
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দেড় বছর প্রেমের সম্পর্কের নামে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক, গর্ভপাত এবং প্রতারণার পর প্রেমিকের বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন এক সন্তানের জননী। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও বিয়ের দাবিতে অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন ওই নারী, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
অভিযুক্ত যুবকের নাম মনিরুল ইসলাম; তিনি কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের আশা গাজীর ছেলে। তিনি অবিবাহিত।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী রেক্সোনা আক্তার স্মৃতির (৩০) বাবার বাড়ি একই উপজেলার ভাদিয়ালীতে ও স্বামীর বাড়ি লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নে। তার একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। তিনি আনারুল ইসলামের কন্যা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দেড় বছর ধরে স্মৃতির সাথে মনিরুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুবাদে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মনিরুল তার নিজ বাড়িসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন পার্কে ও গোপন স্থানে নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরবর্তীতে স্মৃতি গর্ভবতী হয়ে পড়লে গত ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার স্বপ্না ক্লিনিক অ্যান্ড আকসা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসাউন্ড ও পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, গর্ভাবস্থার বিষয়টি জানাজানি হলে কাজী ডেকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই তরুণীকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে কৌশলে গর্ভপাত (অ্যাবশন) করানো হয়। এরপর সমস্ত প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্ক অস্বীকার করে মনিরুল গোপনে দেশের বাইরে চলে যান।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মনিরুল বিদেশ চলে যাওয়ার পর অসহায় ওই নারী কোনো উপায় না পেয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের পরামর্শে শুক্রবার বিকালে নিজের অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তিনি কেড়াগাছিতে মনিরুল ইসলামের বাড়িতে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, তাকে আইনি ও পারিবারিক মর্যাদা না দিলে তিনি ওই বাড়িতেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মনিরুলের পরিবার দ্রুত স্থানীয় ওয়ার্ডের এক সাবেক ইউপি সদস্যকে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অভিযুক্তের দেশে ফেরার পর সালিশের মাধ্যমে সঠিক বিচার করা হবে মর্মে আশ্বস্ত করলে, ওই নারী বাড়ি ফিরে যান।
এদিকে ওই নারীর দাবি অস্বীকার করে মনিরুলের পিতা ও মাতা বলেছেন, স্বামী-সন্তান ছেড়ে আমার পুত্রকে বিপথে আনার অপচেষ্টা করেছে ওই মহিলা।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]