
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কৃষি বিপ্লব ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। কলারোয়ার কামারালী বিল থেকে শুরু করে ওফাপুর লস্কর খাল পর্যন্ত বিস্তৃত ১.৬৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২৫ ফিট প্রস্থের অতি গুরুত্বপূর্ণ 'ওফাপুর মাঠপাড়া মাঝের খাল'-এর কচুরিপানা ও আগাছা পরিষ্কার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টায় ওফাপুর মাঠপাড়া মসজিদ সংলগ্ন স্থানে খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
'সফল ফর ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট' (SAFAL for IWRM) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন কলারোয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, “কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে খাল পুনরুজ্জীবিত করা অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। খাল পরিষ্কারের জন্য স্বেচ্ছাশ্রমের পাশাপাশি কতজন শ্রমিক প্রয়োজন, সে সংক্রান্ত আবেদন ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে দ্রুত জমা দিন—উপজেলা প্রশাসন থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হবে।”
তিনি আরও আশ্বাস দেন, আগামী শুকনো মৌসুমে এই ১.৬৮ কি.মি. দীর্ঘ খালটি সম্পূর্ণ পুনঃখননের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এদিকে খালেদর দৈর্ঘ্য ১.৬৮ কিলোমিটার, প্রস্থ ২৫ ফিট (কামারালী বিল হতে ওফাপুর লস্কর খাল পর্যন্ত),৩৭৬ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুবিধা পাবে প্রায় ২,৫০০ কৃষক পরিবার। সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও উত্তরণ সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিসার এস. এম. এনামুল হক ও উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার জিয়াউল হক উপস্থিত থেকে IWRM প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তাঁরা উল্লেখ করেন, এ ধরনের ছোট ছোট খালের নাব্যতা ও নিকাশ ব্যবস্থা জোরদার করা কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। একই সাথে তাঁরা স্থানীয় কৃষক সম্প্রদায়কে সমন্বিতভাবে খাল সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগিখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মোঃ শাহজাহান আলী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাপস কুমার রায় ও মোঃ অলিউর রহমান।
ওফাপুর মাঠপাড়া মাঝের খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষে সভাপতি আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফুল আলম সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক ও স্থানীয় কৃষকমণ্ডলী কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রকল্পের পক্ষ থেকে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার (রিজেনারেটিভ এগ্রিকালচার) মশিউর রহমান, উত্তরণের ওয়াটার ক্লাস্টার অফিসার মোঃ মাজহারুল ইসলাম, ওয়াটার ক্লাস্টার ফ্যাসিলিটেটর খোকন কুমার, মোঃ কামরুজ্জামান ও দীপঙ্কর কুমার মন্ডল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সংকট নিরসনের এই উদ্যোগে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
তারা জানান, খালটি কচুরিপানা মুক্ত হলে এবং আগামী মৌসুমে পুনঃখনন করা হলে ৩৭৬ হেক্টর জমিতে বাম্পার ফলন সম্ভব হবে—যা এলাকার প্রায় আড়াই হাজার পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনবে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]