
বিশ্ব বাঘ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সুন্দরবন সংলগ্ন প্রান্তিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো সচেতনতামূলক র্যালি এবং 'মানুষ-বাঘ সহাবস্থান সংলাপ'। আদিবাসী ও স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে নিয়ে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বাঘ ও বন সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
বুধবার (২৯ জুলাই) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালী মুন্ডা পাড়ায় দিনব্যাপী এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে বর্ণাঢ্য একটি র্যালি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুন্ডা পাড়ায় এসে শেষ হয়। র্যালিতে স্থানীয় মুন্ডা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষসহ বন ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরবর্তীতে আয়োজিত 'মানুষ-বাঘ সহাবস্থান সংলাপ'-এ সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় মানুষের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি বাঘ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে স্থানীয়দের ভূমিকা এবং করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সংলাপে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নয়, এটি উপকূলীয় এলাকার কোটি মানুষের প্রাকৃতিক ঢাল। বনের ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে বাঘের ভূমিকা অপরিহার্য। তবে সুন্দরবন রক্ষা করতে হলে স্থানীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী—বিশেষ করে যারা যুগ যুগ ধরে বনের ওপর নির্ভরশীল বা বনের সান্নিধ্যে বাস করছেন—তাদের বাদ দিয়ে সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল হতে পারে না। মানুষ ও বাঘের মধ্যে দ্বন্দ যুদ্ধ নয়, বরং সচেতনতা ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সহাবস্থানই পারে সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখতে।
সমাবেশ থেকে স্থানীয় জনসাধারণকে বাঘ শিকার রোধ, বন ধ্বংস না করা এবং লোকালয়ে বাঘ চলে আসলে তা পিটিয়ে না মেরে বন বিভাগকে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে মানুষ, বন ও বাঘের একটি সুরক্ষিত ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]