
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় জলাবদ্ধ পতিত জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে মৌসুমী পানিফল (স্থানীয় ভাষায় ‘পানি সিঙ্গারা)। লাভজনক এই পানি ফল চাষ করে পরিবারের সুদিন ফিরেছে অনেক চাষির।
পৌরসদরের যুগীবাড়ি থেকে মুরারীকাটি পর্যন্ত যশোর-সাতক্ষীর মাহাসড়কের দুইপাশে সারিবদ্ধভাবে পানিফল বিক্রি করছে স্থানীয়
চাষীরা। এছাড়া প্রতিদিন স্থানীয় চাষীরা জমি থেকে পানিফল তুলে বস্তায় ভরে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে যশোর, সাতক্ষীরা সহ দেশের বিভিন্ন বাজারে।
কলারোয়া উপজেলায় চলতি বছর প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে পানি ফল চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার এস.এম এনামুল ইসলাম জানান- পানি ফল বর্ষজীবি জলজ উদ্ভিদ। পানিফলের পুষ্টিমান অনেক বেশি। কলারোয়া উপজেলার জলাব্ধ পতিত জমিতে এই পানি ফলের চাষ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর ইরি- বোরো ধান কাটার পর জলাবদ্ধ পতিত জমি, পানি জমে থাকা ডোবা সহ বিলে এই ফলের লত(বীজ) রোপন করা হয়। তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে গাছে ফল আসতে শুরু করে। এই ফল চাষে তেমন সার-কীট নাশকের প্রয়োজন পড়ে না।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পানি ফল প্রকার ভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই ফল চাষ করে অনেকে লাভবান হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিনে দিনে অনেকে এই পানি ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। কলারোয়া এখন বানিজ্যিকভাবে এই পানি ফলের চাষ হচ্ছে। এই চাষ দেখে অন্যান্য উপজেলার চাষীরা অনুপ্রানিত হয়ে এমনকি অনেকে সরেজমিনে এসে চাষ পদ্ধতি দেখে তাদের পতিত জমিতে চাষ শুরু করেছেন।
পৌর সদরের গোপিনাথপুর গ্রামের কয়েকজন পনিফল চাষী এ প্রতিবেদককে জানান- তারা এক যুগের ও বেশিদিন ধরে এই পানিফল চাষ করে আসছেন। সার-কীটনাশক তেমন প্রয়োজন হয় না। অন্যান্য ফসলের চেয়ে এর পরিচর্যাও কম। অল্প খরচে বেশি লাভ।
পৌর সদরের আয়জুল, লাভলু, ওসমান গণি সহ কয়েকজন চাষী জানান জলাবদ্ধ জমিতে পানি ফলের চাষ করা হয়। প্রতি বিঘা জমিতে পানি ফল চাষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। আর ফল বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
স্থানীয় পানি ফল চাষীরা জানায় সরকরি-বে-সরকারি খাত থেকে ঋন সুবিধা পেলে আরো অনেক চাষী পানি ফল চাষে আগ্রহী হবে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]