
সাতক্ষীরা জেলায় সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপির শোচনীয় পরাজয়ের পর জেলা বিএনপির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, ভুল সিদ্ধান্ত, বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি এবং তৃণমূল কর্মীদের উপেক্ষা করার কারণেই এ ভরাডুবি হয়েছে।
দলীয় একাধিক নেতাকর্মীর দাবি, জেলা বিএনপির নেতৃত্বে থাকা রহমাতুল্লাহ পলাশ ও আবু জাহিদ ডাবলুসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা সুসময়ে আপসহীন অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। সার্চ কমিটির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এতে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা তৃণমূল কর্মীরা মনোবল হারান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্বাচনী সমন্বয় কমিটি ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বরং যাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে বিভক্তি তৈরি হয় এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দেয়।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মনে করেন, এর প্রভাব প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটের ফলাফলে পড়েছে এবং চারটি আসনেই ভরাডুবি হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে পোস্ট দিয়ে কেউ জেলা নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করছেন, আবার কেউ দলীয় ঐক্য রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছেন। অনেকেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ও গণভোটে সাতক্ষীরার সংসদীয় ৪টি আসনে বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচনে ব্যাপক ভাবে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করে বিভিন্ন প্রতিস্রতি দিয়ে এবং দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে। উভয় দলের বেশ চেষ্টা ছিল ৪ টি আসনেই তারা জিতবে, কিন্তু ভোটের মাঠে সে হিসাব নিকাশ ভন্ডুল হয়েছে। এখানে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীদের বেশ জনপ্রিয় ছিল যার কারণে ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়।
সাতক্ষীরার ৪টি আসনে ভোটার সংখা ছিল ১৮ লক্ষ্যর মত এবং এই জেলায় ২২লক্ষ মানুষের বসবাস। তবে বিএনপি প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে কিছু কিছু কারণে তার মধ্যে প্রকৃত বিএনপি কর্মীদের মূল্যায়ণ না করা এবং ফ্যাসিষ্টদের সামনে রাখা। শুধু তাই নয় সাতক্ষীরার বিএনপির মধ্যে গ্রুপিং ও অন্তকোন্দল কারণকে বিএনপি প্রার্থীদের পরাজিত হওয়ার কারণ।
বিএনপির নেতাকর্মী দাবি করেন, অতীতে রাজপথে সক্রিয় এবং কর্মীবান্ধব নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা হলে ফল ভিন্ন হতে পারত। তারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপিকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। আবার অনেকেই বলেন বিএনপির ভোট সাতক্ষীরায় বেশি না থাকার কারণ এবং সাতক্ষীরা হচ্ছে জামায়াতের ঘাটি, তার পরও বিএনপি ভালো ভোট পেয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক এইচ এম রহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন আমাদের কোনো দিক থেকে ঘাটতি ছিলো না এবং আমরা বিএনপির একাধিক গ্রুপ সমন্বয় করে এক সাথে ভোটের মাঠে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি কিন্তু জামায়াতের লোকজন ব্যাপক টাকা ব্যায় করার কারণ ও কৌশল গত কারণে হেরেছি।
সাতক্ষীরা ৪ টি আসনে ধানের শীষ প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয় আমরা কিছু জানিনা, যেহেতু দলের সিদ্ধান্ত তাই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছি। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু দৈনিক বাংলাকে বলেন সাতক্ষীরায় বিএনপির কোনো নেতা বা কর্মী ছিল না আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর ৭৮ টি ইউনিয়নে ওয়ার্ড ও ইউনিয়নসহ ৩টি পৌরসভার ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি গঠন করেছি ভোটের মাধ্যমে। এই জেলায় ভাঙাচোরা কমিটি ছিল সেটা আমরা শক্তিশালী কমিটির মাধ্যমে সকলস্তরের নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে রাতদিন পরিশ্রম করে বিএনপি দাড় করিয়েছি। আমাদের কোনো ত্রুটি নেই এবং বিএনপির পক্ষ থেকে কে এমপি প্রার্থী হবে সেটাও আমরা জানতাম না, আর জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে সুসংগঠিত ভাবে থেকে কাজ করেছে শুধু তাই নয় তারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করার কারণে মহিলা ভোটারদের দূর্বল করেছে এবং তাদের গভীর কৌশল এর কারণে আমরা হেরেছি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক ঐক্য ও তৃণমূলের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে না পারলে আগামী দিনে দলটির জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বাড়তে পারে।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]