
ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা: "আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রে রেখে বাঘের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা"এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিশ্ব বাঘ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও "মানুষ-বাঘ সহাবস্থান সংলাপ" অনুষ্ঠিত হয়েছে।
(বুধবার) সকাল ১১টায় শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাঁতিনাখালী মুন্ডাপাড়ায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, গ্রিণ কোয়ালিশন, দাঁতিনাখালী বনজীবী নারী উন্নয়ন সংগঠন, সুন্দরবন ইয়ুথ সলিডারিটি টিম,সিরিও এবং শরুব ইয়ুথ টিমের যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বনজীবী নারী উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি শেফালী বেগমের সভাপতিত্বে, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তফা জাহিদ হোসেন।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গ্রিণ কোয়ালিশনের সদস্য নিমাই মণ্ডল, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম-এর সদস্য মহব্বত আলী, আদিবাসী প্রতিনিধি অনিকা রানী মুন্ডা, বনজীবী নারী-পুরুষ, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক, গবেষক, কৃষক এবং বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।
প্রধান অতিথি মোস্তফা জাহিদ হোসেন বলেন, ২০১০ সাল থেকে বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হয়ে আসছে। সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে বন বিভাগ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম, স্থানীয় বনজীবী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী, যুব সংগঠন এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বাঘ সংরক্ষণ শুধু একটি প্রাণী রক্ষার বিষয় নয়; এটি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বাঘ সংরক্ষণের দীর্ঘমেয়াদি সফলতা সম্ভব নয়।
ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের সদস্য মহব্বত আলী বলেন, সুন্দরবনের বাঘ আমাদের জাতীয় গর্ব এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম ভিত্তি। তাই বাঘ সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
আদিবাসী প্রতিনিধি অনিকা রানী মুন্ডা বলেন, আমরা সুন্দরবনের পাশেই বসবাস করি এবং বাঘের সঙ্গে সহাবস্থানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। আমরা বাঘকে ভয় নয়, সম্মানের চোখে দেখি। বাঘ টিকে থাকলে সুন্দরবন টিকে থাকবে, আর সুন্দরবন টিকে থাকলে আমাদের জীবন-জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে। বন ব্যবস্থাপনা ও বাঘ সংরক্ষণ কার্যক্রমে আদিবাসী ও বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
যুব সংগঠক শামীম হোসেন বলেন, উপকূল রক্ষায় সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই, আর সুন্দরবনের প্রাণ হচ্ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। প্রকৃত বনজীবী, জেলে ও বাওয়ালিরা কখনো বাঘের ক্ষতি করে না; বরং অসাধু শিকারি ও পাচারকারী চক্রই বাঘের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তাই বাঘ শিকার ও পাচার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সংরক্ষণ কার্যক্রমে আরও সম্পৃক্ত করতে হবে।
সংলাপে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, আবাসস্থল সংকোচন এবং মানুষ-বন্যপ্রাণগর সংঘাত সুন্দরবনের বাঘের অস্তিত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে সংরক্ষণ উদ্যোগের মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মানুষ–বাঘ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই সুন্দরবন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]