
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, তরুণ নারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তারা শুধু নিজেদের সম্প্রদায়কেই শক্তিশালী করে না, দেশের ভবিষ্যৎকেও শক্তিশালী করে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘শি লিডস টুমরো’ শীর্ষক জাতীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. জুবাইদা রহমান।
নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্ব, দৃঢ়তা ও ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষাকে উদযাপন করতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়, জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন এবং জাতিসংঘ প্রকল্প সেবা কার্যালয় ইউএনওপিএস বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘এসডিজি-৫ ও এসডিজি-১৬ স্থানীয়করণের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারী রাজনৈতিক নেতৃত্ব জোরদার’ প্রকল্পের জাতীয় প্রচার ও সমাপনী অনুষ্ঠান হিসেবে এটি আয়োজন করা হয়। যৌথ এসডিজি তহবিলের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, তরুণ নারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তারা শুধু নিজেদের সম্প্রদায়কেই শক্তিশালী করে না, দেশের ভবিষ্যৎকেও শক্তিশালী করে। আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তাদের কণ্ঠ, চিন্তা ও নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ অংশগ্রহণকারীদের অর্জনের প্রশংসা করে ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব বিকাশে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুল আওয়াল। এছাড়া, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও তরুণ নারী নেতারা অংশ নেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তরুণ নারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা হলে আগামী দিনের জন্য আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুল আওয়াল স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তরুণ নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, এসডিজি স্থানীয়করণ হলো জাতীয় অঙ্গীকারকে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থবহ কার্যক্রমে রূপ দেওয়া। এ যাত্রায় তরুণ নারীদের সক্রিয় অংশীদার হতে হবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী সিদ্ধান্ত ও সমাধান তৈরির প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের এক হাজারের বেশি কিশোরী ও তরুণীকে নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জন এবং নিজ নিজ সমাজে পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১২ মাসব্যাপী প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। সরকারি স্কুল, মাদরাসা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কিশোরী ও তরুণীরা এতে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে ‘শি লিডস টুমরো’ শীর্ষক কফি টেবিল বইয়ের প্রকাশনা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। বইটিতে প্রকল্পে অংশ নেওয়া তরুণীদের সাহস, দৃঢ়তা ও নেতৃত্বের অনুপ্রেরণামূলক গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া, অভিজ্ঞতা বিনিময়, গল্প বলার পর্ব, ভিডিও প্রদর্শনী ও অন্তর্ভুক্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নারীর কূটনৈতিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং লিঙ্গসমতা এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও তিনটি প্যানেল আলোচনা হয়।
এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ‘এসডিজি স্থানীয়করণে বাংলাদেশ মডেল’ তৈরি করা হয়েছে। এটি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম উৎসাহিত করার পাশাপাশি এসডিজি বাস্তবায়নে স্থানীয় মালিকানা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নে তরুণ নারী নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করার একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]