বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ বন, অস্তিত্ব সস্কটে বন্যপ্রাণী

বনের সৌন্দর্য্য পশু-পাখি। অথচ সেইসব পশু-পাখি আজ খাদ্যঘাটতি, বনউজাড়, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় আইনের উপযুক্ত বাস্তবায়নের অভাবে বিলুপ্ত হতে শুরু করেছে। গ্রামে জনবসতি স্থাপন, আবাদি জমি তৈরি ও মিল, কারখানা নির্মাণ করতে বন-জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করায় আগের মতো ঝোপঝাড়ের দেখা মেলে না। ফলে গ্রামীণ বনের দেখা তেমন পাওয়া যায় না। জঙ্গল পরিষ্কার করায় দেশীয় বৃক্ষ, লতাপাতা ও বনজ ঔষধি গাছ যেমন হারিয়ে যাচ্ছে, তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে সেখানে আবাস করা বন্যপ্রাণী ও পাখি।

বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতে কালো রঙের ফিঙেরা সারা দিন পোকা ধরে খেয়ে ফসলের ক্ষেতে কীটের আক্রমণ কমিয়ে রাখে। এতে কৃষকের ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহার করার তেমন প্রয়োজন হয় না। এই ফিঙেদের একমাত্র আবাসস্থল প্রামীণ বন ও ঝোপঝাড়। বর্তমানে প্রামীণ বন ও ঝোপঝাড় কমে আসায় তাদের সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। গ্রামীণ ঝোপঝাড় কমে আসায় শুধু ফিঙেরা নয়, ক্ষেতের ইঁদুর দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নানা প্রজাতির সাপ, শিয়াল, বেজি, বড় পাখির সংখ্যাও কমে আসছে। ফলে কৃষি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। উৎপাদন ঠিক রাখতে প্রয়োগ করা হচ্ছে কীটনাশক ও ইঁদুর মারার বিষ। আর এসব বিষ প্রয়োগের ফলে কীট-পতঙ্গসহ বন্যপ্রাণী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। এতে একদিকে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ ও অপর দিকে ধ্বংস হচ্ছে প্রাণীকূল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বন্যপ্রাণী সুস্থ ও সঠিক সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন দুর্যোগে বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য কার্যক্রম ঘোষণা করেছিল। এছাড়াও বর্তমান সরকার ‘সাউথ এশিয়া ওয়াইল্ডলাইফ এনফোর্সমেন্ট’ নামক একটি নেটওয়ার্কে ৮টি দেশের সাথে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও পাচার ঠেকাতে একযোগে কাজ করার কথাও ঘোষণা করেছে। কিন্তু এইসব কার্যক্রমের সক্রিয়তা আদতেও শুরু হয়েছে কিনা তা দেখা যায় নি।

সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলায় বন্যপ্রাণী ও পাখি সংরক্ষণেরর এক কর্মকতা জানান, প্রতিটি গ্রামেই বন বা ঝোপঝাড় কমে গেছে। গ্রামে ঝোপঝাড় থাকলে বিলুপ্তপ্রায় পাখি ও বন্যপ্রাণী সেখানে আশ্রয় নেয়। সেগুলো ক্ষেতের পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। একটি ফিঙে পাখি সারা দিনে ফসলের ক্ষতিকারক অনেক পোকামাকড় ধরে খায়। যেমন ফিঙের খাবার ঘাসফড়িং, হলুদ মাজরাপোকা, পাতাফড়িং, পামরি পোকা। এতে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি কীটনাশকের অতিরিক্ত খরচ থেকে রেহাই পান কৃষক। কিন্তু মানুষের মধ্যে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে আবাদ করা তাই আশ্রয় নষ্ট হচ্ছে। যার ফলে ওইসব প্রাণী ও পাখিগুলো দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে। গ্রামীণ ঝোপঝাড় ধ্বংস হওয়ায় সেখানে থাকা বিপন্নপ্রায় পাখি ও অন্য প্রাণীগুলোর খাদ্য বা পরস্পর নির্ভরশীলতা ভেঙে পড়েছে। মারা পড়ে উপকারী প্রাণী। যে পাখি কীটপতঙ্গ খেয়ে কৃষকদের উপকার করত, সেই পাখি কমে আসায় কীটপতঙ্গ ও নিত্যনতুন রোগ-বালাইয়ের কারণে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। সেগুলো প্রতিরোধে কীটনাশক ও বালাইনাশক প্রয়োগ করতে গিয়ে কৃষকের খাদ্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বিষাক্ত হচ্ছে খাদ্য, কমছে পুষ্টিগুণ।

তিনি আরো জানান, গ্রামীণ বনে ফিঙে, শালিক, ডাহুক, ঘুঘু, কেচকেচি, বক, দোয়েল, টুনটুনি, বাবুই, বুলবুলি, হুতুম পেঁচাসহ নানা পাখি বাস করে। সেই সাথে শিয়াল, বেজি, নানা প্রজাতির সাপ, ইঁদুর, বনবিড়াল, গুইসাপ, কচ্ছপ, গন্ধগোকূলসহ নানা প্রাণী বাস করে। যারা কৃষি পরিবেশের বাস্তুসংস্থানে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও বনে পেয়ারা, খুদিজাম, জামরুল , আমড়া, ডেউয়াসহ নানা ফল উৎপাদন হয়। আছে ঔষধি গাছও। ২০১০ সালে প্রাণী বিজ্ঞানীদের হিসাবে দেশে ১০৫৯ প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে। তার মধ্যে ৪২টি উভচর, ১৫৭ সরীসৃপ, ৭৩৬টি পাখি ও ১২৪টি স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। যার মধ্যে ৩৯০টিই কোনো না কোনোভাবে হুমকির মুখে আছে। এর মধ্যে সঙ্কটাপন্ন বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে ৩০৯ প্রজাতি। সে হিসেবে বাংলাদেশে প্রাণীদের মধ্যে ১৯ শতাংশই বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে।

গাছ প্রেমিক শফিকুলের সাথে কথা হলে তিনি কলারোয়া নিউজকে জানান, গ্রামীণ বন ধ্বংস হওয়ায় বাস্তুতন্ত্রের বৈচিত্র্যে শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রকৃতিতে এই বৈচিত্র্য-শূন্যতা বাড়তে থাকলে প্রতিটি প্রাণীর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। গ্রামীণ ঝোপঝাড় ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক ও জালের ব্যবহারসহ শিকারের কারণে গ্রামীণ বন্যপ্রাণী কমে যাচ্ছে। আর এসব সংরক্ষণ করতে হলে অবশ্যই সরকারের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ ঝোপ-জঙ্গল সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বন্যপ্রাণীদের রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। বন্যপ্রাণীদের রক্ষায় তাদের রয়েছে বিভিন্ন আইন ও কার্যক্রম। তাদের অধীনেই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ পাস হয়েছে।
এ মন্ত্রণালয়ের আইনে রয়েছে, বন্যপ্রাণী হত্যা ও বন্দি করলে বিভিন্ন শাস্তিমূলক আইন। কিন্তু এসব আইন থাকার পরও উপযুক্ত বাস্তবায়নের অভাবে তারা বন্যপ্রাণীদের খাদ্য ও বাসস্থলের নিরাপত্তা দিতে অক্ষম।
তবে এভাবে চলতে থাকলে এক দিন বন্য প্রাণী সম্পদ ধ্বংসের সুমুখীন হবে বলে জানিয়েছে অনেকেই।

একই রকম সংবাদ সমূহ

কলারোয়ার কাজীরহাটে ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে সুলতানপুর

কলারোয়ার কাজীরহাটে ৮দলীয় বন্ধন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে সুলতানপুর ফুটবল একাদশবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ার গোয়ালচাতর বাজারে টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের উদ্বোধন

বাজার মূল্য সহনশীল রাখতে কলারোয়ার গোয়ালচাতর বাজারে টিসিবির পণ্য ন্যায্যবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়া সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিদায় সম্মাননা

কলারোয়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী হুমায়ুন কাদিরকে বিদায় সম্মাননাবিস্তারিত পড়ুন

  • কলারোয়ার কেরালকাতা ও কেঁড়াগাছিতে দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ
  • সাতক্ষীরায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১১
  • কলারোয়ায় মহিলাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক ॥ ইয়াবা উদ্ধার
  • কলারোয়ায় জাপা নেতার মায়ের ইন্তেকাল ।। দাফন সম্পন্ন
  • কলারোয়ায় ‘বেগম রোকেয়া দিবস ও জয়িতাদের সংবর্ধনা’
  • সাতক্ষীরা জজ কোর্টের এপিপি এড.আশরাফুল আলমের শাশুড়ীর মৃত্যু
  • কলারোয়ার লাঙ্গলঝাড়া বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন
  • কলারোয়ার কাজীরহাটে ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে শার্শার বাইকোলা
  • কলারোয়ার জয়নগর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে জয়দেব সাহা
  • কলারোয়ায় হত-দারিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ
  • কলারোয়ায় অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ
  • কলরোয়ায় আন্ত:সীমান্ত মানব পাচার প্রতিরোধে আলোচনা সভা