
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জলবায়ূ সহনশীল বিকল্প কৃষি ব্যবস্থা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই-২০২৬) সকাল ১০টায় সিডো অফিস প্রাঙ্গণে সাতক্ষীরা ইয়ূথ হবে ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিডো সংস্থার আয়োজনে ও বাস্তবায়নে গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় জলবায়ূ সহনশীল বিকল্প কৃষি বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, স্থানীয় কৃষক এবং যুবদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মানীত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সদর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্ত রাদিয়া ফাহমিন রিমা, ফিংড়ি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: আলকাস আলী।
উক্ত সংলাপে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইন্সপিরেটর একশনএইড বাংলাদশে সুমন হোসেন। কর্মসূচির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: তহিদুজ্জামান (তহিদ)।
উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন সুমন কুমার সাহা, ফিংড়ি ইউনিয়ন আইরিন সুলতানা, ও স্থানীয় বিকল্প ফসল চাষে আগ্রহী কৃষকগণ, সাংবাদিক ও যুব সদস্যবৃন্দ।
সংলাপের উদ্দেশ্য জলবায়ূ বান্ধব টেকসই কৃষি অনুশিলন করার জন্য নিদিষ্ট বাঁধা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান তৈরী করা। যুব-কৃষকদের সাথে কৃষি বিভাগের মধ্যে সংযোগ তৈরী করা। জলবায়ূ বান্ধব টেকসই কৃষির উপর দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন ভিত্তিক কৃষিবিদ্যা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য কৃষি বিভাগকে প্রভাবিত করা। এডভোকেসির আলোচ্যসুচী ছিল স্থানীয় পর্যায়ে কৃষিতে জলবায়ূ বান্ধব সংকট সমূহ ও যুব কৃষকদের সুনির্দিষ্টভাবে সমস্যা সমূহ তুলে ধরা। জলবায়ু বান্ধব কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ বিষয়ে অবগত করা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে যেসব সেবাসমুহ পরিচালনা করা হয় সে সম্পর্কে যুব কৃষকদের অবগত করা এবং প্রযোজনীয় সাপোর্ট পাওয়ার ব্যাপারে অনুকুল পরিবেশ তৈরিতে অনুপ্রাণিত করা। যুব কৃষকদের চাহিদার আলোকে কৃষি বিভাগের সম্মতি প্রদান করা ।
জলবায়ূ বান্ধব কৃষি বিষয়ে কৃষি বিভাগ অনেক তৎপর রয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে যুব কৃষক তৈরীতে কৃষি বিভাগ কিভাবে ভুমিকা রাখছে, কৃষি অধিদপ্তরের সেবা সমুহ স্থানীয় পর্যায়ে কিভাবে আর ও দৃশ্যমান করা যাবে। জলবায়ূ বান্ধব কৃষি বিষয়ে যুব কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কিনা। কোন সবজি কোন সময়ে চাষ করলে ভাল হয় ও জৈব উপায়ে কিভাবে সবজি চাষ করতে হবে। জৈব সার উৎপাদনের পদ্ধতি কি কি, কিভাবে ভার্মি কম্পোষ্ট তৈরী করা যায়। স্মাট ও টেকসই কৃষিতে যুব কৃষকরা কিভাবে কাজ করতে পারবে এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কিভাবে পাবে। জলবায়ূ বান্ধব কৃষি বিষয়ে জনসাধারনের মধ্যে আর ও সচেতনতা বাড়ানোর জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি বিভাগ কিভাবে কৃষকদের মাঝে আর ও সচেতনতা বাড়ানো যাবে। কৃষি অফিসের সেবা সমুহ সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে আর ও কিভাবে উদ্বুদ্ধ করা যায়! সাতক্ষীরার প্রেক্ষাপটে কিভাবে যুবদের কৃষিতে উৎসাহিত করা যায়। চিহ্নিত সমস্যাগুলোর আলোকে নিরসন করা যায় সে বিষয়ে উপস্থিতি অতিথিবৃন্দরা পরামর্শ ও উদ্যোগী হওয়ার মনোনিবেশ করেন।
তরূনদের চাহিদা ছিল স্থানীয় পর্যায়ে জলাবদ্ধতা এলাকায় বিকল্প ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ। পরিবেশ বান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও এগ্রোইকোলজি চর্চা করা এবং যুবদের অর্ন্তভুক্ত করা। লবন সহিঞ্চুতার জন্য ফসল উৎপাদনে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা। আধুনিক কৃষির প্রশিক্ষণ ও যুব কৃষক তৈরী করা। স্থানীয় কৃষকদের সবুজ উদ্যোক্তা তৈরী করা এবং সহায়তা প্রদান করা। তরূণদের এই চাহিদাগুলোর বিষয়ে কৃষি অধিদপ্তর সম্মতি জ্ঞাপন করেন এবং আগামীতে সহযোগিতা করার আশ^াস প্রদান করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সাকিব হোসেন। উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার, আরাফাত হোসেন, রিপন হোসেন ও ইয়ূথ ফেলো স্বপ্না পারভীন।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]