
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ তেল পাম্পে প্রতিদিনই তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। তবে সম্প্রতি এক দিনে একই ব্যক্তি একাধিকবার তেল নিচ্ছেন- এমন দৃশ্য নিয়মিতই চোখে পড়ছে। এতে প্রকৃত কর্মজীবী মানুষ, যারা সময়ের অভাবে লাইনে দাঁড়াতে পারেন না, তারা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থেকেও একবারও তেল নিতে পারছেন না। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি সারাদিন ঘুরে ঘুরে লাইনে এসে ৩-৪ বার করে ৫০০ টাকার তেল সংগ্রহ করছেন। পরে এই তেল বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করছেন। এভাবে তারা দিনের পর দিন মুনাফা করে নিচ্ছেন, আর ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরা। পাম্পে দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকরা জানিয়েছেন, “অনেক মোটরসাইকেলের ট্যাংকি চেক করে দেখা যায় ইতোমধ্যে ট্যাংকি ভরা। তারপরও তারা আবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে আসে। বাধা দিলেই তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।” পাম্প কর্তৃপক্ষও কিছুটা অসহায়ত্বের কথাই জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়- “লাইনে দাঁড়িয়ে এলে আমরা কীভাবে তেল দেব না? না দিলেই আমরা খারাপ হয়ে যাই। নিয়ম মেনে সবার মতো তাদেরও তেল দিতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্থানীয় পুলিশেরও তেমন কোনো ভুমিকা দেখা যাচ্ছে না। দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য বলেন, “নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকায় আমরা অনেক সময় কিছু করতে পারি না। তেল সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু লোক বারবার তেল তুলছে- এটা ঠিকই, তবে প্রতিরোধে কার্যকর নির্দেশনা প্রয়োজন।” এ বিষয়ে সচেতন মহলের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে তেল সরবরাহে সুনির্দিষ্ট নীতি, একজন চালকের জন্য দিনে একবার তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পাম্পে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। তা না হলে এ ধরনের অনিয়ম বাড়বে এবং প্রকৃত ভোক্তারা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং ভোগান্তির শিকার হবে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]