
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেংগুড়াহাট-রাজগঞ্জ সড়কে অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর চালকদের দিয়ে ট্রাক্টর চালিয়ে মাটি পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার মাছের ঘেরের মাটি প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক্টরে করে বহন করা হচ্ছে এই সড়ক দিয়ে। এতে একদিকে যেমন সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ ও সড়কের ক্ষয়ক্ষতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ওই সড়ক দিয়ে নিয়মিতভাবে ট্রাক্টরে করে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। অধিকাংশ ট্রাক্টরের চালকই কিশোর বয়সী এবং তাদের কারোর কোনো ধরনের ড্রাইভিং দক্ষতা বা বৈধ লাইসেন্স নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্রুতগতিতে ট্রাক্টর চলাচলের কারণে পথচারী, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছেন।
রাজগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রাক্টরের যাতায়াত লেগেই থাকে। যারা চালাচ্ছে তাদের বেশিরভাগই অল্প বয়সী ছেলে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “ট্রাক্টর থেকে মাটি পড়ে পুরো রাস্তা ধুলাবালিতে ভরে যাচ্ছে। দোকানে বসা দায় হয়ে গেছে। ধুলার কারণে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।”
নেংগুড়াহাট এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, “মাটি বহনের সময় ট্রাক্টরগুলো অতিরিক্ত বোঝাই করে চলাচল করে। ফলে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে মাটি পড়ে পিচঢালা সড়ক নষ্ট হচ্ছে। বর্ষাকালে এসব স্থানে কাদা জমে যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।”
একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বেপরোয়া ট্রাক্টর চালানোর কারণে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে ভারী যানবাহন চালানো সড়ক পরিবহন আইনের পরিপন্থী। একই সঙ্গে সড়কের ওপর মাটি ফেলে পরিবেশ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করাও দণ্ডনীয় অপরাধ। তারা দ্রুত প্রশাসন, সড়ক বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের মাধ্যমে ট্রাক্টর চালানো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার পাশাপাশি সরকারি সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]