
জোর পূর্বক জমি দখলের চেষ্টা ও অসহায় পরিবারের দুই বিঘা জমির পাকা সরিষা ফসল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ জানুয়ারি সকালে যশোরের কেশবপুর উপজেলার চাঁদড়া গ্রামে। জানা গেছে-কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের আবুল কাশেম, ইউনুস, তাসের উদ্দীন, হাসেম উদ্দীন ও রসুলপুর গ্রামের মোস্ত রিফুজীর ছেলে হাফিজুর এরা শতাধিক লোকজন নিয়ে এসে চাঁদড়া গ্রামের অসহায় ভ্যান চালক নুরুল ইসলামের দুই বিঘা জমির পাকা সরিষা ক্ষেত থেকে কেটে নিয়ে গেছে বলে নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন। যার মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। আবুল কাসেম ও নুরুল ইসলাম সম্পর্কে খালাতো ভাই। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়- নুরুল ইসলামের বাড়ির সামনের ১০২ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে আবুল কাশেমদের সাথে। এই বিরোধের জের ধরেই দুই বিঘা জমির পাকা সরিষা ফসল জোর পূর্বক কেটে নিয়ে গেছে আবুল কাশেম গং। এসময় নুরুল ইসলামরা বাধা দিতে গেলে কাশেম গং তাদের উপর হামলা ও মারপিট করে। এতে মোন্তাজ আলী সরদারের স্ত্রী কমলা বেগম (৪৫), আজগার আলী সরদারের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৩৫), মিজানুর রহমানের স্ত্রী নারগিজ বেগম (৩৫), হাসানুর রহমানের স্ত্রী শারমিন খাতুন (৩৫), রোজিনা বেগম (৮০), তরিকুল ইসলামের স্ত্রী মৌসুমি খাতুন (৩০)সহ প্রায় ১০জন মহিলা আহত হয়। এরা ওই সময় কেশবপুর উপজেলা হাসপাতাল ও যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এছাড়াও প্রায় ৬ মাস আগে ওই জমিতে থাকা ৮টি মেহগনি, ১২টি শিশু ও ৮টি নারিকেল গাছ জোর পূর্বক কেটে নিয়ে গেছে। যার মূল্য প্রায় ২ লক্ষ টাকা। স্থানীয় মোমরেজ সরদার (৯০) জানান- আবুল কাশেমরা আমাদের কাছে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় কাশেমরা আমাদের এই জমি দফায় দফায় দখলের চেষ্টা করে। মোন্তাজ আলী সরদার জানান- কাশেমরা বিভিন্ন সময় আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এতে আমরা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তারা বিভিন্ন সময় লোকজন নিয়ে এসে জমি নিজের দাবি করে দখলের চেষ্টা করে এবং আমাদের মারপিট করে। অভিযোগের বাদী নুরুল ইসলাম বলেন- আমরা অসহায় বলে আমাদের উপর একেরপর এক অত্যাচার করছে কাশেমরা। তারা আমাদের জমি দখল নিতে চাই। এজন্য বিভিন্ন সময় আমাদের উপর হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমরা অসহায় হওয়ায় আমাদের উপর নির্যাতন করছে তারা। এঘটনায় ১৩জনকে স্বাক্ষী রেখে, ৫জনকে আসামী করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেশবপুর আমলী আদালত যশোরে নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মোকদ্দমা করেছে। যার ধারা ৩৮৫/ ৩৮৬/ ৩৮৭/ ১০৯। আমরা প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার দাবী করছি। অভিযুক্ত আবুল কাশেম জানান- ওই জমিতে আমাদের সরিষা লাগানোর পর ওরা লাগিয়েছে। আমরা, আমাদের সরিষা কেটে নিয়ে এসেছি। এসময় গোন্ডগোল হয়েছিলো।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]