
হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : অতিমাত্রার ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঝাঁপা বাওড়ের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাওড়ের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন খাল দিয়ে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ছোট-বড় বিপুল পরিমাণ মাছও বেরিয়ে যাচ্ছে। এ সুযোগে স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ খালগুলোতে জাল পেতে নির্বিচারে মাছ শিকার করছেন। এতে বাওড় ইজারাদার কর্তৃপক্ষের প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে ঝাঁপা বাওড়ের সঙ্গে সংযুক্ত মানিকগঞ্জ খালসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়- খালের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মানুষ খেপলা জাল, কারেন্ট জাল ও অন্যান্য উপায়ে মাছ ধরছেন। অনেকেই পানিতে নেমে মাছ শিকার করছেন। বাওড় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য- টানা ভারি বৃষ্টিতে বাওড়ের পানি বৃদ্ধি পেয়ে মানিকগঞ্জ খাল, মোবারকপুর-ছোট মনোহরপুর খাল, ঝাঁপার পাড়ের খালসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০টি সংযুক্ত খালে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই পানির সঙ্গে বাওড়ের মাছও বেরিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে- বর্তমানে সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে মোবারকপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড ঝাঁপা বাওড় পরিচালনা করছে। সমিতিটি প্রতিবছর ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে বাওড়টি ইজারা গ্রহণ করে মাছ চাষ করে থাকে। কিন্তু গত দুই দিনের অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ মাছ বাওড় থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় সমিতি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ঝাঁপা বাওড় পরিচালনা কমিটির নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রশীদ বলেন- অতিমাত্রার বৃষ্টিপাতের ফলে বাওড়ের পানি বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত পানি সংযুক্ত খালগুলো দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মাছ সহজেই বেরিয়ে যাচ্ছে। মানুষ বিভিন্ন ধরনের জাল ব্যবহার করে অবাধে সেই মাছ শিকার করছে। এতে আমাদের প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন।
মোবারকপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. আব্দুর রউফ বলেন- ঝাঁপা বাওড় শুধু আমাদের সমিতির সম্পদ নয়, এটি সরকারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয়ের উৎস। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট এই ক্ষতি মোকাবিলায় উপজেলা ও জেলা মৎস্য বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
সমিতির সম্পাদক মো. আব্দুর রব বলেন- বাওড়ের মাছ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। সংযুক্ত খালগুলোতে প্রয়োজনীয় নজরদারি, মাছ বের হওয়ার পথ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মোবারকপুর মংস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড উপজেলা ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তার জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ঝাঁপা বাওড়ের মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]