
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সম্প্রতি অসুস্থ ও সন্দেহজনক আচরণ করা কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধে পৌরসভার উদ্যোগে কুকুরের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কলারোয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের উদ্যোগে রবিবার থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুরের টিকাদানের মূল উদ্দেশ্য হলো জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করা। এটি কোনো বিষনাশক বা কুকুরকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘বিষমুক্ত’ করার ওষুধ নয়। ভ্যাকসিন কুকুরের শরীরে জলাতঙ্ক ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করে। ব্যাপকসংখ্যক কুকুরকে নিয়মিত টিকা দেওয়া হলে কুকুর থেকে মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কোনো এলাকায় কুকুরের অন্তত ৭০ শতাংশকে টিকা দেওয়ার মতো উচ্চ কভারেজ বজায় রাখা গেলে জলাতঙ্ক সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।তবে কোনো কুকুরকে টিকা দেওয়ার পর সেটি সঙ্গে সঙ্গে পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে যায়—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। টিকার কার্যকারিতা তৈরি হতে সময় লাগে এবং সব কুকুরকে টিকার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ।
পৌর এলাকায় অসুস্থ বা অস্বাভাবিক আচরণ করা কুকুর দেখা গেলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কুকুরকে উত্তেজিত না করা এবং শিশুদের দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের শিকার হলে ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জলাতঙ্কের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হওয়ায় কামড়ের পর দ্রুত প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কলারোয়া পৌরসভার এ উদ্যোগকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]