
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া মৌজার একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন দুই পক্ষ। এক পক্ষের অভিযোগ, মসজিদের দানকৃত জমি দীর্ঘ ৩৩-৩৪ বছর দখলে না থাকলেও কয়েক বছর আগে তা উদ্ধার করে মসজিদের দখলে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের দাবি, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।
জানা গেছে দেবহাটা থানার পারুলিয়া মৌজার এস এ খতিয়ান নং-২৯৬১, দাগ ১১২০২, ১১২০৩ দাগে ৩৬শতক +৫০.৮৭ একর সম্পত্তির মধ্যে ২.৬৬ একর সম্পত্তি বিরোধপূর্ণ। ওই জমিটি নিজের দাবি করে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নং-১১০৪/২০২৫ (দেবঃ) দায়ের করেন। অপরদিকে আব্দুস সামাদ এসএ দলিলমূলে মালিকানা পেয়ে খাজনা, দাখিলা প্রদান করে আসছেন। সেই সাথে ওই জমি তার পিতার নাম থেকে নিজের নামে নামপত্তন করেছেন।
এবিষয়ে পারুলিয়া সেড মসজিদ কমিটির সদস্য নুর ইসলাম বলেন, সাজুদ্দিন মোল্লা প্রায় ৬৫ শতক জমি মসজিদের জন্য দান করা হলেও দীর্ঘ ৩৩-৩৪ বছর জমির দখল পাওয়া যায়নি। পরে প্রায় তিন-চার বছর আগে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জমিটি দখলে নিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং বর্তমানে সেটি মসজিদের দখলে রয়েছে।
মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, একটি মামলায় তাকে সহ কয়েকজনকে মিথ্যাভাবে আসামি করে। তিনি দাবি করেন, মামলায় যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে সে সময় তিনি অন্যত্র অবস্থান করলেও তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। তিনি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চান।
স্থানীয় মোহাম্মদ সেলিম সরদার বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই সামাদ ভাইকে চিনি। আমাদের এলাকায় তার সুনাম আছে। তাকে কখনো চাঁদাবাজি বা অন্যায় কোনো কর্মকাণ্ড করতে দেখিনি। আর যেটাকে মাদ্রাসা বলা হচ্ছে, আমার জানামতে সেটা মাদ্রাসা নয়; ওদের একটি বিলাসবহুল ঘর। সেখানে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ হয় বলে এলাকায় অভিযোগ আছে। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়। আমার নামে দুটি মিথ্যা মামলা হয়েছে। কিছুদিন আগে পুলিশ আমাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে আমার বিরুদ্ধে ঘেরের মোটর ও পাইপ চুরির মামলা করা হয়।
তবে ভূক্তভোগী আব্দুস সামাদ বলেন, পারুলিয়া মৌজার আরএস ৩৫৭৫৩ ও ৩৫৭৫৬ (এসএ দাগ ১১২০৩) নম্বর দাগের জমি তার পৈতৃক সম্পত্তি। ১৯৬৮ সালে মোহাম্মাদ মোল্লার কাছ থেকে তার পিতা শামছুর মোল্লা ১৯৯৩ সালে ক্রয় করে। পরে পিতার কাছ থেকে সে ২০১২ সালে মালিক হন। এরপর ২০১৪ সালে ওই জমির অধিনে ব্যাংক লোন গ্রহন করে। কিন্তু চক্রান্ত করে আমার জমির উপরে চিরস্থায়ী নিষেজ্ঞার আবেদন করে। তারা দেওয়ানি মামলা নং ২০৪/২৩-এ প্রথমে তার নাম না থাকলেও পরে হাতে লিখে তাকে আসামি করা হয়েছে। তিনি আদালতে জবাব দাখিল করেছেন এবং আইনের মাধ্যমেই বিরোধ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তার মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে এবং তাকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও গুন্ডা আখ্যা দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের মাধ্যমেই বিষয়টির সুরাহা চাই।”
অন্যদিকে গোলাম মহিউদ্দিন রনির দাবি, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তিনি বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৫/০৮/২৬ তারিখে ১৪৫ ধারার আবেদন করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটি নিয়ে একাধিক দেওয়ানি ও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহিন বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক শান্তি শৃংঙ্খলা বাজায় রাখা হয়েছে। কোন প্রকার আইন শৃংঙ্খলার অবনতি না হয় সে বিষয়ে তদারকি করা হচ্ছে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]