টঙ্গীর মাজার বস্তিতে একসঙ্গে যান তাহসিফ-দীপ, ফিরে আসেন একজন: পিবিআই


বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনে তার ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার দিন রাতে তারা দুজন মোটরসাইকেলে করে রাজধানীর উত্তরা থেকে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান দীপ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের ইন্সপেক্টর সাজেদুর রহমান। দীপের দেওয়া তথ্য যাচাই করে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পিবিআই।
তিনি জানান, সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর তাহসিফকে খুঁজে না পেয়ে একাই মোটরসাইকেল নিয়ে বাসায় ফিরে যান দীপ। তবে টঙ্গীর ওই এলাকায় যাওয়ার পর কী ঘটেছিল, কেন তারা সেখানে গিয়েছিলেন এবং কীভাবে দুজন আলাদা হয়ে গেলেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্ত সংস্থা।
তিনি বলেন, ‘তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনো জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়নি। দীপ বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তারা দুজন উত্তরা থেকে মোটরসাইকেলে করে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় আসেন। এখানে এসে কিছু সময় অবস্থান করেন। একপর্যায়ে তাহসিফকে খুঁজে না পেয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন দীপ। পরে না পেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসায় ফিরে যান।’
পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, ‘দীপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে তিনি বাসায় পৌঁছান। পরদিন নদীর কাছ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। পরে তদন্তের অংশ হিসেবে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে তারা দুজনই এসেছিলেন। অন্য কেউ তাদের সঙ্গে ছিলেন না। উত্তরা থেকে ঘোরার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে তারা এখানে আসেন বলে দীপ জানিয়েছেন। তবে এখানে আসার পর কী ঘটেছিল, কোথায় গিয়েছিলেন কিংবা কী কারণে তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হলো, সেসব বিষয় এখনো তদন্তাধীন।’
দীপকে আটক করা হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাজেদুর রহমান বলেন, ‘তাকে আটক করা হয়নি। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রথম দিকে তিনি কিছুটা ভয় পেলেও পরে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তবে তার বক্তব্যের বিভিন্ন দিক যাচাই করা হচ্ছে।’
মোটরসাইকেল উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এর নম্বর প্লেট ও ইঞ্জিন নম্বর যাচাই করে মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।’
তাহসিফের মৃত্যু হত্যা, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি জানিয়ে পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্ত চলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় মেডিকেল তথ্য পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এর আগে আহমেদ শাহরিয়ায় রেজা দীপ তার বাসায় যান। সেখান থেকে দুজনকে আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে বের হতে দেখা যায়। পরিবারের দাবি, দীপের ডাকেই বের হয়েছিলেন তাহসিফ, এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
পরদিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তার হাতের ঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে স্বজনেরা পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

‘আমি আসলে জানতাম না, কোন হাতে ছুরি আর কোন হাতে কাটা চামচ নিতে হয়’
জাপান সফরে খাবার খাওয়ার নিয়ম এবং ছুরি-কাঁটা চামচ ব্যবহারের বিষয়ে নতুন অভিজ্ঞতাবিস্তারিত পড়ুন

দীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ নয় পিবিআই, ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপের দাবি মানছেন না তাহসিফের বাবা
ঢাকার তুরাগ নদের যে স্থান (রাজবাড়ী ঘাট) থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেবিস্তারিত পড়ুন

‘পুলিশের লোকের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় তাহসিফ, আমি পালিয়ে আসি’ : জিজ্ঞাসাবাদে দীপের দাবি
তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরিরবিস্তারিত পড়ুন


