
ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ধাপের নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের সংশোধন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ওই সংশোধনী বিল আকারে উত্থাপন করেনি সরকার।
কমিশন মনে করছে, প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে না। ফলে শিগগিরই এ আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাশ হচ্ছে না। অপরদিকে সংসদ কার্যকর এবং শক্তিশালী বিরোধী দল মাঠে থাকায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে অধ্যাদেশ আকারে এ সংশোধনী সরকার পাশ করবে কিনা-তা নিয়েও সন্দিহান কমিশন।
এই অবস্থায় প্রথম ধাপের নির্বাচনের আগে ইসির প্রস্তাবিত আইনের সংশোধনী পাশ করা না হলে সরকারকে চিঠি দেওয়ার চিন্তা করছে কমিশন। ওই চিঠিতে বাকি ধাপের ভোট শেষ হওয়ার আগে সংশোধনী পাশ না করার অনুরোধ করা হতে পারে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে এ বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও হয়েছে।
ইসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘আইনের সংশোধনী পাশ না হলে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার আইনগত সুযোগ নেই। কারণ হিসাবে তারা বলেন, স্থানীয় সরকার আইনগুলোতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মকর্তা/কর্মচারীর পদকে লাভজনক পদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১১.১৭(ক) ও (খ) এর মতে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক পদে বা চাকরিতে বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। লাভজনক পদ বলতে যেসব পদকে বোঝানো হয়েছে সেসব পদে স্থানীয় সরকারের কোনো পদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এছাড়া রিট পিটিশন নং ৬৩৬৬/২০০৯-এর মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ পৌরসভার মেয়র পদকে লাভজনক পদ হিসাবে ব্যাখ্যা করেনি। এমনকি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্থানীয় সরকারের অন্যান্য পদকে লাভজনক পদ হিসাবে ব্যাখ্যা করা এখতিয়ারবহির্ভূত হিসাবে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা সব নির্বাচনের জন্য একই আইন চাই। এক নির্বাচনে এক ধরনের আইন, আরেক নির্বাচনে অন্য ধরনের আইন প্রণয়ন করা হলে বৈষম্য তৈরি হবে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নের সৃষ্টি হবে।’
জানা গেছে, নির্বাচন কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য যাচাই করে ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা তৈরি করেছে ইসি সচিবালয়। দেশের চার হাজার ৫৮০টির মধ্যে চার হাজার দুইশর বেশি ইউপি নির্বাচন উপযোগী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে ভোট আয়োজনের উপযোগী ইউপির সংখ্যা তিন হাজার নয়শর বেশি।
প্রায় পাঁচশ ইউনিয়ন পরিষদের ভোট করার মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এবার কমিশন এক উপজেলার নির্বাচন উপযোগী সবকটি ইউপিতে একইদিনে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। প্রথম ধাপে পাঁচ থেকে সাতশ ও দ্বিতীয় ধাপে নয়শ থেকে এক হাজার ইউপিতে ভোটগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। শেষের দিকের ধাপগুলোতে তুলনামূলক কম সংখ্যক ইউপি রাখা হচ্ছে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]