
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় দুদিনের ছুটি নির্ধারিত আছে। পূজার ছুটির পর একদিন অফিস খোলা থাকবে, এরপর আবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি।
ফলে পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে কর্মদিবসটিতেও ছুটি ঘোষণা করবে সরকার। খোলা থাকা দিনটিতে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবছর টানা পাঁচদিনের ছুটি পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে।
এরপর ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা। পরের দুদিন শুক্র ও শনিবার (২৩ ও ২৪ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশের ছুটি ঘোষণা করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। সেখানে এটি অনুমোদিত হলে ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
একই সঙ্গে তিনি আরও জানান, ২২ অক্টোবরের ছুটির পরিবর্তে পরবর্তী একটি ছুটির দিনে (শনিবার) অফিস করবেন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এভাবেই প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে মন্ত্রিসভা।
২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা হলে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচদিন ছুটি ভোগ করবেন।
এদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির সঙ্গে অনুদানের পরিমাণও বাড়িয়েছে সরকার। দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের চাহিদা ছিল চার কোটি টাকা, তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য চাওয়া দুই কোটি টাকার বিপরীতে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর একদিন অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
প্রতিবছর শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অনুদান দেওয়া হয়। এবার সেই বরাদ্দের পরিমাণ এক কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। দুর্গাপূজার জন্য ট্রাস্টের পক্ষ থেকে চার কোটি টাকা চাওয়া হলেও পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুই কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় এ খাতে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য চাহিদার চেয়ে এক কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ছুটির দিনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সাধারণত বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শাখা বা বিশেষ সেবা চালু থাকতে পারে। এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাও সাধারণত চালু থাকবে।
অন্যদিকে, হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। গণমাধ্যমসহ প্রয়োজনীয় কিছু প্রতিষ্ঠানেও কর্মীদের দায়িত্বে থাকতে হতে পারে।
দুর্গাপূজাকে ঘিরে টানা পাঁচ দিনের ছুটি এবং চাহিদার চেয়ে বেশি অনুদান দেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এক দিন ছুটি বাড়িয়েছেন, কিন্তু আমরা ছুটি পাচ্ছি পাঁচ দিন। এতে উৎসবটা পরিপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক হবে। আর প্রস্তাবের বেশি অনুদান দেওয়ায় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব সম্প্রদায়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। এটা খুবই ইতিবাচক।’
প্রকাশক : আরিফ মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক : কাজী আবু ইমরান, সম্পাদক : আবু রায়হান মিকাঈল
ফেসবুক পেইজঃ facebook.com/kalaroanewsofficial, ই-মেইল : [email protected]