাক্তের জন্য নির্ধারিত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১০০ শয্যা হাসপাতালেই ল্যাব স্থাপন করা হয়।

খবর দৈনিক পত্রদূতের সৌজন্যে।

একই রকম সংবাদ সমূহ

১১জুলাই: যবিপ্রবির ল্যাবে ৬০ জনের করোনা পজিটিভ, সাতক্ষীরার ১৫ জন

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে ১১ জুলাই,বিস্তারিত পড়ুন

অসুস্থ সাংবাদিক ইয়ারবের সুস্থতা কামনা কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের

সড়ক দূর্ঘটনায় আহত দৈনিক মানবজমিনের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক ইয়ারববিস্তারিত পড়ুন

সাহারা খাতুন এমপি’র মৃত্যুতে কলারোয়া আ.লীগ নেতৃবৃন্দের শোক

আওয়ামীলীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাড. সাহারা খাতুন এমপি’র মৃত্যুতেবিস্তারিত পড়ুন

  • সাতক্ষীরায় আরো ৩১ জন করোনা শনাক্ত, এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত ৩২৪ জন
  • কলারোয়ায় যাতায়াতের পথ বন্ধ রেখে বিল্ডিং নির্মাণের অভিযোগ
  • একই পরিবারের ৪জনসহ কলারোয়ায় আরো ৭জনের করোনা শনাক্ত
  • কলারোয়ার বালিয়াডাঙ্গায় ডাচ্ বাংলা ব্যাংক এজেন্ট কেন্দ্রের উদ্বোধন
  • সাতক্ষীরা জেলায় আরো দুই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশসহ ২৪ জন করোনা শনাক্ত
  • এইচএসসি-২০২০ নিয়ে পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা
  • কলারোয়ার চন্দনপুরে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
  • কলারোয়ায় করোনা শনাক্ত আরো ৪ ব্যক্তি ।। বর্তমানে আক্রান্ত ২৪, মুক্ত’র পথে কয়েকজন
  • মাদক ও চোরাচালানের নিরাপদ রুট কলারোয়া! দুই সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ মাদক, স্বর্ণ, রুপা উদ্ধার
  • কলারোয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী শিশু তামান্নার মৃত্যু বার্ষিকী
  • কলারোয়া পৌর এলাকায় স্বল্পবৃষ্টিতে সড়কে জলাবদ্ধতা: দেখবে কে?
  • কলারোয়ায় সদ্যপ্রয়াত হামিদ চেয়ারম্যানের স্ত্রীসহ আরো ৫ জনের করোনা শনাক্ত ।। বর্তমানে আক্রান্ত ২০