
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার এক তাৎপর্যপূর্ণ, সময়োপযোগী ও ভারসাম্যের প্রতিফলন। সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ এ মন্তব্য করেছেন।
জাতিসংঘে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে শুক্রবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভাষণের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে আবদাল আহমদ আরও বলেন, মাতৃভাষা বাংলায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ১৭ মিনিটের এই ঐতিহাসিক ভাষণ একদিকে যেমন বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসন ও বহুপাক্ষিকতার বৈশ্বিক দাবিগুলোকে ধারণ করেছে; অন্যদিকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারগুলোকে যথাযথভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারির একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী ব্যক্ত করেছেন, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বৈধতা ও অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাবকে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারের ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন) কৌশলের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এই স্ট্র্যাটেজি স্পষ্ট প্রমাণ করে বর্তমান সরকার কেবল কোনো জোড়াতালির সংস্কারে বিশ্বাসী নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেমেছে। ফ্যাসিবাদের অন্ধকার ফুঁড়ে দেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেছেন।’
সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর জোর প্রদান এবং সামরিক বাজেট উন্নয়ন খাতে স্থানান্তরের আহ্বান বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে পুনর্নিশ্চিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছেন যে, বাংলাদেশ আর কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বা অগণতান্ত্রিক শক্তির করতলগত নয় এবং ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া পবিত্র আমানত নিয়েই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে।
‘গণতান্ত্রিক পথে বাংলাদেশ’—প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা বহুগুণে বেড়ে যাবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সেই সঙ্গে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবে নয়, আদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি পরিপক্ক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে।
সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্ব আরোপ এবং সামরিক বাজেট উন্নয়ন খাতে স্থানান্তরের আহ্বান বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তিনি জানান, দীর্ঘ ৯ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ৫টি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ বা ক্লাইমেট জাস্টিস নিশ্চিতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ অভ্যন্তরীণ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মহলে কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছেন। সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন।
জিয়া পরিবারের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি এক বিরল ইতিহাসও। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ দেন। ২০২৬ সালে একই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বাংলায় ভাষণ দিলেন তারেক রহমানের। এটি কেবল পারিবারিক ধারাবাহিকতাই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক লড়াই ও স্বমহিমায় টিকে থাকার এক চিরন্তন স্মারকও।
তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’-এই প্রত্যয় নিয়ে দেওয়া এই ভাষণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত সুদৃঢ় করেছে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]