
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের জন্য ‘লায়ন’স রোয়ার’ নাম ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই এই নাম চূড়ান্ত করেছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। এর আগে অভিযানের জন্য ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) অভ্যন্তরীণভাবে ভিন্ন একটি নাম ব্যবহার করছিল।
ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা দেওয়ার অংশ। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘লায়ন’স রোর’ বা সিংহের গর্জন— এই নামের মাধ্যমে শক্তি, প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং আক্রমণাত্মক অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইরানকে লক্ষ্য করে চালানো সর্বশেষ অভিযানের নাম ছিল ‘রাইজিং লায়ন’। নতুন নামের সঙ্গে আগের অভিযানের নামের মিল থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েল একই ধারাবাহিক সামরিক বার্তা ধরে রাখতে চাইছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সিংহকে শক্তি ও আধিপত্যের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়— এই বাস্তবতাকেও কাজে লাগানো হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মত।
সরকারি বিবৃতিতে অভিযানের বিস্তারিত লক্ষ্য বা সময়সূচি প্রকাশ করা না হলেও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ে তেলআবিবের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের।
নাম পরিবর্তনের ঘটনাটি ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টিও সামনে এনেছে। সাধারণত আইডিএফ নিজস্ব কোডনেম নির্ধারণ করলেও এই ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, অভিযানটি শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে তেহরান অতীতের মতোই এ ধরনের পদক্ষেপকে জবাব দেবে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]