মোস্তফা হোসেন বাবলু : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ঋতুরাজ বসন্তের প্রকৃতি সেজে ওঠেছে তার আপন রূপ, রং আর বৈচিত্র্যে। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে পলাশ, কাঞ্চন আর শিমুল। সবই যেন জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের রাজত্বকে। ঋতু চক্রের পালাবদলের সাথে সাথে বাংলার প্রকৃতিতে দেখা মেলে আলাদা আলাদা সৌন্দর্যের।
ঋতুরাজ বসন্তে ফুটে ওঠা ঝোপা ধরা ফুলের মাঝে উড়ে বেড়ানো মৌমাছি ও পাখিদের মিতালী। এ যেন প্রকৃতি আর সৌন্দর্য উজাড় করে ঢেলে দিয়েছে মানুষের উপভোগের জন্য। যা দেখে মন ভরে যাবে যে কোনো বয়সের প্রকৃতি প্রেমীদের।
উপজেলার বিভিন্ন জায়গাই বাড়ির আঙিনায়, বাড়ির ছাদে, দেখা মিলবে শত শত গাছে ফুটে থাকা আবির রাঙ্গা বাসন্তী ফুল। এছাড়াও নয়ন জুড়ানো সারি সারি শিমুল, পলাশ আর কাঞ্চন ফুল।
ফুলের মাঝে ছোট ছোট কাঠ-শালিক সহ নানান পতঙ্গের দল ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে। আর মধ্য দুপুরে রক্তরাঙ্গা পলাশ ফুলের ফাঁকে ফাঁকে যখন সাদা চিকচিকে সূর্যের উঁকি, মনে হয় ফুল আর সূর্য যেন লুকোচুরি খেলায় মেতে উঠেছে। যা দেখে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছে যে কোনো বয়সের প্রকৃতি প্রেমী। নানান বয়সের পথচারীরা প্রকৃতি এই অপরূপ রূপ দেখতে প্রতিদিন দলে দলে ছুটে চলছে হাজারো মানুষ, বড় বড় রাস্তার ধারে। অনেকেই ক্যামেরা অথবা মুঠোফোনে ছবি তুলে বন্দি করে রাখছে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যকে। উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার ধারে আসলেই দেখা মিলবে নানা রং এর সারি সারি কাঞ্চন ফুলের গাছ। পাতা বিহীন প্রতিটি গাছ ছেয়ে আছে মনো-মুগ্ধকর নানা রং এর বাহারি কাঞ্চন ফুল। মাঝে মাঝে একটু বাতাসে ঝড়ে পড়ছে এসব কাঞ্চন ফুল। বাসন্তির পাশে ফুটে থাকা এসব কাঞ্চন ফুলের রং প্রকৃতি আজ যেন তার সব রং আর রূপ ঢেলে দিয়েছে।
উপজেলা শহরের কোলাহল থেকে রেরিয়ে রায়টার গ্রামের মেঠোপথের দুধারে শিমুল,পলাশ আর কাঞ্চনফুলের মন মাতানো প্রকৃতির অপার রূপ দর্শনে পরিবার আর বন্ধুদের নিয়ে সেখানে ছুটে চলছে হাজারো প্রকৃতি অনুরাগীরা।
কলারোয়া উপজেলার ছলিমপুরের রাস্তার দু’ধারে অনেক গাছে ফুটে আছে রক্তরাঙ্গা শিমুল ফুল। এখানে প্রতিটি শিমুল গাছ ছেয়ে আছে ফুলে ফুলে। ফাগুনের এই আগুন লাগা এক-একটি শিমুল গাছ যেন প্রকৃতির আপন আভায় সেজে ওঠেছে।
কলারোয়া টু খোরদো রোডের রায়টা নামক পিচঢালা পথের দু,ধারে পাতাবিহীন প্রতিটি শিমুল গাছে ছেয়ে থাকা লাল টুকটুকে ফুলগুলো মন কাড়ে সবার। প্রকৃতির এই আগুন লাগা শিমুল ফুলের অপার দৃশ্য উপভোগ করতে শিমুল গাছের ধারে ভীড় করছে প্রকৃতি প্রেমীরা। মানসিক প্রশান্তির আর চোখ জুড়ানো মন ভরানো এই সৌন্দর্য দেখে সন্তুষ্ট প্রকৃতি প্রেমীরা।
ঐ অঞ্চলের শিক্ষক আজিজ বলেন, ঋতুরাজ বসন্তের প্রতিটি ফুলের সৌন্দর্য একেক রকম। পলাশ, কাঞ্চন আর শিমুল ফুলগুলো সেজে ওঠেছে তার আপন রূপ, রং আর বৈচিত্র্যে নিয়ে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]