
জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে নতুন করে ব্যয়ের বোঝা চাপিয়েছে সরকার। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর সাতক্ষীরায় পরিবহন, কৃষি, পণ্য সরবরাহ ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দাম বাড়ানোর সরকারি ব্যাখ্যায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের কথা বলা হয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রীয় লোকসানের দায় কেন বারবার ভোক্তার কাঁধেই চাপবে?
সাতক্ষীরার মতো সীমান্তবর্তী ও কৃষিনির্ভর জেলায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। সেচ, কৃষিপণ্য পরিবহন, মাছ-সবজি বাজারজাতকরণ, যাত্রী পরিবহনসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রায় প্রতিটি স্তরেই জ্বালানি ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পণ্য ও সেবার খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত তার চাপ পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।
ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। আয় একই থাকলেও যাতায়াত, বাজার ও সংসারের অন্যান্য খরচ বাড়লে সীমিত আয়ের মানুষের হিসাব আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে দাম সমন্বয়ের নীতি ও জনস্বার্থ রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছিল; মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে চার ধরনের জ্বালানির দামই লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হলো।
সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ও বিপিসির লোকসান সামাল দিতেই এ সিদ্ধান্ত। কিন্তু সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সরকারের ব্যর্থতা, ব্যবস্থাপনার ঘাটতি কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের লোকসানের খেসারত কেন জনগণকে দিতে হবে?
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ভাড়া ও বাজারদর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি না থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধিকে অজুহাত বানিয়ে যাতে অতিরিক্ত ভাড়া বা পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি না ঘটে, সে জন্য এখনই কঠোর বাজার তদারকি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি।
তেলের দাম বাড়ল ২০ টাকা—কিন্তু প্রশ্নটা আরও বড়: জনগণের আয় না বাড়িয়ে ব্যয়ের বোঝা বাড়িয়ে সরকার কতটা জনস্বস্তি নিশ্চিত করতে পারবে?
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]