
দুই বছর বন্ধ থাকার পর ২০ দিনব্যাপী আয়োজন শেষে আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলা। তবে মেলার দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা খুলে সরিয়ে নিতে আয়োজকদের কিছুটা সময় দেওয়া হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সময় বাড়ানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ।
জেলা প্রশাসক বলেন, মেলার সময় বাড়াচ্ছি না। এখন একটু সময় লাগবে এগুলো ভেঙে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তারা এইটুকু সময় চেয়েছে। তারা আস্তে আস্তে খুলে নিয়ে যাবে। তবে আমরা অফিসিয়ালি কোনো সময় বাড়াচ্ছি না।
তিনি আরও বলেন, মেলার আয়োজকরা আমাকে বলেছেন, এত বড় একটা আয়োজন করেছি স্যার, এগুলো খুলতে তো আমাদের একটু সময় লাগবে। এটুকু সময় যেন আমাদের দেওয়া হয়। অনেক সময় পুলিশ বা মোবাইল কোর্ট দিয়ে ভেঙেচুরে দেওয়া হয়। আমরা ওইটা করব না। তারা আস্তে আস্তে গুছিয়ে নিয়ে যাবে। তারা বলছে, এই সরকারি ছুটির মধ্যেও তারা সরিয়ে ফেলবে।
গত ১ অক্টোবর সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী এ মেলা। দুই বছর বন্ধ থাকার পর মেলা আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। মেলায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য, খেলনা, খাবার ও ঘরোয়া সামগ্রীর দোকান বসে। পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলা ঘুরে দেখেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও ইট ভাড়াসহ বিভিন্ন খরচ বহন করতে হয়েছে তাদের। এসব খরচের পরও বেচাকেনা মোটামুটি ভালো হয়েছে বলে তারা আশা করছেন। তবে মেলার কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, মেলাকে ঘিরে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, ৩০০ থেকে ৪০০ বছর আগে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় একটি প্রাচীন বটবৃক্ষের নিচে মনসা পূজাকে কেন্দ্র করে এ মেলার সূচনা হয়। ঐতিহাসিক গুড় পুকুরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের সমাগম, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, কেনাবেচা ও বিনোদনের আয়োজন ধীরে ধীরে বড় পরিসরের মেলায় রূপ নেয়।
দীর্ঘদিন ধরে গুড় পুকুরের মেলা সাতক্ষীরার লোকজ ঐতিহ্য ও সামাজিক মিলনমেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। দুই বছর বিরতির পর এবার মেলা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহ্য আবারও ফিরে এসেছে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সমাপ্তি হলেও আয়োজকদের অনুরোধে দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হচ্ছে। তবে এ সময়কে মেলার আনুষ্ঠানিক মেয়াদ বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচনা করছে না জেলা প্রশাসন।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]