আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের একসরা সুইচগেট সংলগ্ন খাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। রোববার দুপুরে আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্ব ইউপি সদস্যদের সাথে নিয়ে এখালের অবৈধভাবে নেট পাটা অপসারণ ও যাতে লবণ পানি না উঠতে পারে তার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে আটকে দেওয়া হয়। লবণ পানি না উঠলে ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য খালের পানি দিয়ে সাত মৌজার প্রায় তিন হাজার বিঘা জমিতে বছরে দুবার ধান চাষ, সবজি চাষ সহ জলাবদ্ধতা হাত থেকে নিরসন পাবে বলে জানান এলাকাবাসী।
বল্লবপুর গ্রামের কালাম ঢালী, সাধন দাস, দুলাল দাস, শফিকুল মোড়ল, কেয়ামত আলী জানান এলাকার একটি কুচক্রী মহল একসরার খালে অবৈধভাবে নেট পাঠা বসিয়ে মাছ চাষ করে আসছিল। শুধু তাই নয় প্রতিবার বৃষ্টির সময় গেটের মুখে অবৈধভাবে বাঁধ আটকে দেওয়ার কারণে অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হত। ফলে ১০ টি গ্রামের মানুষ আমন চাষ থেকে বঞ্চিত হতো। এ বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনের উদ্বোধন কর্মকর্তাদের জানানোর পরেও কোন লাভ হয়নি। আজ ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে খালের পাটা অপসারণ করা হলো।
আনুলিয়ার ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম শহীদ ও কামাল হোসেন গাজী জানান, ইউনিয়নের একসরা , মির্জাপুর বল্লভপুর, বাসুদেবপুর, পাইকপাড়া, রাজাপুর ও আনুলিয়া মৌজার তিন হাজার বিঘা জমি জলাবদ্ধতার কারণে আউশ, আমন ও বোরো ধান চাষ করা সম্ভব হয় না। এলাকার মানুষ ধান চাষ না করতে পেরে অনেকেই এলাকা ছেড়ে কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন ইট ভাটায় চলে গেছেন। এসব এলাকার অধিকাংশ পুরুষ মানুষ বাড়ি ছাড়া। তাই এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে যাতে ধানের পাশাপাশি সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারে এজন্য খালটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। তারা আরো জানান উত্তর একসরা গ্রামের ইউনুস ঢালী ও আহসান হাবীব এর নেতৃত্বে অবৈধ ভাবে নেট পাঠা বসিয়ে মাছ চাষ করে আসছিল তারা।
আনুলিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস জানান, একসরা খালটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে আমি আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে একাধিকবার উপস্থাপন করেছি। নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় আমাকে আশ্বাসও দিয়েছেন। তাই শত শত জনগণের সাথে নিয়ে আজ সকালেই নেট পাঠা অপসারণসহ গেটের মুখের পাট বন্ধ করে জনগণের জন্য খালটি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন খালটি ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য। যে দল যখন ক্ষমতায় আসে তখন এই খালটি জবর দখল করে মাছ চাষ করে তারা। আমি ক্ষমতায় আসার পর জনগণের দিকে তাকিয়ে এটি উন্মুক্ত করেছি। যাতে মানুষ নিজের জমিতে ফসল লাগিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। তবে কেউ যদি পুনরায় দখল করে মাছ চাষের চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় বলে তিনি জানান।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]