মোস্তফা হোসেন বাবলু, কলারোয়া (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার কলারোয়ার পৌর সদরের শিশু আলামিন মায়ের অভাবের সংসার চালাতে রাতে চা ও দিনের বেলা শরবত বিক্রয় করে চলছে। সে উপজেলার কুমোর নাল গ্ৰামের জাহানারা বেগমের ছেলে, তার বয়স ১২ বছর। এতিম আলামিন জীবনটা ছিল খুবই কষ্টের।
পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ থাকলে তৃতীয় শ্রেণীতে ওঠার পর আর লেখাপড়া হয়নি। সে উপজেলার কুমোরনাল সরকারি প্রাইমারি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ছিল। পরিবার ছিল খুবই অভাবী। মায়ের রোজগার সামান্য, তাই সংসারের অভাব মেটাতে সে ছোটবেলা থেকেই কলারোয়া বাজারে দিনের চা ও রাতে শরবত বিক্রি করে।
প্রতিবেশীরা জানান আলামিনের মনে সবসময় পড়াশোনার প্রতি একটা গভীর আগ্রহ ছিল। সে চেয়েছিল ভালো কিছু করতে, কিন্তু অভাব তার পথ আগলে দাঁড়িয়েছিল।দিনের বেলা সে স্কুলে যেত, আর বাদবাকি সময় শরবত বিক্রি করে রোজগার করত। এতে তার পড়াশোনার ওপরও প্রভাব পড়ত।এবার তার ব্যতায় ঘটৈনী।
এ বছর গরম পড়ার সাথে সাথে শরবত বিক্রয় করা শুরু করেছে।আজ (২রা এপ্রিল) হঠাৎ কলারোয়া পৌর সদরের শহীদ মিনার চত্বরের পাশে তাকে শরবত বিক্রয় করতে দেখা গেছে। ফুটপাতে হকার আলামিনের শরবত শত শত মানুষ পান করে পিপাসা নিবারণ করছে।
সে ঠান্ডা পানির সাথে, আছে তকমা, চিনি, বরফ পানি, রাসনা ট্যাংক, বেল, লেবু মিশ্রণ করে শরবত তৈরি করে।তবে কষ্টের মাঝেও আলামিনের মনে সবসময় একটা ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন ছিল। সে চেয়েছিল একদিন ভালো মানুষ হয়ে পরিবারের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবে.। এখন ও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
পিতৃহীন আলামিনের মতো অনেক শিশু রয়েছে যারা অভাবের কারণে তাদের শৈশবটা কাজে ব্যয় করে। স্কুলে লেখাপড়া করতে পারছি না। তাদের প্রতি সমাজের সহানুভূতি ও সহযোগিতা প্রয়োজন। শিশু আল আমিন জানা ন দুই বছর ধরে শরবত বিক্রয় করি।
শরবত বিক্রিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তেমনি ভালোভাবে যাচ্ছে না। সংসার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। দৈনিক চা ও শরবত বিক্রি করে ৩০০-৪০০ টাকা আয় হয়।এতে সংসার খরচ, শরবতের মালামাল কিনে, আর কিছুই থাকে না।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]