
সাতক্ষীরায় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বর্তমান সরকারের সফলতা কামনা করে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টায় শহরের পাকাপুল মোড়ে অবস্থিত জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। এরপর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে জেলার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্থতা কামনা করা হয়।
সভায় বক্তারা মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁরা বলেন, সরকারিভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ (২০ হাজার টাকা) দেওয়া হলেও তা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। সরকারি হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধারা সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না এবং জরুরি মুহূর্তে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ মিলছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন,"স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও এর স্মৃতিগুলো। সে কারণেই একের পর এক মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ধ্বংস করা হয়েছে।"
দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার। স্বাধীনতা-বিরোধী পরাজিত শক্তি এই সরকারের বিরুদ্ধে নানা গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, বিগত আন্দোলনের সময় সাতক্ষীরা জেলা শহরের তিনটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অথচ এই নারকীয় ঘটনার পর এখনো কোনো মামলা হয়নি বা জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। বক্তারা অবিলম্বে এসব কমপ্লেক্স সংস্কার এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানান।
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারগুলো ৩০ লাখ টাকা (যার মধ্যে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র) ও মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতাসহ মোট প্রায় ৩৮ হাজার টাকা পাচ্ছে। অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার পাচ্ছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি একাত্তরের শহীদদের প্রতিও বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক স ম শহিদুল ইসলাম বলেন, গত ২ জুলাই সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম আশ্বাস দিয়েছেন যে, সাতক্ষীরায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবেন না। সরকারি হাসপাতালে ওষুধ না থাকলে তা কিনে দেওয়া হবে। তবে এই সুবিধা শুধু মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রী পাবেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিক আহমেদ মোল্যার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা ইউনিটের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মিজানুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুজ্জামান খোকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈনুদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট নূরুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুজ্জামান বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম জালালউদ্দিন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার প্রমুখ
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]