সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করেনায় আক্রান্ত হয়ে আব্দুর রহিম নামের আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে সাতক্ষীরায় এ পর্যন্ত করোনা পজেটিভ ৫১ জন রোগির মৃত্যু হলো।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় ৮১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫২ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ৬৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। যা এযাবত কালের একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের হার। সাতক্ষীরায় দিন দিন করোনা পরিস্থিতি ভয়ানক রুপ নিচ্ছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ কুদরত-ই-খোদা জানান, সাতক্ষীরা মেডিকেলের করোনা ইউনিটে ১৪৯ জন ভর্তি আছে। এর মধ্যে ৪১ জন করোনা আক্রান্ত ও বাকী ১০৮ জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে। তিনি আরো জানান, বর্তমানে সেখানে রুগীর চাপ বাড়ায় ৮৭ টি বেড থেকে ১৩৫ টি বেড করা হলেও তাতে সংকুলান না হওয়ায় আজ আরো ১৫টি বেড বাড়ানো হয়েছে। তার উপর জনবল সংকটে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফয়সাল জানান, সদর হাসপাতালে ৪২ জন করোনা ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ২৬ জন পজিটিভ ও বাকী ১৬ জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে, করোনার উর্দ্ধগতি নিয়ন্ত্রনে দুই সপ্তাহের লকডাউনের ৮ম দিন অতিবাহিত হয়েছে। লকডাউন চলাকালে জেলা ও উপজেলা সদরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বেশ তৎপর । মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে মানুষের অহেতুক চলাফেরা নিয়ন্ত্রন করতে দেখা গেছে। তবে গ্রামের মানুষের মধ্যে নেই কোন সচেতনতা। গ্রামাঞ্চলের মানুষ মাস্ক পরছে না, মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। ফলে করোনার উর্দ্ধগতি কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। দিন দিন করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ন অধ্যাপক আনিসুর রহিম বলেন, শুধু শহরের মনুষকে সচেতন করলে হবে না। গ্রামের মানুষকে বেশি বেশি সচেতন করাতে হবে। এলাকায় এলাকায় করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করার আহবান জানান এই নাগরিক নেতা।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা: হোসাইন সাফায়াত বলেন, ( শনিবার ) ৮১ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৫২ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ৬৪.১৯ ভাগ। তিনি বলেন, শহরের মানুষ কিছুটা লকডাউন মানলেও গ্রামের মানুষ তা মানছে না। ফলে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]