গাজী হাবিব, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রকাশ্যে দিবালোকে খোলপেটুয়া নদীর চর দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থাণীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনীর উত্তর ভামিয়া এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর চর দখলে নিয়ে এই স্থাপনা তৈরি করছেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে হুমকিতে ফেলে অবৈধভাবে এ কাজ করছেন। এতে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, রবিউল মেম্বার বেশ কিছুদিন ধরে নদীর পাড়ে মাটি ফেলে চর ভরাটের কাজ করেছেন। এরপর সেখানে তিনি ব্যক্তিগত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নির্মাণের কাজও শুরু করেছেন।
এলাকাবাসী আরো জানান, নদী দখলকারী প্রভাবশালী ওই ইউপি সদস্য জানে যে, ভরাটের কাজটি একবার সম্পূর্ণ হলে তা আর সহজে সরানো যাবে না। এজন্য তাড়াহুড়ো করে তিনি এ কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ইউপি সদস্য হয়ে প্রকাশ্যে এমনভাবে নদী দখলের কাজ চালালেও রহস্যজনক ভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ দখল অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে ভবিষ্যতে নদীর পাড়ে আরও দখলের ঘটনা ঘটবে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাতে নদীর পরিবেশ রক্ষা করা যায় এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দখল হওয়া ওই স্থান থেকে মাত্র ১০০ ফুট দূরত্বে প্রায় ৪০০ ফুট নদীর চর দেবে গেছে উল্লেখ করে স্থানীয়রা জানান, নদীর চর দখলের এই ঘটনাটি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পানি প্রবাহের গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভাঙনের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে জলবায়ুকর্মী শাহিন আলম বলেন, নদীর চর দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা কেবল অবৈধই নয়, এটি পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে অতি দ্রুত ওই অবৈধ স্থাপনাসহ উপকূলে অঞ্চলের সকল নদী ও খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে নদী ও খালের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে হবে।
দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, ওখানে আমার একটি ঘর ছিল। সেখানে মাছের রেনু পোনা ক্রয়-বিক্রি করা হতো। এছাড়াও যেহেতু আমি একজন জনপ্রতিনিধি এজন্য এলাকার মানুষের বসার জন্য একটা ঘর তৈরি করছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ -১-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী/শাখা কর্মকর্তা (শ্যামনগর পওর শাখা) মোঃ ফরিদুল ইসলাম দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে উল্লেখ করে জানান, এটি আমাদের অগোচরে হয়েছে। নদীর জায়গায় এভাবে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]