
পেট্রোল ও অকটেন সংকটে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। সামনে ঈদকে ঘিরে যখন বাড়তি আয়ের প্রত্যাশা, ঠিক তখনই তেল সংকট তাদের জীবনে নিয়ে এসেছে অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় শতাধিক মোটর সাইকেল বিভিন্ন সড়কে ভাড়ায় চলে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই স্থানীয় তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলছে না প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি। তেল পাম্পেই নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার তেল, যা দিয়ে সারাদিন কাজ চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন চালকরা। ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি। দুই-তিন ঘণ্টা পর মাত্র ২০০ টাকার তেল পাই। এতে করে একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে আয়ও কমে যাচ্ছে।” একই ভোগান্তির কথা জানান চালক আজিবর রহমান ও শরিফ হোসেন। তিনি বলেন, “তেল নিতে গিয়েই দিনের অর্ধেক সময় চলে যায়। যাত্রী নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। সামনে ঈদ- পরিবারের জন্য কিছু কিনতে পারবো কিনা, সেই চিন্তায় আছি।”
চালক জাহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে দিনে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আয় হতো। এখন তেল সংকটের কারণে ৩০০-৪০০ টাকার বেশি আয় করা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।” স্থানীয় পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চাহিদার তুলনায় জ্বালানি সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়েই সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক সময় দুপুরের আগেই পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিন আনা দিন খাওয়া এসব মোটরসাইকেল চালকরা। তাদের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে ঈদের আগেই তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়বেন। ঈদের আনন্দ যখন সবার ঘরে পৌঁছানোর কথা, তখন তেল সংকটে রাজগঞ্জের এই শ্রমজীবী মানুষেরা রয়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপই পারে তাদের এই দুর্দশা লাঘব করতে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]