
সাতক্ষীরা পৌরসভার সংকট দীর্ঘ, এই সব সমস্যাসমুহ সমাধান করতে এখানকার নারী ও পুরুষ সবাইকে একসাথে সম উদ্যোগী হতে হবে। সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী (সিইও) আসাদুজ্জামান নাগরিকদের পরামর্শমুলক বিশেষ কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন। একই সাথে তিনি পৌরসভার ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল সাইট আপডেট করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এই মাধ্যমগুলো দিয়ে নাগরিক সেবার পাশাপাশি সমস্যা চিহ্ণিতকরণ ও সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় জোরদার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, জলাশয় ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণ এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে সাতক্ষীরা পৌরসভায় কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরার রয়্যাল প্লাসে নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা সেবার প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কৌশল বিষয়ক বাস্তবায়ন পদক্ষেপ যাচাইকরণ কর্মশালায় এ তাগিদ দেওয়া হয়। জার্মান সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেডের সহযোগিতায় ‘লিভেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ সিটিজ ফর অল’ (LICA) প্রকল্প ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (SANEM) যৌথভাবে কর্মশালার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান সমন্বয় সাধন করেন SANEM প্রকল্পের বিশিষ্ট গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন জিআইজেডের উপদেষ্টা আবু মোজাফ্ফর আহমেদ।
আলোচনায় সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিয়াকত আলী বলেন, নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা শুধু একটি বিভাগের কাজ নয়। বর্জ্য, ড্রেনেজ, জলাশয়, সবুজ এলাকা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে হলে পৌরসভার ভেতরে কার্যকর আন্তঃবিভাগীয় কাঠামো প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য, ড্রেনেজ, জলাশয় ও সবুজ এলাকা ব্যবস্থাপনায় আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় এখন সময়ের দাবি। পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পৌরসভা, সরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলেই সাতক্ষীরাকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সিনিয়র সাংবাদিক ও ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহ্বায়ক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় শহরে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত প্রতিদিন বাড়ছে। তাই পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রস্তাবিত নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা টিমকে কার্যকর করতে মেয়রের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও নিয়মিত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ।
ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নাজমুন নাহার ঝুমুর বলেন, নগর উন্নয়ন হতে হবে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রান্তিক মানুষের জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। পরিবেশগত সিদ্ধান্তে নাগরিকদের মতামত নিশ্চিত করা জরুরি।
যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না বলেন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনার তথ্য জনগণের কাছে সহজে পৌঁছাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জোসনা দত্ত বলেন, “পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি, সবুজ ও উন্মুক্ত স্থান—এসব নাগরিক অধিকার। এসব সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ব্যবস্থাপনার অংশীদার করতে হবে।”
কর্মশালায় পরিচালনায় ছিলেন, সানেম প্রকল্পের ড. সুরাইয়া ফারজানা, কে এম ইমরুল হাসান, দেহান খান প্রমুখ।
আলোচনায় লুইস রানা গাইন, কৃষ্ণ ব্যানার্জি, অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব, হাবিবুর রহমান সোহাগসহ অন্যরা অংশ নেন। কর্মশালায় নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা টিম গঠন, উন্মুক্ত স্থান ও জলাশয়ের যৌথ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের বিভিন্ন বাস্তবায়ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]