
রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান যেমন কঠোর, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও একইভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণবিষয়ক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে সভায় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির কোনো নেতা বাধা হয়ে দাঁড়ালেও তা আমলে নেওয়া হবে না। অপরাধ দমনে প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছিলেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের পদক্ষেপে ওই নেতার এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই।
বাক্স্বাধীনতার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মানুষের মতপ্রকাশ, কথা বলা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তবে হলুদ সাংবাদিকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্রহনণের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের দাবিও বিভিন্ন মহল থেকে এসেছে।
সাইবার আইন ২০২৬ সংশোধনের উদ্যোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত একটি সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছিল। মানুষের বাক্স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সাবকমিটিতে পাঠিয়েছেন।
পরে সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে জনপরামর্শের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হবে।
সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে ঢাকায় সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। এ ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিচার বিভাগের সংস্কার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক ও শহীদ মাহমুদ হোসেনসহ কয়েকজন বিচারকের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমানে সরকার বিচারব্যবস্থা মেরামতের কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে। বিচার বিভাগের সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবার সহযোগিতা ও আস্থা প্রয়োজন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার প্রতিশোধের রাজনীতির পথে না গিয়ে জনগণের সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সরকারি দলের নেতা-কর্মীদেরও একই নীতি অনুসরণ করতে হবে।
এর আগে সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। সেখানে তিনি বিচার বিভাগের স্থানীয় বিভিন্ন সংকটের কথা শোনেন এবং সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ ভাগে বিকেল ৩টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]