
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে বিশাল র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার এই রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।উক্ত র্যালি ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন—পৌর জামায়াতের আমীর মো. জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারী খোরশেদ আলম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন, সেক্রেটারী মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ হাসানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ।
এছাড়াও সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ ওলামা-জনতা অংশ নেন। বক্তারা শহীদ আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য,আবু সাঈদ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।ঐদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ বাঁধে। একপর্যায়ে আবু সাঈদ দুহাত প্রসারিত করে বুক পেতে একা পুলিশের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। তার হাতে ছিল কেবল একটি লাঠি। পুলিশ অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক রাবার বুলেট ও শটগানের গুলি ছোঁড়ে।বুলেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আবু সাঈদ।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বুক পেতে পুলিশের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সেই ভিডিও ও ছবি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন তীব্র গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আবু সাঈদ পরিণত হন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম ও অন্যতম প্রধান প্রতীকে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]