
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব সাতক্ষীরা মায়ের মন্দিরে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। তবে উৎসবের বিপুল সমাগমের জেরে শহরের প্রধান সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
বাদ্যযন্ত্র ও ঢাক-ঢোলের মহোৎসবে রথটান আজ বিকেল থেকে মায়ের মন্দির প্রাঙ্গণ ও এর আশেপাশের এলাকায় রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে জড়ো হতে থাকেন হাজার হাজার ভক্ত। দুপুরের পর থেকেই ঢাক, ঢোল, কাঁসর ও করতাল সহ হরেক রকমের বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনিতে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। বিশেষ পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষে মহাশোভাযাত্রার মাধ্যমে রথের দড়ি টানার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বাদ্যের তালে তালে ভক্তদের হরিধ্বনি এবং উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, পুণ্য অর্জনের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো ভক্ত রথের দড়ি টেনে জগন্নাথ দেবের কৃপা প্রার্থনা করেন।৫ থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট, অ্যাম্বুলেন্স আটকা থাকে।রথযাত্রার এই বিশাল সমাগম ও রথ টানার সময় মন্দির সংলগ্ন প্রধান সড়কটিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই এই যানজট প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই যানজটের কবলে পড়ে সাধারণ যাত্রীবাহী যানবাহন ছাড়াও বেশ কয়েকটি জরুরি সেবাদানকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি যানবাহন আটকা পড়ে থাকে। দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়তে হয়।স্থানীয়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় উৎসবের আমেজকে সবাই সাধুবাদ জানালেও যানজট ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পথচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।এক পক্ষের মতে: এটি বছরের একটি বড় ধর্মীয় উৎসব, তাই সাময়িক এই কষ্টকে তারা স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন।
অন্য পক্ষের দাবি: উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি যানবাহনগুলো যাতে সহজে পার হতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের আরও বেশি তৎপর ও পরিকল্পিত হওয়া প্রয়োজন ছিল।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]