

নিখোঁজের এক দিন পর তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পর পুরোনো একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও তিনি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বা ফোনে রেকর্ড করেছিলেন। কিন্তু তিন মাস ৮ দিন আগে একটি পডকাস্টে নিজেই এই তথ্যকে ‘প্রমাণহীন অভিযোগ’ বলে অস্বীকার করেছিলেন তাহসিফ।
২১ জুলাই প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তাহসিফ নিজের চাকরি থেকে শুরু করে বিমানবাহিনীর নানা বিষয়ে খোলামেলা আলাপ করেন। তাকে নিয়ে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়েও মুখ খোলেন এবং সেই প্রতিবেদনকে প্রোপাগান্ডা বলে দাবি করেন।
‘Speak With Rashid’ চ্যানেলে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটির শেষ দিকে উপস্থাপক শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার সময়ের সেই ভিডিওর প্রসঙ্গ তোলেন এবং জানতে চান, তাকে ঘিরে পত্রিকাটিতে যেসব অভিযোগ এসেছে, তা নিয়ে তার ব্যাখ্যা কী।
উত্তরে তাহসিফ বলেন, “ওখানে তারা ক্লিয়ারলি লিখেছে ভিডিওটি আমি ছড়িয়েছি। আমি যে শুট করেছি, এটাও তারা বলেনি। বলেছে রিফাত আশরাফী ভিডিওটা করেছে এবং আমি ভিডিওটা নাকি ছড়িয়ে দিয়েছি। আমি যদি ভিডিওটা করেও থাকি, ছড়িয়েও থাকি, হোয়াট ইজ দ্য প্রুভ দে আর হ্যাভিং। এটাও হতে পারে, এজন্য (এই অভিযোগের জন্য) আমি হয়তো আজকে এয়ার ফোর্সে নেই।”
এরপর উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, "আপনি কি মনে করেন, শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে এয়ারফোর্স থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে?"
এর জবাবেও তাহসিফ ভিডিও করার দাবিকে শুধুমাত্র ‘অভিযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “হতে পারে। যে ঘটনাগুলো ওই সময় ঘটেছিল। সবকিছু আমি বলব না। আমারও কিছু অপরাগতা আছে। আমার মনে হয়, এই অভিযোগের কারণে তারা এই জিনিসটা করেছে।”
তাহসিফ ঘটনাগুলোকে এভাবে ব্যাখ্যা করলেও তার এক বন্ধু ফেসবুকে আবার দাবি করেছেন, তিনিই শেখ হাসিনার ভিডিও ভাইরাল করার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত KSM Intisaar Inzimam নামের ওই ব্যক্তি নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, “ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। হাসিনার ভিডিও ভাইরাল করার সাথে জড়িত এই ছেলেটার লাশ আজকে তুরাগ নদীতে ভেসে আসছে। গত পরশু রাতে সে বাইরে যায় এরপর এই ঘটনা। তার লাশের ছবিতে হাতে কাদা মাখা। বাকি সব ক্লিন, এইটা কিসের লক্ষণ আমি এখনি বলতে চাইনা তবে এইটা ব্যক্তিগত কোন কোন্দল বা এক্সিডেন্ট ক্লিয়ারলি প্রমাণিত না হলে। আমি ধরে নিব এইটা পলিটিকাল।”
এরপর তিনি লেখেন, “Tahsif Souri আদমজী কলেজে আমার বন্ধু ছিল এবং পরবর্তীতে আমরা ৭৯ বিএমএ equivalent coursemate হিসাবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে জয়েন্ট সার্ভিস কোর্স করি। ওর সাথে আমার জীবনের আদর্শ আকাশ ও পাতাল। কিন্তু আমি যখনই কোন তালিম টাইপ কথা বলতাম চুপ করে শুনত। যদিও I wish he could understand better, but we all lead our lives in our way, maybe that’s what got to him.”
তার দাবি, “৫ই আগস্টের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর, তার মানহানি করা হয় নানান বিষয়ে কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন পুলিশি কেস করতে পারে নাই। আমার জানা মতে যদিও বহুল হারে মানহানি করা হয়েছিল। তাই আমার বিশ্বাস সব কিছু সেই হাসিনার হেলিকপ্টার এর ভিডিও ফাঁস এর সাথে কানেক্টেড। কারণ ৫ই আগস্টের ঘটনার আগেও ফ্যালকন এই তার ১ সপ্তাহ আগে আমার সাথে দেখা হয়, সে সাধারণ ডিউটি করছিল।”
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]