
হেলাল উদ্দিন : মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বিতরণের পর আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারক চক্র। শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা পরিচয়ে অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে কল করে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের কথা বলে পিন নম্বর, ওটিপি ও বিভিন্ন গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। ইতোমধ্যে যশোরের রাজগঞ্জ এলাকায় একাধিক অভিভাবক এ ধরনের ফোন পেয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, গত ২৯ জুন (সোমবার) মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের হিসাবে জমা হয়। টাকা বিতরণের পরপরই প্রতারক চক্র বিভিন্ন উপায়ে হিসাবধারীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দেওয়া শুরু করে। তারা নিজেদের শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলে, ‘আপনার উপবৃত্তির টাকা এসেছে। টাকা তুলতে হলে আমাদের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।’ এরপর তারা পিন নম্বর, ওটিপি কিংবা অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানতে চায়। এসব তথ্য পেলেই মুহূর্তের মধ্যে হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা থাকে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) সকালে রাজগঞ্জ এলাকার অভিভাবক নাজমুল হোসেন, শ্যামল কুমার বিশ্বাস, ফাতেমা খাতুন ও আবু আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিসে এসে বিষয়টির সত্যতা জানতে চান। তারা জানান, একই ধরনের ফোন পেয়ে অনেক অভিভাবক বিভ্রান্ত হয়েছেন। কেউ কেউ না বুঝে প্রতারকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিয়ে ফেলেছেন বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী অভিভাবকদের অভিযোগ, উপবৃত্তির টাকা এলেই একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। সাধারণ, সহজ-সরল ও প্রযুক্তি সম্পর্কে কম জানা মানুষদের লক্ষ্য করে তারা প্রতারণার ফাঁদ পাতে। এর আগেও উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার সময় ভুয়া এসএমএস ও ফোনকলের মাধ্যমে অসংখ্য অভিভাবককে প্রতারণার চেষ্টা করা হয়েছিল।
রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মাসুদ কামাল (তুষার) বলেন, শিক্ষা অফিস, ব্যাংক কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ কখনোই ফোন করে পিন নম্বর, ওটিপি, পাসওয়ার্ড বা অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য জানতে চায় না। তাই এ ধরনের ফোন বা বার্তা পেলে কোনো তথ্য শেয়ার না করে সঙ্গে সঙ্গে কলটি কেটে দেওয়ার পাশাপাশি নিকটস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
উপবৃত্তির টাকা বিতরণকে কেন্দ্র করে প্রতারক চক্রের এমন তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা হোক, যাতে আর কোনো পরিবার প্রতারণার শিকার না হয়।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]