
স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাছখোলা পশ্চিম মাঝের পাড়ার বাসিন্দাদের ভাগ্যে জোটেনি একটি চলাচলের পথ। সামান্য বৃষ্টিতেই কোমর সমান পানি আর কাদা মাড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে অবহেলিত এই এলাকার সাধারণ মানুষকে। যাতায়াতের সুনির্দিষ্ট কোনো রাস্তা না থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় অর্ধশতাধিক পরিবার। এই মানবিক সংকট থেকে মুক্তি পেতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, লতিফ হাজীর মিলের অপর পাশের এই অবহেলিত এলাকায় নির্বাচনের সময় এলেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা পাকা করার বড় বড় আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতির কথা আর কেউ মনে রাখেন না। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে এলাকার চিত্র অত্যন্ত করুণ। কাদা আর জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী এবং বয়োবৃদ্ধরা। হঠাৎ কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো ন্যূনতম কোনো পথও অবশিষ্ট নেই।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জনস্বার্থে এলাকার প্রতিটি বাসিন্দা রাস্তার জন্য নিজেদের পৈতৃক জমি ছেড়ে দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের এই দুর্ভোগ লাঘবে ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান এবং স্থানীয় প্রতিনিধি শাহিনুর রহমান নিজ উদ্যোগে রাস্তাটিতে মাটি কাটার কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এক অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা ও স্থানীয় কিছু জটিলতার মুখে সেই উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সামান্য কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে জিম্মি হয়ে পড়েছে অর্ধশতাধিক পরিবারের মৌলিক অধিকার।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা এলাকার সবাই নিজের জমি ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেন অর্ধশত মানুষের যাতায়াত বন্ধ থাকবে? আমরা এই অবর্ণনীয় কষ্ট ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।" এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও শিশুদের নিরাপদ যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত রাস্তার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]