
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ভারতের রাজধানী দিল্লির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)। ফলে অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)। রাজধানীজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো—লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম।
গত সোমবার ও মঙ্গলবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর বিক্ষোভ ও সংসদ ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একই সময়ে কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি (এএপি), সমাজবাদী পার্টিসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের বিক্ষোভও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এদিকে, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশের কৃষকদের ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৃষি চুক্তিবিরোধী আন্দোলন এবং কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে দিল্লির সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও বিক্ষোভ চলছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাজধানীর ভেতরের বিক্ষোভে বাইরের আন্দোলনকারীরা যাতে যোগ দিতে না পারেন এবং তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, প্রশাসনিক এলাকা এবং সংবেদনশীল স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে আরও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমআরসি জানিয়েছে, বন্ধ স্টেশনগুলোতে আপাতত যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে সংশ্লিষ্ট রুটে ট্রেন চলাচল চালু থাকবে এবং ট্রেনগুলো বন্ধ স্টেশনগুলোতে না থেমে চলাচল করবে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং যাত্রার আগে সর্বশেষ পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ধাপে ধাপে স্টেশনগুলো পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
দিল্লির যন্তর মন্তরে বাড়ছে ভিড়, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে বিদেশেও
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই বিক্ষোভস্থলে সমাগম বাড়তে থাকে। এদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক, সান হোসে, লন্ডন ও ডাবলিনেও আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক হাসপাতালে অনশন চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, দিল্লির আন্দোলনের প্রভাব এবার দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও সান হোসে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ নামের একটি সংগঠনের সদস্যরা এসব কর্মসূচির আয়োজন করেন।
এর আগে সোমবার সংসদ অভিমুখে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এর মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং শিবসেনা (উদ্ধব) নেতারা। পরে পুলিশ তাদের আটক করে।
আটক অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, পুলিশি অভিযানের জন্য সরকারের ক্ষমা প্রার্থনা এবং সংসদে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা।
এদিকে, ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চেয়ে রাজ্যসভায় নোটিশ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক। এর আগে কলকাতায় ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সরকার যতই চেষ্টা করুক, বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তর ছাড়বেন না। আন্দোলনকে সরকারের জন্য ‘আউট অব সিলেবাস’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেছেন, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]